Sunday , August 30 2026

জ্ঞান অর্জন ও ঈমান – প্রথম অধ্যায় (পর্ব-০৩)

জ্ঞান অর্জন ও ঈমান

জ্ঞান অর্জন করার ফযিলত

দলিল নং- ০১ সুরা আয যুমুর আয়াত-০৯

قُلۡ هَلۡ یَسۡتَوِی الَّذِیۡنَ یَعۡلَمُوۡنَ وَ الَّذِیۡنَ لَا یَعۡلَمُوۡنَ

বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা কি সমান?

কুরআনে নাযিলের দিক দিয়ে ১ম যে আয়াতটি নাযিল হয়েছে সেটি হলো জ্ঞান অর্জন করার নির্দেশনামূলক।

দলিল নং- ০২ সুরা আল আলাক আয়াত-০১

اِقۡرَاۡ بِاسۡمِ رَبِّكَ الَّذِیۡ خَلَقَ ۚ

পড়ুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

দলিল নং- ০৩ সহীহ মুসলিম হাদিস নং-২৬৯৯

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ مَنْ نَفَّسَ عَنْ مُؤْمِنٍ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا نَفَّسَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَمَنْ يَسَّرَ عَلَى مُعْسِرٍ يَسَّرَ اللَّهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَاللَّهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ وَمَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ وَمَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ فِي بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ اللَّهِ يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ وَيَتَدَارَسُونَهُ بَيْنَهُمْ إِلاَّ نَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ وَحَفَّتْهُمُ الْمَلاَئِكَةُ وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ وَمَنْ بَطَّأَ بِهِ عَمَلُهُ لَمْ يُسْرِعْ بِهِ نَسَبُهُ ‏”

আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক কোন ঈমানদারের দুনিয়া থেকে কোন মুসীবাত দূর করে দিবে, আল্লাহ তা’আলা বিচার দিবসে তার থেকে মুসীবাত সরিয়ে দিবেন। যে লোক কোন দুঃস্থ লোকের অভাব দূর করবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দুরবস্থা দূর করবেন। যে লোক কোন মুসলিমের দোষ-ত্রুটি লুকিয়ে রাখবে আল্লাহ তা’আলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ-ত্রুটি লুকিয়ে রাখবেন। বান্দা যতক্ষণ তার ভাই এর সহযোগিতায় আত্মনিয়োগ করে আল্লাহ ততক্ষণ তার সহযোগিতা করতে থাকেন। যে লোক জ্ঞানার্জনের জন্য রাস্তায় বের হয়, আল্লাহ এর বিনিময়ে তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। যখন কোন সম্প্রদায় আল্লাহর গৃহসমূহের কোন একটি গৃহে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে এবং একে অপরের সাথে মিলে (কুরআন) অধ্যয়নে লিপ্ত থাকে তখন তাদের উপর শান্তিধারা অবতীর্ণ হয়। রহমত তাদেরকে আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং ফেরেশতাগণ তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখেন। আর আল্লাহ তা’আলা তার নিকটবর্তীদের (ফেরেশতাগণের) মধ্যে তাদের কথা আলোচনা করেন। আর যে লোককে আমলে পিছনে সরিয়ে দিবে তার বংশ (মর্যাদা) তাকে অগ্রসর করে দিবে না

দলিল নং- ০৪ সহীহ বুখারী হাদিস নং-৫০২৭

عَنْ عُثْمَانَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ

উসমান (রাঃ) সূত্রে নাবী সল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম যে কুরআন শিখে এবং অন্যকে শিখায়।

জ্ঞান অর্জন ফরয নাকি নফল

হে দীনি ভাই! অবশ্যই আপনাকে দীনের ব্যাপারে শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনের দ্বারা ন্যায় জানতে হবে এবং অবশ্যই আপনাকে এর দ্বারা অন্যায়কে জানতে হবে। তারপর আপনাকে ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধের ওয়াজিব কাজটি করতে হবে। কারণ দীনের ব্যাপারে শিক্ষা ও জ্ঞানার্জন করা এটি সৌভাগ্যের প্রতীক ও এ নিদর্শন যে আল্লাহ বান্দার কল্যাণ চান।

দলিল নং- ০৫ সহীহ বুখারী হাদিস নং-৭১

حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ، خَطِيبًا يَقُولُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ “‏ مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ، وَإِنَّمَا أَنَا قَاسِمٌ وَاللَّهُ يُعْطِي، وَلَنْ تَزَالَ هَذِهِ الأُمَّةُ قَائِمَةً عَلَى أَمْرِ اللَّهِ لاَ يَضُرُّهُمْ مَنْ خَالَفَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ

হুমায়দ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মু‘আবিয়াহ (রাযি.)-কে খুৎবায় বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ্ যার মঙ্গল চান, তাকে দ্বীনের ‘ইল্ম দান করেন। আমি তো বিতরণকারী মাত্র, আল্লাহ্ই (জ্ঞান) দাতা। সর্বদাই এ উম্মাত কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর হুকুমের উপর কায়িম থাকবে, বিরোধিতাকারীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

