সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পূর্বের পাঠ)
সুরা ফাতিহার শেষে আমিন বলা
দলিল নং- ৯৭। সহীহ বুখারী হাদিস নং ৭৮০
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ” إِذَا أَمَّنَ الإِمَامُ فَأَمِّنُوا فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ تَأْمِينُهُ تَأْمِينَ الْمَلاَئِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ”. وَقَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ” آمِينَ ”
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমাম যখন ‘আমীন’ বলেন, তখন তোমরাও ‘আমীন’ বলো। কেননা, যার ‘আমীন’ (বলা) ও মালাইকাহর ‘আমীন’ (বলা) এক হয়, তার পূর্বের সব গুনাহ মা‘ফ করে দেয়া হয়। ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন, রসূলূল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ‘আমীন’ বলতেন।
দলিল নং- ৯৮। আবু দাউদ হাদিস নং ৯৩২ (হাদিসের মান সহীহ)
عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَرَأَ (وَلَا الضَّالِّينَ) قَالَ ” آمِينَ ” . وَرَفَعَ بِهَا صَوْتَهُ
ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, (সালাত আদায়কালে সূরাহ ফাতিহার শেষে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ’’ওয়ালাদ্দোয়াল্লীন’’ পড়তেন তখন তিনি সশব্দে আমীন বলতেন।
মন্তব্যঃ মুহাদ্দিসগণের মতে, ইমাম যদি জোরে আমীন না বলেন, তবে মুক্তাদীরা কীভাবে বুঝবে যে ইমাম কখন আমীন বলছেন? সুতরাং, মুক্তাদীকে ইমামের আমীন বলার সাথে সাথে আমীন বলতে হলে ইমামের আমীন অবশ্যই জোরে হতে হবে। তাই যে সকল স্বলাতে জোরে কিরাত পড়া হয় সে সকল স্বলাতে জোরে আমিন বলা সুন্নাত আর যে সকল স্বলাতে আস্তে কিরাত পড়া হয় সে সকল স্বলাতে মুক্তাদি সুরা ফাতিহা পড়ার পর আস্তে আমিন বলা সুন্নাত।
সুরা ফাতিহার সাথে অন্য সুরা মিলানো
চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ স্বলাতে প্রথম দুই রাকাতে সূরা ফাতিহার পর অন্য সূরা বা আয়াত মিলানো হানাফী মাযহাবের মতে ওয়াজিব। অন্যান্য মাযহাবে সুন্নাত। তবে ফরজ স্বলাতে প্রথম দুই রাকাতে সুরা ফাতিহার সঙ্গে অন্য সুরা না মিলিয়ে যদি রুকুতে চলে যায় তাহলে কিছু আলেমের মতে সাহু সিজদা দিতে হবে না। তবে উচিত হবে সূরা ফাতিহা পড়ার পর অন্য একটি সূরা বা আয়াত মিলানো। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কখনো লম্বা তিলাওয়াত করতেন কখনো সংক্ষেপ করতেন। সাধ্যমত যা সহজ সেটি পড়া উচিত। আল্লাহ তাআলা বলেন,
দলিল নং- ৯৯। সূরা আল মুজাম্মেল আয়াত- ২০
فاقرَؤُوْا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآن
অর্থাৎ, কাজেই কুরআনের যতটুকু অংশ পাঠ করা তোমাদের জন্য সহজ, ততটুকু তোমরা পাঠ কর।
দলিল নং- ১০০। আবু দাউদ হাদিস নং-৮২০ (হাদিসের মান সহীহ)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ أُنَادِيَ أَنَّهُ لاَ صَلاَةَ إِلاَّ بِقِرَاءَةِ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَمَا زَادَ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নির্দেশ দিলেন যেন আমি ঘোষণা করে দিই: সূরা আল-ফাতিহা পাঠ ছাড়া সালাত হয় না। আর এর সঙ্গে কুরআনের অতিরিক্ত যা পাঠ করা হয় (তাও পাঠ করবে)।
রুকুতে যাওয়ার সময় ও রুকু থেকে উঠার সময়
এবং দুই রাকাত শেষে উঠার পর রফউল ইয়াদাইন করা
দলিল নং- ১০১। সহীহ বুখারী হাদিস নং-৭৩৮
أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ رضى الله عنهما افْتَتَحَ التَّكْبِيرَ فِي الصَّلاَةِ فَرَفَعَ يَدَيْهِ حِينَ يُكَبِّرُ حَتَّى يَجْعَلَهُمَا حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ وَإِذَا كَبَّرَ لِلرُّكُوعِ فَعَلَ مِثْلَهُ وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَعَلَ مِثْلَهُ وَقَالَ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ وَلاَ يَفْعَلُ ذَلِكَ حِينَ يَسْجُدُ وَلاَ حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ مِنْ السُّجُودِ
আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাকবীর দিয়ে স্বলাত শুরু করতে দেখেছি, তিনি যখন তাকবীর বলতেন তখন তাঁর উভয় হাত উঠাতেন এবং কাঁধ বরাবর করতেন। আর যখন রুকূ’র তাকবীর বলতেন তখনও এ রকম করতেন। আবার যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন, তখনও এ রকম করতেন এবং رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ বলতেন। কিন্তু সিজদা্য় যেতে এ রকম করতেন না। আর সিজদা্ হতে মাথা উঠাবার সময়ও এমন করতেন না।
দলিল নং- ১০২। আবু দাউদ হাদিস নং-৭৪৩ (হাদিসের মান সহীহ)
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন স্বলাতের দুই রাকাত আদায়ের পর দাঁড়াতেন, তখন তাকবীর বলে উভয় হাত উত্তোলন করতেন।
রুকুর দোয়া
দলিল নং- ১০৩। সহীহ মুসলিম হাদিস নং ৭৭২
عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ فَافْتَتَحَ الْبَقَرَةَ فَقُلْتُ يَرْكَعُ عِنْدَ الْمِائَةِ . ثُمَّ مَضَى فَقُلْتُ يُصَلِّي بِهَا فِي رَكْعَةٍ فَمَضَى فَقُلْتُ يَرْكَعُ بِهَا . ثُمَّ افْتَتَحَ النِّسَاءَ فَقَرَأَهَا ثُمَّ افْتَتَحَ آلَ عِمْرَانَ فَقَرَأَهَا يَقْرَأُ مُتَرَسِّلاً إِذَا مَرَّ بِآيَةٍ فِيهَا تَسْبِيحٌ سَبَّحَ وَإِذَا مَرَّ بِسُؤَالٍ سَأَلَ وَإِذَا مَرَّ بِتَعَوُّذٍ تَعَوَّذَ ثُمَّ رَكَعَ فَجَعَلَ يَقُولُ ” سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ ” . فَكَانَ رُكُوعُهُ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ ثُمَّ قَالَ ” سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ” . ثُمَّ قَامَ طَوِيلاً قَرِيبًا مِمَّا رَكَعَ ثُمَّ سَجَدَ فَقَالَ ” سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى ” . فَكَانَ سُجُودُهُ قَرِيبًا مِنْ قِيَامِهِ
হুযায়ফাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করলাম। তিনি সূরাহ আল বাকারাহ পড়তে শুরু করলে আমি ভাবলাম তিনি হয়ত একশ’ আয়াত পড়ে রুকূ করবেন। কিন্তু এরপরেও তিনি পড়ে চললেন। তখন আমি চিন্তা করলাম। তিনি এর (সূরাহ আল বাকরাহ) দ্বারা পুরো দু’ রাকাআত পড়ে সালাম ফিরাবেন। কিন্তু তিনি এরপরেও পড়তে থাকলে আমি ভাবলাম সূরাটি শেষ করে তিনি রুকূ করবেন। কিন্তু এরপর তিনি সূরাহ নিসা পড়তে শুরু করলেন এবং তা পাঠ করলেন, অতঃপর তিনি সূরাহ আ-লি ইমরান শুরু করলেন এবং তা পাঠ করলেন। তিনি থেমে থেমে ধীরে ধীরে পড়ছিলেন এবং তাসবীর আয়াত আসলে তাসবীহ পড়ছিলেন আর কিছু চাওয়ার আয়াত আসলে চাইলেন। যখন আশ্রয় প্রার্থনা করার কোন আয়াত পড়ছিলেন তখন আশ্রয় প্রার্থনা করছিলেন।
অতঃপর তিনি রুকূ’ করলেন। রুকূ’তে তিনি বলতে থাকলেন, “সুবহা-না রব্বিয়াল আযীম” (আমার মহান প্রভু পবিত্র, আমি তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি)। তার রুকু কিয়ামের মতই দীর্ঘ ছিল। এরপর “সামি’আল্ল-ই লিমান হামিদাহ” (আল্লাহ শুনে থাকেন যে তার প্রশংসা করে) বললেনঃ এরপর যতক্ষণ সময় রুকু করেছিলেন প্রায় ততক্ষণ সময় পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকলেন। এরপর সিজদা করলেন। সাজদাতে তিনি বললেন, “সুবহা-না রব্বিয়াল আ’লা-” (মহান সুউচ্চ সত্তা আমার প্রভু পবিত্র, আমি তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি)। তার এ সাজদায়ও প্রায় কিয়ামের সময়ের মতো দীর্ঘায়িত হলো।
দোয়াটি হলোঃ
سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيْمِ
অর্থঃ আমার মহান প্রভু পবিত্র, আমি তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি
দলিল নং- ১০৪। সহীহ বুখারী হাদিস নং ৭৯৪
قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي رُكُوعِهِ وَسُجُودِهِ “ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ”.
