জুম’আর স্বলাত
দলিল নং- ১৫৩। সুরা আল জুম’আ আয়াত নং- ৯
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا نُوۡدِیَ لِلصَّلٰوۃِ مِنۡ یَّوۡمِ الۡجُمُعَۃِ فَاسۡعَوۡا اِلٰی ذِكۡرِ اللّٰهِ وَ ذَرُوا الۡبَیۡعَ ؕ ذٰلِكُمۡ خَیۡرٌ لَّكُمۡ اِنۡ كُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ
হে ঈমানদারগণ! জুম’আর দিনে যখন স্বলাতের জন্য ডাকা হয় তখন তোমরা আল্লাহ্র স্মরণে ধাবিত হও এবং কেনা-বেচা ত্যাগ কর, এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে।
জুমু‘আর দিন গোসল করা ও সুগন্ধির তাৎপর্য
দলিল নং- ১৫৪। সহীহ বুখারী হাদিস নং- ৮৮০
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّأَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ غُسْلُ يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ وَأَنْ يَسْتَنَّ وَأَنْ يَمَسَّ طِيبًا إِنْ وَجَدَ
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জুমু‘আর দিনে প্রত্যেক সাবালকের জন্য গোসল করা ওয়াজিব আর মিস্ওয়াক করবে এবং সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে।
মসজিদে আগে যাওয়ার ফজিলত
দলিল নং- ১৫৫। সহীহ বুখারী হাদিস নং-৮৮১
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَأَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ ثُمَّ رَاحَ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَدَنَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّانِيَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَقَرَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّالِثَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ كَبْشًا أَقْرَنَ وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الرَّابِعَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ دَجَاجَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الْخَامِسَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَيْضَةً فَإِذَا خَرَجَ الْإِمَامُ حَضَرَتْ الْمَلَائِكَةُ يَسْتَمِعُونَ الذِّكْرَ
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন জানাবাত গোসলের ন্যায় গোসল করে এবং স্বলাতের জন্য আগমন করে সে যেন একটি উট কুরবানী করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমন করে সে যেন একটি গাভী কুরবানী করল। তৃতীয় পর্যায়ে যে আগমন করে সে যেন একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা কুরবানী করল। চতুর্থ পর্যায়ে আগমন করল সে যেন একটি মুরগী কুরবানী করল। পঞ্চম পর্যায়ে যে আগমন করল সে যেন একটি ডিম কুরবানী করল। পরে ইমাম যখন খুৎবা দেয়ার জন্য বের হন তখন মালাইকাহ যিকর শ্রবণের জন্য উপস্থিত হয়ে থাকে।
জুম’আর দিনের আযান কয়টি
দলিল নং- ১৫৬। সহীহ বুখারী হাদিস নং-৯১২
عَنْ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ كَانَ النِّدَاءُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَوَّلُهُ إِذَا جَلَسَ الْإِمَامُ عَلَى الْمِنْبَرِ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا فَلَمَّا كَانَ عُثْمَانُوَكَثُرَ النَّاسُ زَادَ النِّدَاءَ الثَّالِثَ عَلَى الزَّوْرَاءِ قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ الزَّوْرَاءُ مَوْضِعٌ بِالسُّوقِ بِالْمَدِينَةِ
সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর (রাযি.) এবং উমর (রাযি.)-এর সময় জুম’আর দিন ইমাম যখন মিম্বরের উপর বসতেন, তখন প্রথম আযান দেয়া হত। পরে যখন ‘উসমান (রাযি.) খলীফাহ হলেন এবং লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তখন তিনি ‘যাওরাহ’ হতে ৩য় আযান বৃদ্ধি করেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (ইমাম বুখারী) (রহ.) বলেন, ‘যাওরাহ’ হল মাদ্বীনার অদূরে বাজারের একটি স্থান।
মন্তব্যঃ বর্তমানে যদি এমন পরিস্থিতি হয় যে, লোক সংখ্যা বৃদ্ধির কারনে বাজারে আযান দেওয়া প্রয়োজন, তাহলে অবশ্যই তা পালন করা যেতে পারে। তবে লক্ষ্যনীয় উসমান (রাঃ) যে মসজিদের জন্য বাজারে আযান চালু করেছেন তা ব্যাতীত মক্কা বা অন্য কোথায় সেই সময়ে উক্ত আযান চালু করে নাই। এমনকি আলী (রাঃ) এর খিলাফাত এর শেষ পর্যন্ত এই আযান চালু হয়নি। সম্মানিত পাঠক আপনি সিদ্ধান্ত নিন বর্তমানে মাইক থাকার যুগে বাজারে আযান দেওয়ার প্রয়োজন আছে কিনা? তাহলে মসজিদের মধ্যে ৩য় আযান দেওয়ার প্রয়োজন কতটুকু।
দাঁড়িয়ে খুৎবাহ প্রদান করা
দলিল নং- ১৫৭। সহীহ বুখারী হাদিস নং-৯২০
عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ قَائِمًا ثُمَّ يَقْعُدُ ثُمَّ يَقُومُ، كَمَا تَفْعَلُونَ الآنَ
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে খুৎবাহ দিতেন। অতঃপর বসতেন এবং পুনরায় দাঁড়াতেন। যেমন তোমরা এখন করে থাক।
খুৎবাহ কোন ভাষায় দিবেন
“নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এমন কোন হাদিস সাব্যস্ত হয়নি যা প্রমাণ করে যে, জুমার খুৎবা আরবীতে হওয়া শর্ত। বরঞ্চ তিনি জুমার খুৎবা ও অন্যান্য খুৎবা আরবী ভাষায় দিতেন যেহেতু তাঁর নিজের ভাষা আরবী এবং তাঁর সমাজের লোকদের ভাষাও আরবী ছিল। তাই তারা যে ভাষা বুঝে তিনি সে ভাষায় তাদের মাঝে খুৎবা দিতেন, দিকনির্দেশনা প্রদান করতেন ও তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিতেন।
দলিল নং- ১৫৮। সুরা ইব্রাহীম আয়াত নং- ০৪
وَ مَاۤ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ رَّسُوۡلٍ اِلَّا بِلِسَانِ قَوۡمِهٖ لِیُبَیِّنَ لَهُمۡ ؕ فَیُضِلُّ اللّٰهُ مَنۡ یَّشَآءُ وَ یَهۡدِیۡ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَ هُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ
আর আমরা প্রত্যেক রাসূলকে তাঁর স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য, অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছে বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছে সৎপথে পরিচালিত করেন এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়
মন্তব্যঃ মাতৃভাষায় খুৎবাহ দেওয়া সম্পর্কে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) জায়েজ বলেছেন। আমাদের দেশে খুৎবাহ এর পূর্বে মাতৃভাষায় কিছু বক্তব্য দেওয়া হয় যা সুন্নত বিরোধী। এতে খুৎবাহ দুটির পরিবর্তে তিনটি হয়ে যায়। তাই মাতৃভাষায় খুৎবাহ দেওয়াই অধিকাংশ ইমামদের মতে জায়েজ।
ধনুক বা লাঠির উপর ভর করে খুৎবা দেয়া
দলিল নং- ১৫৯। আবু দাউদ হাদিস নং- ১০৯৬ (হাদিসের মান হাসান)
شُعَيْبُ بْنُ رُزَيْقٍ الطَّائِفِيُّ، قَالَ جَلَسْتُ إِلَى رَجُلٍ لَهُ صُحْبَةٌ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَالُ لَهُ الْحَكَمُ بْنُ حَزْنٍ الْكُلَفِيُّ فَأَنْشَأَ يُحَدِّثُنَا قَالَ وَفَدْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَابِعَ سَبْعَةٍ أَوْ تَاسِعَ تِسْعَةٍ فَدَخَلْنَا عَلَيْهِ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ زُرْنَاكَ فَادْعُ اللَّهَ لَنَا بِخَيْرٍ فَأَمَرَ بِنَا أَوْ أَمَرَ لَنَا بِشَىْءٍ مِنَ التَّمْرِ وَالشَّأْنُ إِذْ ذَاكَ دُونٌ فَأَقَمْنَا بِهَا أَيَّامًا شَهِدْنَا فِيهَا الْجُمُعَةَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَامَ مُتَوَكِّئًا عَلَى عَصًا أَوْ قَوْسٍ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ كَلِمَاتٍ خَفِيفَاتٍ طَيِّبَاتٍ مُبَارَكَاتٍ ثُمَّ قَالَ “ أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ لَنْ تُطِيقُوا أَوْ لَنْ تَفْعَلُوا كُلَّ مَا أُمِرْتُمْ بِهِ وَلَكِنْ سَدِّدُوا وَأَبْشِرُوا