আপনি যখন কোনো ব্যক্তিকে ইলম অনুসন্ধানের বৈঠক অনুসরণ করতে দেখবেন এবং ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে দেখবেন এবং তা শিখতে ও অর্জন করতে দেখবেন তখন মনে করে নিবেন যে আল্লাহ তার কল্যাণ চেয়েছেন এটি তারই নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং সে যেন এটিকে অপরিহার্য মনে করে এবং এর জন্য চেষ্টা করে, কোনো ধরনের ক্লান্তি ও দুর্বলতা প্রকাশ না করে।

জ্ঞান অর্জন করা যতটুকু ফরয

যে জ্ঞান ছাড়া একজন মুসলিম তার দৈনন্দিন ইবাদত ও জীবন ঠিকভাবে পালন করতে পারে না, সেই জ্ঞান অর্জন করা ফরয। যেমন:

১. ঈমানের মৌলিক বিষয় (আকীদা)

আল্লাহর একত্ব (তাওহীদ), শিরক কী ও কেন হারাম, ফেরেশতা, কিতাব, রাসূল, আখিরাত, তাকদীরের প্রতি বিশ্বাস, কুফর ও ঈমান ভঙ্গের বিষয়গুলো।

২. নামাজ, যাকাত, রোজা, হজ্জের ইত্যাদির নিয়ম ও মাসয়ালা

৩. হালাল-হারাম সম্পর্কে জানা

হালাল উপার্জন বনাম হারাম উপার্জন, সুদ (রিবা) কী, খাদ্য (হালাল/হারাম), গিবত, মিথ্যা, জুলুম ইত্যাদি

৪. ব্যক্তিগত জীবনের প্রয়োজনীয় মাসআলা

নিজের অবস্থার সাথে সম্পর্কিত জ্ঞান শিখতে হবে, বিবাহ, তালাক, পারিবারিক অধিকার, ব্যবসা করলে ব্যবসার শরীয়ত, চাকরি করলে হালাল-হারামের নিয়ম ইত্যাদি

৫. নৈতিকতা ও চরিত্র (আখলাক)

শুধু ইবাদত না, চরিত্রও গুরুত্বপূর্ণ, সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ধৈর্য (সবর), অহংকার, হিংসা থেকে বাঁচা ইত্যাদি।

৬. কুরআন পড়ার ন্যূনতম জ্ঞান

সঠিকভাবে কুরআন তিলাওয়াত (তাজবীদসহ যতটুকু সম্ভব), নামাজে পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সূরা।

যে বিষয় ছাড়া আপনার ঈমান, ইবাদত ও জীবন ঠিকভাবে চলবে না, সেই জ্ঞান শেখা আপনার জন্য ফরজ।

দলিল নং- ০৬ ইবনু মাজাহ হাদিস নং-২২৪ (হাদিসের মান সহীহ, নাসিরুদ্দিন আলবানীর মতে)

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফারয।

যে জ্ঞান অর্জন ফরযে কিফায়া

কিছু জ্ঞান আছে যা সমাজে কিছু লোক জানলেই দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়। কেউ না জানলে সবাই গুনাহগার হবে। যেমন:

ফিকহের গভীর জ্ঞান (মুফতি হওয়া)

চিকিৎসা বিজ্ঞান

দাওয়াহ, ইসলামী গবেষণা

যে জ্ঞান অর্জন নফল

প্রয়োজনীয় জ্ঞানের বাইরে অতিরিক্ত জ্ঞান অর্জন করা নফল, কিন্তু এতে অনেক সওয়াব আছে। যেমন:

অতিরিক্ত ইসলামী বই পড়া

বিভিন্ন ভাষা, বিজ্ঞান, ইতিহাস শেখা

দলিল নং- ০৭ সুরা আত ত্বহা আয়াত-১১৪

وَ قُلۡ رَّبِّ زِدۡنِیۡ عِلۡمًا

আর বলুন, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন

ঈমান কী

الإِيمَانِ  (ঈমান) শব্দটি আরবী শব্দ যার বাংলা অর্থ বিশ্বাস স্থাপন করা, নিরাপত্তা প্রদান করা, আনুগত্য করা, স্বীকৃতি দেওয়া।

দলিল নং- ০৮ সুরা আল বাকারা আয়াত-২৮৫

اٰمَنَ الرَّسُوۡلُ بِمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡهِ مِنۡ رَّبِّهٖ وَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ ؕ كُلٌّ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَ مَلٰٓئِكَتِهٖ وَ كُتُبِهٖ وَ رُسُلِهٖ ۟ لَا نُفَرِّقُ بَیۡنَ اَحَدٍ مِّنۡ رُّسُلِهٖ ۟ وَ قَالُوۡا سَمِعۡنَا وَ اَطَعۡنَا ٭۫ غُفۡرَانَكَ رَبَّنَا وَ اِلَیۡكَ الۡمَصِیۡرُ