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ‘ ও সিজদা্য় এ দু‘আ পড়তেনঃ
দোয়াটি হলোঃ
–سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ‘
অর্থঃ ‘হে আমাদের রব আল্লাহ্! আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। হে আল্লাহ্! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন’’
দলিল নং- ১০৫। সহীহ মুসলিম হাদিস নং ৭৭১
দোয়াটি হলোঃ
اللَّهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ خَشَعَ لَكَ سَمْعِي وَبَصَرِي وَمُخِّي وَعَظْمِي وَعَصَبِي
অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার উদ্দেশে রুকু করেছি, তোমার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি, তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি এবং আমার শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, হাড়সমূহ, স্মৃতিশক্তি ও শিরা তোমার প্রতি বিনয়ী
দলিল নং- ১০৬। সহীহ মুসলিম হাদিস নং ৪৮৭
أَنَّ عَائِشَةَ، نَبَّأَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ فِي رُكُوعِهِ وَسُجُودِهِ “ سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلاَئِكَةِ وَالرُّوحِ ”
আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রুকূ’ ও সাজদায় এ দু’আ পড়তেনঃ “সমস্ত ফেরেশতা ও জিবরীল (আঃ)-এর প্রতিপালক অত্যন্ত পাক-পবিত্র।
দোয়াটি হলোঃ
“ سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلاَئِكَةِ وَالرُّوحِ
অর্থঃ সমস্ত ফেরেশতা ও জিবরীল (আঃ)-এর প্রতিপালক অত্যন্ত পাক-পবিত্র।
দলিল নং- ১০৭। আবু দাউদ হাদিস নং ৮৭৩ (হাদিসের মান সহীহ)
দোয়াটি হলোঃ
سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ
অর্থঃ পবিত্র ওই সত্তা, যিনি সর্বময় ক্ষমতা, সার্বভৌমত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্বের অধিকারী
রুকু হতে উঠার দোয়া
দলিল নং- ১০৮। সহীহ বুখারী হাদিস নং ৭৩২
قَالَ أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ الأَنْصَارِيُّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَكِبَ فَرَسًا فَجُحِشَ شِقُّهُ الْأَيْمَنُ قَالَ أَنَسٌفَصَلَّى لَنَا يَوْمَئِذٍ صَلاَةً مِنْ الصَّلَوَاتِ وَهُوَ قَاعِدٌ فَصَلَّيْنَا وَرَاءَهُ قُعُودًا ثُمَّ قَالَ لَمَّا سَلَّمَ إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَإِذَا صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا وَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ.