শুয়াইব ইবনে রুযায়ক আত্-তাবিকী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক সাহাবীর নিকট উপবেশন করি, যার নাম ছিল আল-হাকাম ইবনে হাযান আল-কালফী (রাঃ)। তিনি আমাদের নিকট হাদীছ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, একদা আমি সাত জনের সপ্তম বা নয় জনের নবম ব্যক্তি হিসেবে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে প্রতিনিধি হিসাবে আগমন করি। ঐ সময় আমরা তাঁকে বলি, ইয়া রসূলাল্লাহ! আমরা আপনার সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে এসেছি। অতএব আপনি আমাদের কল্যাণ এবং মঙ্গলের জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করুন। তখন তিনি খোরমা দ্বারা আমাদের আপ্যায়ন করার নির্দেশ দেন। তখন মুসলিমগণ কষ্টের মধ্যে ছিল। আমরা তার সাথে অবস্থানকালে একটি জুম’আর দিনও প্রত্যক্ষ করি। ঐ সময় (জুম’আর খুৎবা দেয়ার সময়) তিনি লাঠি অথবা ধনুকের উপর ভর করে দাঁড়িয়ে খুৎবার প্রারম্ভে আল্লাহর প্রশংসা এবং প্রশস্তি জ্ঞাপন করে কয়েকটি হালকা, পবিত্র ও উত্তম বাক্য আস্তে আস্তে বলেন। অতঃপর তিনি বলেন, হে জনগণ! প্রতিটি নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা তোমাদের পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়, তবে তোমরা সঠিকভাবে আমল করার চেষ্টা কর এবং সুসংবাদ প্রদান কর।
ইমাম খুৎবাহ দেয়ার সময় কাউকে আসতে দেখলে তাকে দু’ রাক‘আত স্বলাত আদায়ের নির্দেশ দেয়া।
দলিল নং- ১৬০। সহীহ বুখারী হাদিস নং-৯৩০
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ النَّاسَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَالَ ” أَصَلَّيْتَ يَا فُلاَنُ ”. قَالَ لاَ. قَالَ ” قُمْ فَارْكَعْ
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (কোন এক) জুমু’আর দিন নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের সামনে খুৎবাহ দিচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি আসলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে অমুক! তুমি কি স্বলাত আদায় করেছ? সে বলল, না; তিনি বললেন, উঠ, স্বলাত আদায় করে নাও।
জুম’আর দিনে খুৎবাহ্ শ্রবণ করা এবং চুপ থাকা
দলিল নং- ১৬১। সহীহ মুসলিম হাদিস নং-৮৫৭
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم “ مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ أَتَى الْجُمُعَةَ فَاسْتَمَعَ وَأَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ وَزِيَادَةُ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ
আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি গোসল করে জুম’আর স্বলাতে আসল, অতঃপর সাধ্যমত (সুন্নাত) স্বলাত আদায় করল, অতঃপর ইমামের খুৎবাহ শেষ হওয়া পর্যন্ত নীরব থাকল, অতঃপর ইমামের সাথে (জুম’আর) স্বলাত আদায় করল, এতে তার দু’ জুম’আর মধ্যকার দিনসমূহের এবং আরো তিন দিনের পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়।
জুম’আর ২য় খুতবাহ্ নির্দিষ্ট করে দোয়া না করা