রসূল (সাঃ) তার প্রভুর পক্ষ থেকে যা তার কাছে নাযিল করা হয়েছে তার উপর ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তার ফেরেশতাগণ, তার কিতাবসমূহ এবং তার রসূলগণের উপর। আমরা তাঁর রসূলগনের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলেঃ আমরা শুনেছি ও মেনে নিয়েছি। হে আমাদের রব। আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল

হাদিসে জিবরীল (আঃ)

দলিল নং- ০৯ সহীহ মুসলিম হাদিস নং-০৮

وَقَالَ يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنِي عَنِ الإِسْلاَمِ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ الإِسْلاَمُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَتُقِيمَ الصَّلاَةَ وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ وَتَصُومَ رَمَضَانَ وَتَحُجَّ الْبَيْتَ إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلاً ‏.‏ قَالَ صَدَقْتَ ‏.‏ قَالَ فَعَجِبْنَا لَهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ ‏.‏ قَالَ فَأَخْبِرْنِي عَنِ الإِيمَانِ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلاَئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ صَدَقْتَ ‏.‏ قَالَ فَأَخْبِرْنِي عَنِ الإِحْسَانِ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ ‏”

হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে ইসলাম সম্বন্ধে বলুন। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ ইসলাম হচ্ছে এই– তুমি সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন ইলাহ (মাবূদ) নেই, এবং মুহাম্মাদ (সাঃ) আল্লাহর রসূল, স্বলাত কায়িম করবে, যাকাত আদায় করবে, রমাদানের সাওম পালন করবে এবং যদি পথ অতিক্রম করার সামর্থ্য হয় তখন বাইতুল্লাহর হজ্জ করবে। সে বললো, আপনি সত্যই বলেছেন। বর্ণনাকারী উমর (রাযিঃ) বলেন, আমরা তার কথা শুনে আশ্চর্যাম্বিত হলাম। কেননা সে (অজ্ঞের ন্যায়) প্রশ্ন করছে আর (বিজ্ঞের ন্যায়) সমর্থন করছে।

এরপর সে বললো, আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ ঈমান এই যে, তুমি আল্লাহ, তার ফেরেশতাকুল, তার কিতাবসমূহ, তার প্রেরিত নবীগণ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখবে এবং তুমি তাকদীর ও এর ভালো ও মন্দের প্রতিও ঈমান রাখবে। সে বললো, আপনি সত্যই বলেছেন।

এবার সে বললো, আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ ইহসান এই যে, তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদাত করবে যেন তাকে দেখছো, যদি তাকে না দেখো তাহলে তিনি তোমাকে দেখছেন বলে অনুভব করবে।

উল্লেখিত হাদিসে ঈমানের রোকন বা মুল বিষয় বলা হচ্ছে ৬ টি

১। আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা

আল্লাহর কোন গুন বা বিষয়গুলো আমরা  ঈমান আনবো তা তিনি সুরা ইখলাস এ চমৎকার ভাবে উল্লেখ করেছেন।

দলিল নং- ১০ সুরা আল ইখলাস আয়াত ১ থেকে ৪

                       وَ لَمۡ یَکُنۡ لَّهٗ کُفُوًا اَحَدٌ لَمۡ یَلِدۡ وَ لَمۡ یُوۡلَدۡ  اَللّٰهُ الصَّمَدُ  قُلۡ هُوَ اللّٰهُ اَحَدٌ

অর্থ : (হে রাসুল! আপনি) বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি। আর তার সমতুল্য কেউ নেই।’ (সুরা আল ইখলাস)

২। আল্লাহর রসুলদের প্রতি ঈমান আনা 

পৃথীবিতে নাবী রসুলদের সংখ্যা কত? অনেকেই এইরকম প্রশ্ন করে থাকে –

আমাদের দেশে বহুল প্রচলিত এমনকি স্কুলের বইতে ও রয়েছে যে, নবী রাসূলদের সংখ্যা ১ লক্ষ ২৪ হাজার মতান্তরে ২ লক্ষ ২৪ হাজার, এমনই মতান্তর এক লাফেই ১ লক্ষ বেশি আবার যার কোন ভিত্তি নেই। এটি একটি ঈমানী বিষয় যা মিথ্যা অথবা শক্ত দলিল ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়। এবং কুরআন ও হাদিসের কোথাও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি। একটি দুর্বল হাদিস ১ লক্ষ ২৪ হাজারের কথা এসেছে এবং দুর্বল হাদীস দিয়ে কোন ঈমানী বিষয়ের উপরে আমল করা যাবেনা। তাই আমাদের উচিত হবে, নাবী-রসূলগণ আসমানী কিতাবের উপর ঈমান আনা এবং তাদের সংখ্যা একমাত্র আল্লাহ সুবহানু ওয়া তায়ালা ভাল জানেন।

তাঁদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যকের নাম কুরআন ও হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। আর অধিকাংশের নাম উল্লেখ করা হয় নি। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন,

দলিল নং- ১১ সুরা সূরা আন নিসা আয়াত ১৬৪

وَ رُسُلًا قَدۡ قَصَصۡنٰهُمۡ عَلَیۡکَ مِنۡ قَبۡلُ وَ رُسُلًا لَّمۡ نَقۡصُصۡهُمۡ عَلَیۡکَ ؕ وَ کَلَّمَ اللّٰهُ مُوۡسٰی تَکۡلِیۡمًا

এছাড়া এমন রাসূল পাঠিয়েছি যাদের ইতিবৃত্ত আমি আপনাকে শুনিয়েছি ইতিপূর্বে এবং এমন রসূল পাঠিয়েছি যাদের বৃত্তান্ত আপনাকে শোনাইনি। আর মূসা (আঃ) এর সাথে আল্লাহ সাক্ষাৎ বাক্যালাপ করেছেন

৩। ফেরেস্তাদের প্রতি ঈমান আনা

আমরা প্রসিদ্ধ চার জন ফেরেশতার নাম সবাই জানি, এদের মধ্যে আমরা যাকে আজরাইল বলি তার নাম আসলে আজরাইল কিনা? আমাদের সমাজে ‘আজরাইল’ নামটি কিভাবে প্রচলিত হল-

আজরাইল (عزرائيل/Azrael) শব্দটি আরবি বরং ইবরানি (হিব্রু/Hebrew) ভাষা থেকে এসেছে। জান কবজের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতাকে ইবরানি (হিব্রু) ভাষায় ‘আজরাইল/Azrael’ বলা হয়। বিভিন্ন ইসরাইলি বর্ণনায় এ শব্দটির উল্লেখ পাওয়া যায়।

ইসলামি লেখকদের মধ্যে ইমাম ফখরুদ্দিন রাযী, ইমাম বাগাভী প্রমুখ কতিপয় তাফসির কারক তাদের তাফসির গ্রন্থে এ নামটি ব্যবহার করেছেন। এ কারণে এ নামটি আমাদের সমাজে বিভিন্ন বক্তা, ইসলামি লেখক এবং সর্ব সাধারণের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়েছে।

কিন্তু কুরআন-হাদিসে এই নামটির অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। কুরআনে তাকে বলা হয়েছে মালাকুল মউত (মৃত্যু দূত)। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন,

দলিল নং- ১২ সুরা সূরা আস সাজদাহ আয়াত ১১

قُلۡ یَتَوَفّٰىکُمۡ مَّلَکُ الۡمَوۡتِ الَّذِیۡ وُکِّلَ بِکُمۡ ثُمَّ اِلٰی رَبِّکُمۡ تُرۡجَعُوۡنَ

“বলুন, তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ‘মালাকুল মওত’ তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।”

জিবরাঈল ও মিকাঈলের আঃ সম্পর্কে

দলিল নং- ১৩ সুরা আল বাকারার আয়াত-৯৮

مَنۡ کَانَ عَدُوًّا لِّلّٰهِ وَ مَلٰٓئِکَتِهٖ وَ رُسُلِهٖ وَ جِبۡرِیۡلَ وَ مِیۡکٰىلَ فَاِنَّ اللّٰهَ عَدُوٌّ لِّلۡکٰفِرِیۡنَ

যে কেউ আল্লাহ, তার ফেরেশতা, রসূলগণ এবং জিবরাঈল ও মিকাঈলের শত্রু, সে জেনে রাখুক আল্লাহ নিশ্চয় সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের শত্রু

ইসরাফিল [আ.]: এই ফেরেস্তা কিয়ামত বা বিশ্বপ্রলয় ঘোষণা করবেন। তার কথা কুরআন মাজিদে বলা না হলেও হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।

৪। আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাবের উপর ঈমান আনা

দলিল নং- ১৪ সুরা আল ইমরান আয়াত -০৩

نَزَّلَ عَلَیۡکَ الۡکِتٰبَ بِالۡحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَیۡنَ یَدَیۡهِ وَ اَنۡزَلَ التَّوۡرٰىۃَ وَ الۡاِنۡجِیۡلَ

তিনি সত্যসহ তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন, পূর্বে যা এসেছে তার সত্যতা প্রতিপন্নকারীরূপে। আর তিনি নাযিল করেছিলেন তাওরাত ও ইঞ্জীল

এবং আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন  

দলিল নং- ১৫ সুরা বনি ইসরাইল আয়াত ৫৫ 

وَّ اٰتَیۡنَا دَاوٗدَ زَبُوۡرًا

এবং দাউদকে দিয়েছি যাবূর।

৫। পরকালের প্রতি ঈমান আনা

দলিল নং- ১৬ সুরা আল মুমিনুন আয়াত ১৬

ثُمَّ اِنَّکُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ تُبۡعَثُوۡنَ

তারপর কিয়ামতের দিন অবশ্যই তোমরা পুনরুত্থিত হবে।

৬। তাকদিরের ভালো মন্দের প্রতি ঈমান আনা

দলিল নং- ১৭ সুরা আল ক্বামার আয়াত নং ৪৯

اِنَّا کُلَّ شَیۡءٍ خَلَقۡنٰهُ بِقَدَرٍ

নিশ্চয় আমরা প্ৰত্যেক কিছু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত তাকদিরে