আনাস ইবনু মালিক আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, একবার আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়ায় চড়েন। ফলে তাঁর ডান পাঁজরে আঁচড় লাগে। আনাস (রাযি.) বলেন, এ সময় কোন এক স্বলাত আমাদের নিয়ে তিনি বসে আদায় করেন। আমরাও তাঁর পিছনে বসে স্বলাত আদায় করি। সালাম ফিরানোর পর তিনি বললেনঃ ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাঁকে অনুসরণ করার জন্যই। তাই তিনি যখন দাঁড়িয়ে স্বলাত আদায় করেন তখন তোমরাও দাঁড়িয়ে স্বলাত আদায় করবে। আর তিনি যখন রুকু‘ করেন তখন তোমরাও রুকূ‘ করবে। তিনি যখন সিজদা্ করেন তখন তোমরাও সিজদা্ করবে। তিনি যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলেন, তখন তোমরা رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ বলবে।
দলিল নং- ১০৯। সহীহ বুখারী হাদিস নং ৭৯৯
عَنْ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ الزُّرَقِيِّ، قَالَ كُنَّا يَوْمًا نُصَلِّي وَرَاءَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرَّكْعَةِ قَالَ ” سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ”. قَالَ رَجُلٌ وَرَاءَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ، حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ، فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ ” مَنِ الْمُتَكَلِّمُ ”. قَالَ أَنَا. قَالَ ” رَأَيْتُ بِضْعَةً وَثَلاَثِينَ مَلَكًا يَبْتَدِرُونَهَا، أَيُّهُمْ يَكْتُبُهَا أَوَّلُ
রিফা‘আহ ইবনু রাফি’ যুরাকী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে স্বলাত আদায় করলাম। তিনি যখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠিয়ে سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বললেন, তখন পিছন হতে এক সাহাবা رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ বললেন। স্বলাত শেষ করে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে এরূপ বলেছিল? সে সাহাবী বললেন, আমি। তখন তিনি বললেনঃ আমি দেখলাম ত্রিশ জনের অধিক মালাইকাহ এর সওয়াব কে পূর্বে লিখবেন তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছেন।
দোয়াটি হলোঃ
رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ
অর্থঃ “হে আমাদের প্রতিপালক! আর আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা; অঢেল, পবিত্র ও বরকত-রয়েছে-এমন প্রশংসা।”
দলিল নং- ১১০। সহীহ মুসলিম হাদিস নং ৪৭১
দোয়াটি হলোঃ
اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ أَهْلَ الثَّنَاءِ وَالْمَجْدِ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক প্রশংসা আপনারই জন্য যা আসমান ও জমিন পরিপূর্ণ এবং পরিপূর্ণতা ছাড়াও যতটুকু আপনি ইচ্ছা পোষণ করেন। হে প্রশংসা ও মর্যাদার অধিকারী। আপনি যা দান করবেন তা রোধ করার কেউ নেই। আর আপনি যা রোধ করবেন তা দান করারও কেউ নেই এবং কোনও সম্পদশালীকেই তার সম্পদ আপনার শাস্তি থেকে বাঁচাতে পারবে না।
দলিল নং- ১১১। সহীহ মুসলিম হাদিস নং ৪৭৬
عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْفَى، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا رَفَعَ ظَهْرَهُ مِنَ الرُّكُوعِ قَالَ “ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ ”
ইবনু আবূ আওফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু থেকে পিঠ উঠানোর সময় বলতেনঃ “সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ, আল্লাহুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদু মিলআস সামা-ওয়া-তি ওয়ামিল আল আরযি ওয়ামিলআ মা- শিতা মিন্ শাইয়িন বাদু।” অর্থাৎ “প্রশংসাকারীর প্রশংসা আল্লাহ শুনেন। হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক সকল প্রশংসা আপনারই জন্য- যা আসমান ও জমিন পরিপূর্ণ এবং পরিপূর্ণতা ছাড়াও যতটুকু আপনি ইচ্ছা পোষণ করেন।
দোয়াটি হলোঃ
“ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ
অর্থঃ “প্রশংসাকারীর প্রশংসা আল্লাহ শুনেন। হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক সকল প্রশংসা আপনারই জন্য- যা আসমান ও জমিন পরিপূর্ণ এবং পরিপূর্ণতা ছাড়াও যতটুকু আপনি ইচ্ছা পোষণ করেন।
রুকু থেকে উঠে বুকে কি হাত বাঁধতে হবে?