ইমাম আলবানী (র.) কে প্রশ্ন করা হয় জুম’আর ২য় খুতবা কি দোয়ার জন্য নির্দিষ্ট করা যাবে? তিনি উত্তরে বলেন জুম’আর ১ম ও ২য় খুতবায় কোন পার্থক্য নেই। যারা জুম’আর ২য় খুতবা দোয়ার জন্য নির্দিষ্ট করে নেন তারা বিদআত করলেন। দেখুন ফাতাওয়ায়ে আলবানীর ২১৩ নং প্রশ্ন পৃষ্ঠা নং- ২১০
জুম’আর সালাতের পর সুন্নাত স্বলাত সম্পর্কে
দলিল নং- ১৬২। সহীহ মুসলিম হাদিস নং-৮৮১
عَنْ أَبِي، هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم “ إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمُ الْجُمُعَةَ فَلْيُصَلِّ بَعْدَهَا أَرْبَعًا
আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন জুম’আর স্বলাত আদায় করে, তখন সে যেন তার পরে চার রাকাআত (সুন্নাত) স্বলাত আদায় করে।
দলিল নং- ১৬৩। সহীহ মুসলিম হাদিস নং-৮৮২
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ وَصَفَ تَطَوُّعَ صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَكَانَ لاَ يُصَلِّي بَعْدَ الْجُمُعَةِ حَتَّى يَنْصَرِفَ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ فِي بَيْتِهِ
’আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নফল স্বলাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, তিনি জুম’আর স্বলাতের পর ফিরে না আসা পর্যন্ত স্বলাত আদায় করতেন না, অতঃপর নিজ বাড়িতে দু’ রাকাআত স্বলাত আদায় করতেন।
মন্তব্যঃ অধিকাংশ ইমামের মতে জুম’আর স্বলাতের পরে মসজিদে সুন্নাত আদায় করলে চার রাকাত পরতে হয় এবং ফিরে এসে বাসায় আদায় করলে দুই রাকাত সুন্নাত স্বলাত আদায় করা যথেষ্ট।
স্বলাতের জামাআতে নারীদের শরীক হওয়া কি জায়েয
দলিল নং- ১৬৪। সহীহ বুখারী হাদিস নং-৯০০
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَتِ امْرَأَةٌ لِعُمَرَ تَشْهَدُ صَلاَةَ الصُّبْحِ وَالْعِشَاءِ فِي الْجَمَاعَةِ فِي الْمَسْجِدِ، فَقِيلَ لَهَا لِمَ تَخْرُجِينَ وَقَدْ تَعْلَمِينَ أَنَّ عُمَرَ يَكْرَهُ ذَلِكَ وَيَغَارُ قَالَتْ وَمَا يَمْنَعُهُ أَنْ يَنْهَانِي قَالَ يَمْنَعُهُ قَوْلُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم “ لاَ تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللَّهِ مَسَاجِدَ اللَّهِ
ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাযি.)-এর স্ত্রী (আতিকাহ্ বিনত যায়দ) ফজর ও ‘ইশার সালাতের জামা‘আতে মসজিদে হাযির হতেন। তাঁকে বলা হল, আপনি কেন (সালাতের জন্য) বের হন? অথচ আপনি জানেন যে, ‘উমার (রাযি.) তা অপছন্দ করেন এবং মর্যাদা হানিকর মনে করেন। তিনি জবাব দিলেন, তা হলে কিসে বাধা দিচ্ছে যে, ‘উমার (রাযি.) স্বয়ং আমাকে নিষেধ করছেন না? বলা হল, তাঁকে বাধা দেয় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বাণীঃ আল্লাহর দাসীদের আল্লাহর মসজিদে যেতে বারণ করো না।

স্বলাত ভঙ্গের কারনসমুহ (পর্ব-১৪)
সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-১২)
সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-১১)
সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-১০)
সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-০৯)
স্বলাতের সময় সম্পর্কে সঠিক ধারনা (পর্ব-০৮)
তায়াম্মুম সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন (পর্ব-০৭)
গোসল সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন (পর্ব-০৬)
ত্বহারাত বা পবিত্রতা (অযু)-দ্বিতীয় অধ্যায় (পর্ব-০৫)
ইমান ভঙ্গের কারনসমূহ (পর্ব-০৪)
জ্ঞান অর্জন ও ঈমান – প্রথম অধ্যায় (পর্ব-০৩)
ISLAMIC DAWAH FOUNDATION The truth is revealed to Islam