ঈমানের শাখা

দলিল নং- ১৮ সহীহ বুখারী হাদিস নং- ০৯

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঈমানের ষাটেরও অধিক শাখা আছে। আর লজ্জা হচ্ছে ঈমানের একটি শাখা।

সে-ই মুসলিম, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।

দলিল নং- ১৯ সহীহ বুখারী হাদিস নং- ১০

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللهُ عَنْهُ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সে-ই মুসলিম, যার জিহবা ও হাত হতে সকল মুসলিম নিরাপদ এবং সে-ই প্রকৃত মুহাজির, আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা যে ত্যাগ করে।

নিজের জন্য যা পছন্দ করা হয় সেটা স্বীয় ভাইদের জন্যও পছন্দ করা

দলিল নং- ২০ সহীহ বুখারী হাদিস নং- ১৩

عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
قَالَ ‏ “‏ لا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ

আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ প্রকৃত মু‘মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য সেটাই পছন্দ করবে, যা তার নিজের জন্য পছন্দ করে।

রসুল (সঃ) কে ভালোবাসা

দলিল নং- ২১ সহীহ বুখারী হাদিস নং- ১৫

عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ لاَ يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ

আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ প্রকৃত মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা, তার সন্তান ও সব মানুষের অপেক্ষা অধিক প্রিয়পাত্র হই।

ফিতনা হতে পালায়ন ঈমানে অংশ

দলিল নং- ২২ সহীহ বুখারী হাদিস নং- ১৯

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ يُوشِكُ أَنْ يَكُونَ خَيْرَ مَالِ الْمُسْلِمِ غَنَمٌ يَتْبَعُ بِهَا شَعَفَ الْجِبَالِ وَمَوَاقِعَ الْقَطْرِ، يَفِرُّ بِدِينِهِ مِنَ الْفِتَنِ

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সেদিন দূরে নয়, যেদিন মুসলিমের উত্তম সম্পদ হবে কয়েকটি বকরী, যা নিয়ে সে পাহাড়ের চূড়ায় অথবা বৃষ্টিপাতের স্থানে চলে যাবে। ফিতনা হতে সে তার ধর্ম সহকারে পলায়ন করবে। 

ঈমানের বৃদ্ধি ও হ্রাস।

দলিল নং- ২৩ সূরা আল কাহাফ আয়াত নং- ১৩

نَحۡنُ نَقُصُّ عَلَیۡکَ نَبَاَهُمۡ بِالۡحَقِّ ؕ اِنَّهُمۡ فِتۡیَۃٌ اٰمَنُوۡا بِرَبِّهِمۡ وَ زِدۡنٰهُمۡ هُدًی

আমরা আপনার কাছে তাদের বৃত্তান্ত সঠিকভাবে বর্ণনা করছি; তারা তো ছিল কয়েকজন যুবক, তারা তাদের রব-এর উপর ঈমান এনেছিল। এবং আমরা তাদের হিদায়াত বৃদ্ধি করে দিয়েছিলাম।

দলিল নং- ২৪ সূরা আল মুদ্দাস্সির আয়াত নং- ৩১

وَ یَزۡدَادَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِیۡمَانًا

আর যারা ঈমান এনেছে তাদের ঈমান বেড়ে যায়।

ইমান ভঙ্গের কারনসমূহঃ

ঈমান নষ্ট হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে তার মধ্যে বিভিন্ন ইসলামিক গবেষকগণ কুরআনুল কারিমের দলিল দ্বারা ১০টি কারন উল্লেখ করেছেন 

১। আল্লাহর সাথে শিরিক করলে ঈমান নষ্ট হয়।

দলিল নং- ২৫ সুরা আল মায়েদা আয়াত ৭২

اِنَّهٗ مَنۡ یُّشۡرِکۡ بِاللّٰهِ فَقَدۡ حَرَّمَ اللّٰهُ عَلَیۡهِ الۡجَنَّۃَ

নিশ্চয় কেউ আল্লাহর সাথে শরীক করলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত অবশ্যই হারাম করে দিয়েছেন

শিরিক সম্পর্কে আরো উল্লেখ আছে সুরা নেসা-৪৮, ১৭১ নং আয়াত

২। লোকমান হাকিম তার প্রিয় সন্তানের ছোট বেলায় তাকে কি সুন্দর উপদেশ দিয়েছেন। তার কথা আল্লাহ তায়ালার পছন্দ হয়েছে। তাই আল্লাহ পবিত্র কুরআনে তার কথা নোট করে দিয়েছেন। আমরা আমাদের সন্তানদেরকে দুনিয়ার বিভিন্ন কাজের উপদেশ দিয়ে থাকি, কিন্তু আল্লাহর পছন্দ করা এমন উপদেশ কয়জনে দিয়ে থাকি? লোকমান হাকিম বলেছেন-