রুকূ হতে উঠার পর অনেকে হাত কিছুক্ষণ খাড়াভাবে ধরে রাখে। উক্ত আমলের পক্ষে কোন দলীল নেই। কেউ আবার পুনরায় বুকে হাত বাঁধে। শায়খ বিন বায এবং মুহাম্মাদ বিন ছালেহ আল-উছায়মীন (রহঃ) উক্ত মর্মে ফৎওয়া প্রদান করেছেন। তবে তারা শাব্দিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কারণ উক্ত আমলের পক্ষে শাব্দিক ব্যাখ্যা ছাড়া স্পষ্ট কোন দলীল নেই। উক্ত দাবীর মূল দলীলগুলো নিম্নরূপ :
দলিল নং- ১১২। সহীহ বুখারী হাদিস নং ৭৪০
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ كَانَ النَّاسُ يُؤْمَرُونَ أَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ الْيَدَ الْيُمْنَى عَلَى ذِرَاعِهِ الْيُسْرَى فِي الصَّلاَةِ
সাহল ইবনু সা‘দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকদের নির্দেশ দেয়া হত যে, সালাতে প্রত্যেক ডান হাত বাম হাতের উপর রাখবে।
দলিল নং- ১১৩। সুনানে নাসায়ী হাদিস নং ৮৮৭ (হাদিসের মান সহীহ)
عَلْقَمَةُ بْنُ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، قال: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَانَ قَائِمًا فِي الصَّلَاةِ قَبَضَ بِيَمِينِهِ عَلَى شِمَالِهِ
’আলকামাহ্ ইবনু ওয়ায়িল (রহ.) সূত্রে তার পিতা ওয়ায়িল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন সালাতে দাঁড়ানো থাকতেন তখন আমি তাঁকে ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরে রাখতে দেখেছি।
মৌলিক দলীল হিসাবে উক্ত হাদীছ গুলো পেশ করা হয়। যদিও এ ধরনের হাদীছ আরো আছে। ‘ছালাতের মধ্যে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখা’ অংশটুকু দ্বারা রুকূর আগে এবং পরে দাঁড়ানো অবস্থায় হাত বাঁধার জন্য ব্যাপক ভিত্তিক অর্থ নেয়া হয়। অথচ এর উদ্দেশ্য যে তাকবীরে তাহরীমা বলার পর হাত বাঁধা তা স্পষ্ট।
(ক) ইমাম বুখারী (রহঃ) সহ অন্যান্য মুহাদ্দিছগণ ছালাতের ধারাবাহিক বর্ণনায় এভাবেই উল্লেখ করেছেন। এই হাদীছগুলো দ্বারা রুকূর পরের অবস্থা বুঝানোর জন্য কেউ পেশ করেননি। তাছাড়া রুকূর আগে এবং পরে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখা এটাও কেউ বলেননি। বরং ছালাতের শুরুতে ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে বুকের উপর বাঁধার কথা উল্লেখ করেছেন।
(খ) দাঁড়ানো অবস্থায় যদি ডান হাত বাম হাতের উপর রাখা শর্ত হয় তবে রুকূর পর কুনূতে নাযেলার সময় কী করণীয়? কারণ তখন তো দুই হাত মুখ বরাবর তুলে দু‘আ করতে হয়। অনুরূপ রুকূর আগেও কুনূতে বিতর পড়ার সময় হাত তুলার প্রমাণ আছে। (আলবানী, ইরওয়াউল গালীল ২/৭১ পৃঃ, ২/১৮১ পৃঃ, সনদ ছহীহ)
তাই হাত বেঁধেই রাখতে হবে এমনটি নয়। নির্দিষ্ট হাদীছ আসলে সেভাবেই আমল করতে হবে। মূলতঃ উক্ত হাদীছগুলো রুকূর আগে বুকে হাত বাঁধার হাদীছ। রুকূর পর হাত ছেড়ে দিতে হবে। কারণ ছালাতের প্রত্যেক আহকামের ব্যাপারে একাধিক দলীল মওজুদ থাকলেও রুকূর পর পুনরায় হাত বাঁধার ব্যাপারে স্পষ্ট কোন দলীল নেই। যদিও রুকূর পর রাসূল (ছাঃ) কান বা কাঁধ বরাবর হাত উঠাতেন মর্মে শত শত স্পষ্ট হাদীছ রয়েছে। কিন্তু পুনরায় হাত বাঁধার বিষয়টি কোন হাদীছে বর্ণিত হয়নি। বরং হাত ছেড়ে দেওয়ার পক্ষেই হাদীছের দলীল শক্তিশালী। আবু হুমায়েদ সায়েদী (রাঃ) ১০ জন ছাহাবীর সামনে রাসূল (ছাঃ)-এর ছালাতের বাস্তব নমুনা যে হাদীছে প্রদর্শন করেছিলেন এবং সত্যায়ন প্রাপ্ত হয়েছিলেন, সে হাদীছে বলা হয়েছে
দলিল নং- ১১৪। মিশকাতুল মাসাবিহ হাদিস নং ৭৯২ (হাদিসের মান সহীহ)
وَعَن أبي حميد السَّاعِدِيّ قَالَ: فِي نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنَا أَحْفَظُكُمْ لِصَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَيْتُهُ إِذَا كَبَّرَ جَعَلَ يَدَيْهِ حِذَاءَ مَنْكِبَيْهِ وَإِذَا رَكَعَ أَمْكَنَ يَدَيْهِ مِنْ رُكْبَتَيْهِ ثُمَّ هَصَرَ ظَهْرَهُ فَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ اسْتَوَى حَتَّى يَعُودَ كُلُّ فَقَارٍ مَكَانَهُ فَإِذَا سَجَدَ وَضَعَ يَدَيْهِ غَيْرَ مُفْتَرِشٍ وَلَا قَابِضِهِمَا وَاسْتَقْبَلَ بِأَطْرَافِ أَصَابِعِ رِجْلَيْهِ الْقِبْلَةَ فَإِذَا جَلَسَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ جَلَسَ على رجله الْيُسْرَى وَنصب الْيُمْنَى وَإِذا جَلَسَ فِي الرَّكْعَةِ الْآخِرَةِ قَدَّمَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَنَصَبَ الْأُخْرَى وَقَعَدَ عَلَى مَقْعَدَتِهِ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
আবূ হুমায়দ আস্ সা’ইদী (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একদল সাহাবীর মধ্যে বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আপনাদের চেয়ে বেশি আমি মনে রেখেছি। আমি তাঁকে দেখেছি, তিনি তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় দু্’ হাত দু’ কাঁধ বরাবর উঠাতেন। রুকূ’ করার সময় পিঠ নুইয়ে রেখে দু’ হাত দিয়ে দু’ হাঁটু শক্ত করে ধরতেন। আর মাথা উঠিয়ে ঠিক সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। এতে প্রতিটি গ্রন্থি স্ব-স্ব স্থানে চলে যেত। তারপর তিনি সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করতেন। এ সময় হাত দু’টি মাটির সাথে বিছিয়েও রাখতেন না, আবার পাঁজরের সাথে মিশাতেনও না এবং দু’ পায়ের আঙ্গুলগুলোর মাথা ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী করে রাখতেন। এরপর দু’ রাক্’আতের পরে যখন বসতেন বাম পায়ের উপরে বসতেন ডান পা খাড়া রাখতেন। সর্বশেষ রাক্’আতে বাম পা বাড়িয়ে দিয়ে আর অপর পা খাড়া রেখে নিতম্বের উপর (ভর করে) বসতেন।
মন্তব্যঃ উক্ত হাদীছটিতে নির্দিষ্ট করে রুকূর পরের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। শরীরের হাড়ের জোড় সমূহ স্ব স্ব স্থানে ফিরে গেলে রুকূর পর দাঁড়ানো অবস্থায় হাতকে তার স্বাভাবিক অবস্থায় ছেড়ে দিতে হবে। অন্যথা হাতের অস্থির জোড় স্ব স্ব স্থানে ফিরে যাবে না। আর পুনরায় হাত বাঁধাটা হাতের স্বাভাবিক অবস্থা নয়।

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-০৯)
স্বলাতের সময় সম্পর্কে সঠিক ধারনা (পর্ব-০৮)
তায়াম্মুম সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন (পর্ব-০৭)
গোসল সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন (পর্ব-০৬)
ত্বহারাত বা পবিত্রতা (অযু)-দ্বিতীয় অধ্যায় (পর্ব-০৫)
ইমান ভঙ্গের কারনসমূহ (পর্ব-০৪)
জ্ঞান অর্জন ও ঈমান – প্রথম অধ্যায় (পর্ব-০৩)
ISLAMIC DAWAH FOUNDATION The truth is revealed to Islam