দলিল নং- ২৬ সুরা লোকমান, আয়াত- ১৩

وَ اِذۡ قَالَ لُقۡمٰنُ لِابۡنِهٖ وَ هُوَ یَعِظُهٗ یٰبُنَیَّ لَا تُشۡرِکۡ بِاللّٰهِ ؕؔ اِنَّ الشِّرۡکَ لَظُلۡمٌ عَظِیۡمٌ

“যখন লুকমান উপদেশ দিতে গিয়ে তার পুত্ৰকে বলেছিল হে আমার প্রিয় বৎস! আল্লাহর সাথে কোন শির্ক করো না। নিশ্চয় শির্ক বড় যুলুম”

(তাই শিরক করলে আমাদের ইমান নষ্ট হয়ে যাবে, শিরক থেকে আমাদের বাচতে হবে।)

২। আল্লাহ ও বন্দার মধ্যে অন্য কাওকে মধ্যস্থতাকারি বানানো

দলিল নং- ২৭ সুরা ইউনুছ আয়াত ১৮

وَ یَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ مَا لَا یَضُرُّهُمۡ وَ لَا یَنۡفَعُهُمۡ وَ یَقُوۡلُوۡنَ هٰۤؤُلَآءِ شُفَعَآؤُنَا عِنۡدَ اللّٰهِ ؕ قُلۡ اَتُنَبِّـُٔوۡنَ اللّٰهَ بِمَا لَا یَعۡلَمُ فِی السَّمٰوٰتِ وَ لَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ سُبۡحٰنَهٗ وَ تَعٰلٰی عَمَّا یُشۡرِكُوۡنَ

আর তারা আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুর ইবাদাত করছে যা তাদের ক্ষতিও করতে পারে না, উপকারও করতে পারে না। আর তারা বলে, এগুলো আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী। বলুন, তোমরা কি এমন কিছুর সংবাদ দেবে যা তিনি জানেন না?(১) তিনি মহান, পবিত্র এবং তারা যাকে শরীক করে তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।

৩। মুশরিক-কাফিরদের কাফির মনে না করা

বর্তমান জামানায় এর প্রসার কল্পনাতীত। বর্তমান মুসলিম সমাজের আলেমদেরও এ ব্যাপারে শৈথিল্য ব্যাপক। আমরা মুসলিমরা কাফির মুশরিকদেরকে ভাই মনে করে তাদের সাথে একত্রে জীবন পরিচালনা করি। পক্ষান্তরে তারা সুযোগ পেলে আমাদের ক্ষতি সাধনে ব্যস্থ থাকে। এটা আমাদের বুঝা উচিত। আল্লাহ কুরআনুল কারীমে বলেন-

দলিল নং- ২৮ সুরা আল ইমরান, আয়াত-২৮

لَا یَتَّخِذِ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ الۡكٰفِرِیۡنَ اَوۡلِیَآءَ مِنۡ دُوۡنِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۚ وَ مَنۡ یَّفۡعَلۡ ذٰلِكَ فَلَیۡسَ مِنَ اللّٰهِ فِیۡ شَیۡءٍ اِلَّاۤ اَنۡ تَتَّقُوۡا مِنۡهُمۡ تُقٰىۃً ؕ وَ یُحَذِّرُكُمُ اللّٰهُ نَفۡسَهٗ ؕ وَ اِلَی اللّٰهِ الۡمَصِیۡرُ

মুমিনগণ যেন মুমিনগণ ছাড়া কাফেরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। আর যে কেউ এরূপ করবে তার সাথে আল্লাহ্‌র কোন সম্পর্কে থাকবে না; তবে ব্যতিক্রম, যদি তোমরা তাদের নিকট থেকে আত্মরক্ষার জন্য সতর্কতা অবলম্বন কর। আর আল্লাহ তাঁর নিজের সম্বন্ধে তোমাদেরকে সাবধান করছেন এবং আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তন।

৪। নবি (সা.)র ফয়সালার তুলনায় অন্য কারো ফয়সালাকে উত্তম মনে করা

দলিল নং- ২৯ সূরা আন নিসা আয়াত ৬০

یُرِیۡدُوۡنَ اَنۡ یَّتَحَاکَمُوۡۤا اِلَی الطَّاغُوۡتِ وَ قَدۡ اُمِرُوۡۤا اَنۡ یَّکۡفُرُوۡا بِهٖ

 তারা তাগূতের কাছে বিচার নিয়ে যেতে চায় অথচ তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাকে অস্বীকার করতে।

৫। মুহাম্মাদ (সা.) আনীত বিধানকে অপছন্দ করা

ইসলামের কোনো বিধানকে আন্তরিকভাবে অপছন্দ করা যদিও বাহ্যিকভাবে ইসলামের ওপর আমল করা হোক না কেন। যেমন- পর্দার হুকুমকে অপছন্দ করা কিংবা উপযুক্ত ব্যক্তির একাধিক বিয়েকে অপছন্দ করা। এমনিভাবে জিহাদ বা আল্লাহর পথে সংগ্রামকে অপছন্দ করা। মুহাম্মাদ (সা.) আনীত কোনো বিধানকে অপছন্দ করলে তার ইমান নষ্ট হয়ে যাবে। আল্লাহ বলেন-

দলিল নং- ৩০ সূরা আন নিসা আয়াত ৬৫

فَلَا وَ رَبِّكَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ حَتّٰی یُحَكِّمُوۡكَ فِیۡمَا شَجَرَ بَیۡنَهُمۡ ثُمَّ لَا یَجِدُوۡا فِیۡۤ اَنۡفُسِهِمۡ حَرَجًا مِّمَّا قَضَیۡتَ وَ یُسَلِّمُوۡا تَسۡلِیۡمًا 

কিন্তু না, আপনার রবের শপথ তারা মুমিন হবে না যতক্ষন পর্যন্ত তারা নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের বিচার ভার আপনার উপর অর্পণ না করে; অতঃপর আপনার মীমাংসা সম্পর্কে তাদের মনে কোন দ্বিধা না থাকে এবং সর্বান্তকরণে তা মেনে নেয়।

৬। দীনের কোনো বিধান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা

দলিল নং- ৩১ সূরা আত তাওবা আয়াত ৬৫-৬৬

وَ لَئِنۡ سَاَلۡتَهُمۡ لَیَقُوۡلُنَّ اِنَّمَا كُنَّا نَخُوۡضُ وَ نَلۡعَبُ ؕ قُلۡ اَ بِاللّٰهِ وَ اٰیٰتِهٖ وَ رَسُوۡلِهٖ كُنۡتُمۡ تَسۡتَهۡزِءُوۡنَ

لَا تَعۡتَذِرُوۡا قَدۡ كَفَرۡتُمۡ بَعۡدَ اِیۡمَانِكُمۡ                                                                  

 ‘তুমি তাদের প্রশ্ন করলে তারা নিশ্চয়ই বলবে- আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতুক করছিলাম। বলো, তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াত ও তাঁর রাসূলকে বিদ্রূপ করছিলে?’ তোমরা অজুহাত দেয়ার চেষ্টা করো না। তোমরা তো ঈমান আনার পর কুফরি করেছ’

(দীনের কোনো বিধান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করলে ইমান নষ্ট হয়ে যাবে। )

৭। জাদু করা

দলিল নং- ৩২ সুরা আয যারিয়াত, আয়াত-৫২

کَذٰلِکَ مَاۤ اَتَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِهِمۡ مِّنۡ رَّسُوۡلٍ اِلَّا قَالُوۡا سَاحِرٌ اَوۡ مَجۡنُوۡنٌ

এভাবে তাদের পূর্ববর্তীদের কাছে যখনই কোন রাসূল এসেছেন তারাই তাকে বলেছে, এ তো এক জাদুকর, না হয় এক উন্মাদ!

এছাড়া আল্লাহ আরো বলেন-

দলিল নং- ৩৩ সুরা বাকারা, আয়াত ১০২

وَ اتَّبَعُوۡا مَا تَتۡلُوا الشَّیٰطِیۡنُ عَلٰی مُلۡكِ سُلَیۡمٰنَ ۚ وَ مَا كَفَرَ سُلَیۡمٰنُ وَ لٰكِنَّ الشَّیٰطِیۡنَ كَفَرُوۡا یُعَلِّمُوۡنَ النَّاسَ السِّحۡرَ ٭ وَ مَاۤ اُنۡزِلَ عَلَی الۡمَلَكَیۡنِ بِبَابِلَ هَارُوۡتَ وَ مَارُوۡتَ ؕ وَ مَا یُعَلِّمٰنِ مِنۡ اَحَدٍ حَتّٰی یَقُوۡلَاۤ اِنَّمَا نَحۡنُ فِتۡنَۃٌ فَلَا تَكۡفُرۡ ؕ فَیَتَعَلَّمُوۡنَ مِنۡهُمَا مَا یُفَرِّقُوۡنَ بِهٖ بَیۡنَ الۡمَرۡءِ وَ زَوۡجِهٖ ؕ وَ مَا هُمۡ بِضَآرِّیۡنَ بِهٖ مِنۡ اَحَدٍ اِلَّا بِاِذۡنِ اللّٰهِ ؕ وَ یَتَعَلَّمُوۡنَ مَا یَضُرُّهُمۡ وَ لَا یَنۡفَعُهُمۡ ؕ وَ لَقَدۡ عَلِمُوۡا لَمَنِ اشۡتَرٰىهُ مَا لَهٗ فِی الۡاٰخِرَۃِ مِنۡ خَلَاقٍ ۟ؕ وَ لَبِئۡسَ مَا شَرَوۡا بِهٖۤ اَنۡفُسَهُمۡ ؕ لَوۡ كَانُوۡا یَعۡلَمُوۡنَ

আর সুলাইমানের রাজত্বে শয়তানরা যা আবৃত্তি করত তারা তা অনুসরণ করেছে। আর সুলাইমান কুফরী করেননি, বরং শয়তানরাই কুফরী করেছিল। তারা মানুষকে শিক্ষা দিত জাদু ও (সে বিষয় শিক্ষা দিত) যা বাবিল শহরে হারূত ও মারূত ফিরিশতাদ্বয়ের উপর নাযিল হয়েছিল। তারা উভয়েই এই কথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত না যে, ‘আমরা নিছক একটি পরীক্ষা; কাজেই তুমি কুফরী করো না’।(১)। তা সত্বেও তারা ফিরিশতাদ্বয়ের কাছ থেকে এমন জাদু শিখত যা দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতো(২)। অথচ তারা আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত তা দ্বারা কারো ক্ষতি করতে পারত না। আর তারা তা-ই শিখত যা তাদের ক্ষতি করত এবং কোন উপকারে আসত না। আর তারা নিশ্চিত জানে যে, যে কেউ তা খরিদ করে, (অর্থাৎ জাদুর আশ্রয় নেয়) তার জন্য আখেরাতে কোন অংশ নেই। যার বিনিময়ে তারা নিজেদের বিকিয়ে দিচ্ছে, তা খুবই মন্দ, যদি তারা জানত!

৮। মুসলিমদের বিরুদ্ধে মুশরিকদের সমর্থন ও সহযোগিতা করা

দলিল নং- ৩৪ সুরা আত তাওবা, আয়াত ২৩

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَتَّخِذُوۡۤا اٰبَآءَكُمۡ وَ اِخۡوَانَكُمۡ اَوۡلِیَآءَ اِنِ اسۡتَحَبُّوا الۡكُفۡرَ عَلَی الۡاِیۡمَانِ ؕ وَ مَنۡ یَّتَوَلَّهُمۡ مِّنۡكُمۡ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الظّٰلِمُوۡنَ

‘হে মুমিনগণ! তোমাদের পিতা ও ভাইও যদি ঈমানের বিপরীতে কুফরিকে বেছে নেয়, তবে তাদের অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করো না। তোমাদের মধ্যে যারা তাদের অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করে, তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।’ 

৯। কাউকে দীন-শরিয়তের ঊর্ধ্বে মনে করা

যেমন- মারেফতের ধোঁয়া তুলে নিজেকে ইসলামের হুকুম আহকামের ঊর্ধ্বে মনে করা। বাতেনিভাবে নামাজ-রোজা আদায়ের কথা বলা।
আল্লাহ বলেন,

দলিল নং- ৩৫ সূরা আল মায়িদা আয়াত ৩

اَکۡمَلۡتُ لَکُمۡ دِیۡنَکُمۡ وَ اَتۡمَمۡتُ عَلَیۡکُمۡ نِعۡمَتِیۡ وَ رَضِیۡتُ لَکُمُ الۡاِسۡلَامَ دِیۡنًا

আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম’ ।

১০। দীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া

দলিল নং- ৩৬ সুরা আস সাজদাহ আয়াত ২২

وَ مَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنۡ ذُكِّرَ بِاٰیٰتِ رَبِّهٖ ثُمَّ اَعۡرَضَ عَنۡهَا ؕ اِنَّا مِنَ الۡمُجۡرِمِیۡنَ مُنۡتَقِمُوۡنَ

 ‘যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের নিদর্শনাবলি দ্বারা উপদিষ্ট হয়েও তা হতে মুখ ফিরিয়ে নেয় তার অপেক্ষা অধিক অপরাধী আর কে? আমি অবশ্যই অপরাধীদের শাস্তি দিয়ে থাকি।’ 

সালাত আদায়ের পদ্ধতি

চার ইমাম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ন কথা (পর্ব-০২)

দলিলভিত্তিক ইবাদত ও জীবনপথ বইয়ের লেখকের বানী (পর্ব-০১)

About Md Nazmul Azam

I am website developer.

Check Also

সালাত আদায়ের পদ্ধতি

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-১০)

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পূর্বের পাঠ) সুরা ফাতিহার শেষে আমিন বলা দলিল নং- ৯৭। সহীহ বুখারী …

আউয়াল ওয়াক্তে স্বলাত আদায়ের গুরুত্ব

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-০৯)

সালাতের পদ্ধতি দলিল নং- ৭০। সুরা আল আনকাবুত আয়াত নং-৪৫ اِنَّ الصَّلٰوۃَ تَنۡهٰی عَنِ الۡفَحۡشَآءِ …

জুলুমকারীকে বাধা দেওয়া উচিত।

সহীহ বুখারী হাদিস নম্বর ২৪৪৪ আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *