সালাতের পদ্ধতি
দলিল নং- ৭০। সুরা আল আনকাবুত আয়াত নং-৪৫
اِنَّ الصَّلٰوۃَ تَنۡهٰی عَنِ الۡفَحۡشَآءِ وَ الۡمُنۡكَرِ
নিশ্চয় স্বলাত বিরত রাখে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে
আমরা পাঁচ ওয়াক্ত স্বলাত পড়ি কখনো কি ভেবে দেখেছি যে আমাদের স্বলাত রসুল (সঃ) এর শিখানো বা তার মত স্বলাত পড়ি কিনা? আমি চেষ্ঠা করবো রসুল (সঃ) এর শিখানো স্বলাতের দোয়াগুলো আলোচনা করা যাতে আমরা রসুল (সঃ) শিখানো স্বলাত পড়ে আমাদের জীবনের পরিবর্তন ঘটাতে পারি।
রসুল (সঃ) বলেছেন,
দলিল নং- ৭১। সহী বুখারী হাদিস নং ৬০০৮
صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي
“যে ভাবে আমাকে স্বলাত আদায় করতে দেখেছ ঠিক তেমনভাবে স্বলাত আদায় কর”
জামায়াতের সাথে স্বলাত আদায় করার গুরুত্ব
দলিল নং- ৭২। সুরা আল বাকারা আয়াত নং-৪৩
وَ اَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَ اٰتُوا الزَّكٰوۃَ وَ ارۡكَعُوۡا مَعَ الرّٰكِعِیۡنَ
আর তোমরা স্বলাত প্রতিষ্ঠা কর ও যাকাত দাও এবং রুকূ’কারীদের সাথে রুকূ কর।
স্বলাতের ফরয সমূহ
স্বলাতের বাহিরে ফরয ০৭ টি
১. শরীর পাক ২. কাপড় পাক ৩. স্বলাতের স্থান পাক ৪. সতর আবৃত করা ৫. কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ানো ৬. নিয়ত করা ৭. ওয়াক্ত মত স্বলাত পড়া।
স্বলাতের ভিতরে ফরয ১০ টি
১. কিয়াম বা দাড়ানো। ২. তাকবীরে তাহরীমা বলে স্বলাত শুরু করা। ৩. সূরা ফাতিহা পড়া। ৪. রুকু করা। ৫. সিজদা করা। ৬. দুই সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠক (অধিকাংশ আলেম এর মত)। ৭. শেষ বৈঠক ও তাশাহুদ (আত্তাহিয়াতু) পড়া। ৮. রুকন গুলো ধীরস্থিরভাবে আদায় করা (অধিকাংশ আলেম এর মত)। ৯. রুকন আদায়ে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা (অধিকাংশ আলেম এর মত) ১০. সালাম ফিরানো (অধিকাংশ আলেম এর মত)।
মাসজিদে প্রবেশের দোয়া
দলিল নং- ৭৩। নাসায়ি শরীফ হাদিস নং ৭৩০ (হাদিসের মান সহীহ)
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم “ إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ وَإِذَا خَرَجَ فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ ” .
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে তখন, সে যেন বলেঃاللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ [আল্লাহুম্মাফ্তাহলি আবওয়াবা রাহামাতিক] “হে আল্লাহ! আমার জন্যে আপনার রহমতের দরজা খুলে দিন।” আর যখন বের হয় তখন যেন বলেঃاللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ [আল্লাহুম্মা ইন্নি আস-আলুকা মিন ফাদলিক] “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার দয়া কামনা করছি।”
মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত স্বলাত না পড়ে বসা যাবেনা
দলিল নং- ৭৪। সহীহ বুখারী হাদিস নং- ৪৪৪
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ السَّلَمِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمْ الْمَسْجِدَ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يَجْلِسَ
আবূ কাতাদাহ্ সালামী (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ মাসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন বসার পূর্বে দু’রাক‘আত স্বলাত আদায় করে নেয়।
মন্তব্যঃ এই হাদিস থেকে বুঝা যায় মাসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত স্বলাত না পড়ে বসা যাবেনা। তাই একটু চিন্তা করুন আমাদের এই সুন্নাতটি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে।
কিবলামুখী হওয়া
দলিল নং- ৭৫। নাসায়ি শরীফ হাদিস নং ৭৪৩ (হাদিসের মান সহীহ)
عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ فَصَلَّى نَحْوَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ سِتَّةَ عَشَرَ شَهْرًا ثُمَّ وُجِّهَ إِلَى الْكَعْبَةِ فَمَرَّ رَجُلٌ قَدْ كَانَ صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আগমনের পর ষোল মাস বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেন। তারপর তাকে কা’বার দিকে মুখ করার নির্দেশ দেয়া হলো।
স্বলাতের নিয়ত প্রসঙ্গে
দলিল নং- ৭৬। সহীহ বুখারী হাদিস নং-০১
عَلْقَمَةَ بْنَ وَقَّاصٍ اللَّيْثِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ ـ رضى الله عنه ـ عَلَى الْمِنْبَرِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ “ إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوْ إِلَى امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ
আলক্বামাহ ইবনু ওয়াক্কাস আল-লায়সী (রহ.) হতে বর্ণিত। আমি ’উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছিঃ আমি আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কাজ (এর প্রাপ্য হবে) নিয়্যাত অনুযায়ী। আর মানুষ তার নিয়্যাত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে। তাই যার হিজরত হবে ইহকাল লাভের অথবা কোন মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশে- তবে তার হিজরত সে উদ্দেশেই হবে, যে জন্যে, সে হিজরত করেছে।
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়: নিয়ত হলো অন্তরের কাজ, মুখের কথা নয়। নামাজ, রোজা, হজসহ অন্য কোন ইবাদতের আগে রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো মুখে নিয়ত বলেননি, রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা সাহাবাগণ মুখে “আমি অমুক নিয়ত করলাম…” এভাবে বলেছেন এমন কোন সহীহ হাদিস পাওয়া যায় না। তাই নিয়ন মুখে উচ্চারন করা সঠিক নয়। নিয়ত করতে হয়, নিয়ত পড়তে হয় না।
আপনি যখন নামাজ পড়তে দাঁড়ান, আপনার মনে থাকে: “আমি যোহরের ফরয স্বলাত পড়ছি” এটিই নিয়ত, আলাদা করে মুখে কিছু বলার দরকার নেই। আমাদের দেশে প্রচলিত আরবি নিয়তগুলো পরবর্তীতে কিছু মানুষ বানিয়েছেন যা সুন্নাহ নয়।
কাতার সোজা করা ও ফাকা বন্ধ করা
দলিল নং- ৭৭। সহীহ বুখারী হাদিস নং-৭২৩
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ سَوُّوا صُفُوفَكُمْ فَإِنَّ تَسْوِيَةَ الصُّفُوفِ مِنْ إِقَامَةِ الصَّلاَةِ.
আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা তোমাদের কাতারগুলো সোজা করে নিবে, কেননা, কাতার সোজা করা স্বলাতের সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত।
দলিল নং- ৭৮। আবু দাউদ হাদিস নং-৬৬৭ (হাদিসের মান সহীহ)
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ “ رُصُّوا صُفُوفَكُمْ وَقَارِبُوا بَيْنَهَا وَحَاذُوا بِالأَعْنَاقِ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لأَرَى الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ مِنْ خَلَلِ الصَّفِّ كَأَنَّهَا الْحَذَفُ ” .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কাতারের মধ্যে পরস্পর মিলে মিশে দাঁড়াও। এক কাতার অপর কাতারের নিকটে কর এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াও। যার হাতে আমার জীবন, তাঁর শপথ! আমি শয়তানকে স্বলাতের কাতারের মধ্যে বকরীর ন্যায় প্রবেশ করতে দেখেছি।
দলিল নং- ৭৯। আবু দাউদ হাদিস নং -৬৬২ (হাদিসের মান সহীহ)
قَالَ سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، يَقُولُ أَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى النَّاسِ بِوَجْهِهِ فَقَالَ ” أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ ” . ثَلاَثًا ” وَاللَّهِ لَتُقِيمُنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ ” . قَالَ فَرَأَيْتُ الرَّجُلَ يُلْزِقُ مَنْكِبَهُ بِمَنْكِبِ صَاحِبِهِ وَرُكْبَتَهُ بِرُكْبَةِ صَاحِبِهِ وَكَعْبَهُ بِكَعْبِهِ
নুমান ইবনু বশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমবেত ব্যক্তিদের নিকট উপস্থিত হয়ে তিনবার বলেনঃ তোমরা তোমাদের কাতার সোজা কর। আল্লাহর শপথ! তোমরা কাতার সোজা করে দন্ডায়মান হবে, অন্যথায় আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি করবেন। রাবী বলেন, অতঃপর আমি মুসল্লীদেরকে পরস্পর কাঁধে কাঁধ, পায়ে পা এবং গোড়ালির সাথে গোড়ালি মিলিয়ে দাঁড়াতে দেখেছি।
মন্তব্যঃ আজ কিছু মাসজিদে দেখা যায় কাতারের মাঝে অনেক ফাকা করে দাঁড়ায়। ইমামদেরও এই বিষয়ে তেমন কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা যায়না।
তাকবীর বলে স্বলাত শুরু করা
দলিল নং- ৮০। সহীহ মুসলিম হাদিস নং-৩৯২
عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ يُكَبِّرُ حِينَ يَقُومُ ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْكَعُ ثُمَّ يَقُولُ ” سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ” . حِينَ يَرْفَعُ صُلْبَهُ مِنَ الرُّكُوعِ ثُمَّ يَقُولُ وَهُوَ قَائِمٌ ” رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ ” . ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَهْوِي سَاجِدًا ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَسْجُدُ ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ ثُمَّ يَفْعَلُ مِثْلَ ذَلِكَ فِي الصَّلاَةِ كُلِّهَا حَتَّى يَقْضِيَهَا وَيُكَبِّرُ حِينَ يَقُومُ مِنَ الْمَثْنَى بَعْدَ الْجُلُوسِ ثُمَّ يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ إِنِّي لأَشْبَهُكُمْ صَلاَةً بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
আবূ বকর ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেনঃ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন স্বলাতে দাঁড়াতেন ’আল্লাহু আকবার’ বলে সালাত শুরু করতেন। তিনি তাকবীর বলে রুকু’তে যেতেন। তিনি রুকু থেকে পিঠ সোজা করে দাঁড়ানোর সময় سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করেন আল্লাহ তার কথা শুনে থাকেন) বলতেন। অতঃপর দাঁড়ানো অবস্থায় رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (হে আল্লাহ! তোমার জন্য সমস্ত প্রশংসা) বলতেন। তিনি তাকবীর সিজদা থেকে মাথা তোলার সময়ও তাকবীর বলতেন। প্রত্যেক রাক’আতে স্বলাত শেষ করা পর্যন্ত তিনি এরূপই করতেন। দ্বিতীয় রাকাআতে বসার পর ওঠার সময়ও তিনি তাকবীর বলতেন। অতঃপর আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বললেন, আমি তোমাদের সবার তুলনায় অধিক পরিমাণে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুরূপ স্বলাত আদায় করতে পারি।
ইমাম তাকবীর আওয়াজ করে এবং মুসল্লি তাকবীর আস্তে বলা
দলিল নং- ৮১। সহীহ বুখারী হাদিস নং-৮২৫
سَعِيدِ بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ صَلَّى لَنَا أَبُو سَعِيدٍ فَجَهَرَ بِالتَّكْبِيرِ حِينَ رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السُّجُودِ، وَحِينَ سَجَدَ، وَحِينَ رَفَعَ، وَحِينَ قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ وَقَالَ هَكَذَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم.
সা‘ঈদ ইবনু হারিস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আবূ সা‘ঈদ (রাযি.) স্বলাতে আমাদের ইমামতি করেন। তিনি প্রথম সিজদা্ হতে মাথা উঠানোর সময়, দ্বিতীয় সিজদা্ করার সময়, দ্বিতীয় সিজদা্ হতে মাথা উঠানোর সময় এবং দু’ রাক‘আত শেষে (তাশাহ্হুদের বৈঠকের পর) দাঁড়ানোর সময় সশব্দে তাকবীর বলেন। তিনি বলেন, আমি এভাবেই নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে (স্বলাত আদায় করতে) দেখেছি।
দলিল নং- ৮২। সহীহ বুখারী হাদিস নং-১২০০
زَيْدُ بْنُ أَرْقَمَ إِنْ كُنَّا لَنَتَكَلَّمُ فِي الصَّلاَةِ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، يُكَلِّمُ أَحَدُنَا صَاحِبَهُ بِحَاجَتِهِ حَتَّى نَزَلَتْ (حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ) الآيَةَ، فَأُمِرْنَا بِالسُّكُوتِ
যায়দ ইবনু আরক্বাম (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময়ে স্বলাতের মধ্যে কথা বলতাম। আমাদের যে কেউ তার সঙ্গীর সাথে নিজ দরকারী বিষয়ে কথা বলত। অবশেষে এ আয়াত নাযিল হল- ‘‘তোমরা তোমাদের স্বলাতসমূহের সংরক্ষণ কর ও নিয়ানুমবর্তিতা রক্ষা কর; বিশেষ মধ্যবর্তী (‘আসর) সালাতে, আর তোমরা (স্বলাতে) আল্লাহর উদ্দেশে একাগ্রচিত্ত হও’’- (সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ্ ২/২৩৮)। অতঃপর আমরা স্বলাতে নীরব থাকতে আদেশপ্রাপ্ত হলাম।
মন্তব্যঃ এখন অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে মুসুল্লিরা কেন জোড়ে আমিন বলে? তাদের উদ্দেশ্যে বলবো উপরোক্ত হাদিসটি “আম” কিন্তু জোড়ে আমিন বলার জন্য “খাস” ভাবে হাদিস রয়েছে যা নিম্মে আলোচনা করা হবে।
তাকবীরের সময় হাত কতটুকু উত্তোলন করবেন
দলিল নং- ৮৩। সহীহ মুসলিম হাদিস নং-৩৯১
عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا كَبَّرَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا أُذُنَيْهِ وَإِذَا رَكَعَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا أُذُنَيْهِ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ فَقَالَ “ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ” . فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ
মালিক ইবনু হুওয়াইরিস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকবীর বলতেন, কান পর্যন্ত উভয় হাত উত্তোলন করতেন। তিনি যখন রুকূ’তে যেতেন উভয় হাত কান পর্যন্ত উত্তোলন করতেন। তিনি যখন রুকু থেকে মাথা তুলতেন তখন “সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলতেন এবং অনুরূপ (কান পর্যন্ত উভয় হাত উত্তোলন) করতেন।
দলিল নং- ৮৪। সহীহ বুখারী হাদিস নং-৭৩৮
أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ رضى الله عنهما افْتَتَحَ التَّكْبِيرَ فِي الصَّلاَةِ فَرَفَعَ يَدَيْهِ حِينَ يُكَبِّرُ حَتَّى يَجْعَلَهُمَا حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ وَإِذَا كَبَّرَ لِلرُّكُوعِ فَعَلَ مِثْلَهُ وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَعَلَ مِثْلَهُ وَقَالَ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ وَلاَ يَفْعَلُ ذَلِكَ حِينَ يَسْجُدُ وَلاَ حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ مِنْ السُّجُودِ
আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাকবীর দিয়ে সালাত শুরু করতে দেখেছি,তিনি যখন তাকবীর বলতেন তখন তাঁর উভয় হাত উঠাতেন এবং কাঁধ বরাবর করতেন। আর যখন রুকূ’র তাকবীর বলতেন তখনও এ রকম করতেন। আবার যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন, তখনও এ রকম করতেন এবং رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ বলতেন। কিন্তু সিজদা্য় যেতে এ রকম করতেন না। আর সিজদা্ হতে মাথা উঠাবার সময়ও এমন করতেন না।
টিকাঃ হাত কান বরাবর ও কাধ বরাবর উঠানো দুটিই সহীহ হাদিস থেকে পাওয়া যায়। তাই দুটিই আমলযোগ্য।
হাত কোথায় বাঁধবেন
দলিল নং- ৮৫। সহীহ বুখারী হাদিস নং- ৭৪০
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ كَانَ النَّاسُ يُؤْمَرُونَ أَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ الْيَدَ الْيُمْنَى عَلَى ذِرَاعِهِ الْيُسْرَى فِي الصَّلاَةِ
সাহল ইবনু সা‘দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকদের নির্দেশ দেয়া হত যে, স্বলাতে প্রত্যেক ডান হাত বাম হাতের উপর রাখবে।
দলিল নং- ৮৬। আবু দাউদ হাদিস নং ৭৫৯ (হাদিসের মান সহীহ)
عَنْ طَاوُسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَضَعُ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى يَدِهِ الْيُسْرَى ثُمَّ يَشُدُّ بَيْنَهُمَا عَلَى صَدْرِهِ وَهُوَ فِي الصَّلاَةِ
তাউস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযরত অবস্থায় ডান হাত বাম হাতের উপর স্থাপন করে তা নিজের বুকের উপর বেঁধে রাখতেন।
টিকাঃ আমি ব্যক্তিগত ভাবে হাত বাধার ব্যাপারে যতগুলো হাদিস পেয়েছি তার বেশিরভাগ হাদিসে বলা হয়েছে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখবে, অল্প কিছু হাদিসে বলা হয়েছে বুকের উপরে হাত রাখতেন। আর আবু দাউদ এ তিনটি হাদিস পাওয়া যায় ৭৫৬, ৭৫৭, ৭৫৮ নং হাদিস নাভির নিচে হাত বাধার কথা উল্লেখ রয়েছে এই হাদিসগুলোকে আবু দাউদ নিজেই যঈফ বলেছেন। তাই অধিকাংশ আলেমদের মতে স্বলাতে “ডান হাত বাম হাতের উপর রাখবে এই মতটি বেশি গ্রহনযোগ্য। এই ভাবে হাত রাখলে সাধারনত হাত নাভির উপরে থাকে।
সানা পড়া
দলিল নং- ৮৭। সহীহ বুখারী হাদিস নং ৭৪৪
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عُمَارَةُ بْنُ الْقَعْقَاعِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْكُتُ بَيْنَ التَّكْبِيرِ وَبَيْنَ الْقِرَاءَةِ إِسْكَاتَةً ـ قَالَ أَحْسِبُهُ قَالَ هُنَيَّةً ـ فَقُلْتُ بِأَبِي وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِسْكَاتُكَ بَيْنَ التَّكْبِيرِ وَالْقِرَاءَةِ مَا تَقُولُ قَالَ “ أَقُولُ اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنَ الْخَطَايَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، اللَّهُمَّ اغْسِلْ خَطَايَاىَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ ”.
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীরে তাহরীমা ও ক্বিরাআতের মধ্যে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকতেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার মাতাপিতা আপনার উপর কুরবান হোক, তাকবীর ও কিরাআত এর মধ্যে চুপ থাকার সময় আপনি কী পাঠ করে থাকেন? তিনি বললেনঃ এ সময় আমি বলি-
‘‘হে আল্লাহ! আমার এবং আমার গুনাহের মধ্যে এমন ব্যবধান করে দাও যেমন ব্যবধান করেছ পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ আমাকে আমার গুনাহ হতে এমনভাবে পবিত্র কর যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার হয়। হে আল্লাহ আমার গোনাহকে বরফ, পানি ও শিশির দ্বারা ধৌত করে দাও।’’ (মুসলিম ৫/২৭, হাঃ ৫৯৮, আহমাদ ৭১৬৭)
দোয়াটি হলোঃ
اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنَ الْخَطَايَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، اللَّهُمَّ اغْسِلْ خَطَايَاىَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ
অর্থঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমার এবং আমার গুনাহের মধ্যে এমন ব্যবধান করে দাও যেমন ব্যবধান করেছ পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ আমাকে আমার গুনাহ হতে এমনভাবে পবিত্র কর যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার হয়। হে আল্লাহ আমার গোনাহকে বরফ, পানি ও শিশির দ্বারা ধৌত করে দাও।’’
দলিল নং- ৮৮। সহীহ মুসলিম হাদিস নং ৭৭১
عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ قَالَ ” وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَاىَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ
আলী ইবনু আবূ তুলিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সালাত আদায় করতে দাঁড়াতেন তখন এ বলে শুরু করতেনঃ
আমি একনিষ্ঠ হয়ে আমার মুখ সে মহান সত্তার দিকে ফিরিয়ে নিলাম যিনি আসমান ও জমিনকে সৃষ্টি করেছেন। আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও মৃত্যু সবকিছুই আল্লাহর জন্য যিনি বিশ্বজাহানের প্রতিপালক। তার কোন শারীক নেই। আমি এ জন্যই আদিষ্ট হয়েছি। আমি মুসলিম বা আত্মসমর্পণকারী।
দোয়াটি হলোঃ
“ وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَاىَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ
অর্থঃ আমি একনিষ্ঠ হয়ে আমার মুখ সে মহান সত্তার দিকে ফিরিয়ে নিলাম যিনি আসমান ও জমিনকে সৃষ্টি করেছেন। আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। আমার স্বলাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও মৃত্যু সবকিছুই আল্লাহর জন্য যিনি বিশ্বজাহানের প্রতিপালক। তার কোন শারীক নেই। আমি এ জন্যই আদিষ্ট হয়েছি। আমি মুসলিম বা আত্মসমর্পণকারী।
দলিল নং- ৮৯। আবু দাউদ হাদিস নং ৭৭৫ (হাদিসের মান সহীহ)
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ كَبَّرَ ثُمَّ يَقُولُ ” سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ ” . ثُمَّ يَقُولُ ” لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ” . ثَلاَثًا ثُمَّ يَقُولُ ” اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا ” . ثَلاَثًا ” أَعُوذُ بِاللَّهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ ” . ثُمَّ يَقْرَأُ
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রাত্রিকালে স্বলাত আদায় করার জন্য দন্ডায়মান হতেন, তখন তাকবীর তাহরীমা বলার পর এই দু’আ পাঠ করতেনঃ “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তা’আলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গায়রুকা।” অতঃপর তিনি তিনবার “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলতেন এবং “আল্লাহু আকবার কাবীরান” তিনবার বলার পর “আউযুবিল্লাহিস সামীইল-আলীম মীনাস শাইতানের রজীম মিন হামযিহি ওয়া নাফখিহি ওয়া নাফছিহি” বলতেন, অতঃপর ক্বিরাআত পাঠ করতেন।
দোয়াটি হলোঃ
“ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ “
অর্থঃ হে আল্লাহ্! আমি তোমার পবিত্র’তা বর্ণনা করছি। তুমি প্রশংসা’ময়, তোমার নাম বরকত’ময়, তোমার মর্যাদা অতি উচ্চে, আর তুমি ব্যতীত সত্যিকার কোনো মাবুদ নেই।
টিকাঃ আমরা অনেকে শুধুমাত্র একটি সানা পরে থাকি কিন্তু সহীহ হাদিস থেকে দেখা যায় রসুল (সঃ) একাধিক সানা পড়েছেন। তাই আমাদের এই সুন্নাতটি গ্রহন করা উচিত।
আউজুবিল্লাহ… পড়া
দলিল নং- ৯০। সুরা আন নাহাল আয়াত ৯৮
فَاِذَا قَرَاۡتَ الۡقُرۡاٰنَ فَاسۡتَعِذۡ بِاللّٰهِ مِنَ الشَّیۡطٰنِ الرَّجِیۡمِ
“সুতরাং যখন আপনি কুরআন পাঠ করবেন, তখন অভিশপ্ত শয়তান হতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করুন”
দলিল নং- ৯১। আবু দাউদ হাদিস নং ৭৭৫ (হাদিসের মান সহীহ)
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ كَبَّرَ ثُمَّ يَقُولُ ” سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ ” . ثُمَّ يَقُولُ ” لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ” . ثَلاَثًا ثُمَّ يَقُولُ ” اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا ” . ثَلاَثًا ” أَعُوذُ بِاللَّهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ ” . ثُمَّ يَقْرَأُ
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রাত্রিকালে স্বলাত আদায় করার জন্য দন্ডায়মান হতেন, তখন তাকবীর তাহরীমা বলার পর এই দু’আ পাঠ করতেনঃ “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তা’আলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গায়রুকা।” অতঃপর তিনি তিনবার “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলতেন এবং “আল্লাহু আকবার কাবীরান” তিনবার বলার পর “আউযুবিল্লাহিস সামীইল-আলীম মীনাস শাইতানের রজীম মিন হামযিহি ওয়া নাফখিহি ওয়া নাফছিহি” বলতেন, অতঃপর ক্বিরাআত পাঠ করতেন।
টিকাঃ উপরোক্ত আয়াত ও হাদিস থেকে বুঝা যায় কুরআন পাঠ করা শুরুতে অভিশপ্ত শয়তান হতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে। তাই স্বালাতের শুরুতে সানার পরে “ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ পড়া যাবে।
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পড়া
দলিল নং- ৯২। সুরা আন নামলের ৩০ নং আয়াত
اِنَّهٗ مِنۡ سُلَیۡمٰنَ وَ اِنَّهٗ بِسۡمِ اللّٰهِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
“নিশ্চয় এটা সুলাইমানের কাছ থেকে এবং নিশ্চয় এটা রহমান, রহীম আল্লাহর নামে”
বিসমিল্লাহ পড়া নিয়ে মতবেদ রয়েছে,
বিসমিল্লাহ্ পড়া মুস্তাহাব; ওয়াজিব নয়। যদি সূরার প্রথম থেকে পড়ে সেক্ষেত্রে বিসমিল্লাহ্ পড়া মুস্তাহাব। মুসল্লি সূরা ফাতিহা পড়ার আগে বিসমিল্লাহ্ পড়বে। পক্ষান্তরে, সূরা ফাতিহার পরের তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে যদি কোন সূরার শুরু থেকে পড়ে তাহলে বিসমিল্লাহ্ পড়বে; তবে সূরা তাওবা ছাড়া। কেননা সূরা তাওবার প্রথমে বিসমিল্লাহ্ পড়া যায় না। আর যদি কোন সূরার মাঝখান থেকে পড়ে তাহলে বিসমিল্লাহ্ পড়া মুস্তাহাব নয়।
সুরা ফাতেহা পড়া
দলিল নং- ৯৩। সহীহ মুসলিম হাদিস নং ৩৯৫
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ” مَنْ صَلَّى صَلاَةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَهْىَ خِدَاجٌ – ثَلاَثًا – غَيْرُ تَمَامٍ ” . فَقِيلَ لأَبِي هُرَيْرَةَ إِنَّا نَكُونُ وَرَاءَ الإِمَامِ . فَقَالَ اقْرَأْ بِهَا فِي نَفْسِكَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ” قَالَ اللَّهُ تَعَالَى قَسَمْتُ الصَّلاَةَ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي نِصْفَيْنِ وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ فَإِذَا قَالَ الْعَبْدُ ( الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ) . قَالَ اللَّهُ تَعَالَى حَمِدَنِي عَبْدِي وَإِذَا قَالَ ( الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) . قَالَ اللَّهُ تَعَالَى أَثْنَى عَلَىَّ عَبْدِي . وَإِذَا قَالَ ( مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ) . قَالَ مَجَّدَنِي عَبْدِي – وَقَالَ مَرَّةً فَوَّضَ إِلَىَّ عَبْدِي – فَإِذَا قَالَ ( إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ) . قَالَ هَذَا بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ . فَإِذَا قَالَ ( اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ * صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ) . قَالَ هَذَا لِعَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ ”
আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি স্বলাত আদায় করল অথচ তাতে উন্মুল কুরআন (সূরাহ ফা-তিহাহ্) পাঠ করেনি তার স্বলাত ত্রুটিপূর্ণ থেকে গেল, পূর্ণাঙ্গ হল না। এ কথাটা তিনবার বলেছেন। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করা হল, আমরা যখন ইমামের পিছনে স্বলাত আদায় করব তখন কী করব? তিনি বললেন, তোমরা চুপে চুপে তা পড়ে নাও। কেননা আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, মহান আল্লাহ বলেছেনঃ আমার এবং আমার বান্দার মাঝে আমি স্বলাতকে অর্ধেক অর্ধেক করে ভাগ করে নিয়েছি এবং আমার বান্দার জন্য রয়েছে সে যা চায়। বান্দা যখন বলে, الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য), আল্লাহ তা’আলা তখন বলেনঃ আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। সে যখন বলে, الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (তিনি অতিশয় দয়ালু এবং করুণাময়); আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ বান্দা আমার প্রশংসা করেছে, গুণগান করেছে। সে যখন বলে, مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ (তিনি বিচার দিনের মালিক), তখন আল্লাহ বলেনঃ আমার বান্দা আমার গুণ বর্ণনা করেছে আল্লাহ আরো বলেনঃ বান্দা তার সমস্ত কাজ আমার উপর সমর্পণ করেছে। সে যখন বলে, إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং তোমারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি) তখন আল্লাহ বলেন। এটা আমার এবং আমার বান্দার মধ্যকার ব্যাপার। (এখন) আমার বান্দার জন্য রয়েছে সে যা চায়। যখন সে বলে,اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ * صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ (আমাদের সরল-সঠিক পথে পরিচালনা করুন। যেসব লোকদের আপনি নি’আমাত দান করেছেন, তাদের পথে নয় যাদের প্রতি আপনার গযব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে; তখন আল্লাহ বলেনঃ এসবই আমার বান্দার জন্যে এবং আমার বান্দার জন্যে রয়েছে সে যা চায়।
দলিল নং- ৯৪। সহীহ বুখারী হাদিস নং ৭৫৬
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ.
উবাদাহ ইবনু সমিত (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, রসুলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি স্বলাতে সূরাহ্ আল-ফাতিহা পড়ল না তার স্বলাত হলো না।
দলিল নং- ৯৫। আবু দাউদ হাদিস নং ৮২২ (হাদিসের মান সহীহ)
عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ “ لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَصَاعِدًا
উবাদা ইবনুস-সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। এই হাদীছের সনদ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌছেছে। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে অতিরিক্ত কিছু পাঠ না করবে, তার স্বলাত পূর্ণাংগ হবে না।
দলিল নং- ৯৬। সুনানে আদ দারাকুতনী হাদিস নং- ১১৮৩ (হাদিসের মান সহীহ)
عَنْ يَزِيدَ بْنِ شَرِيكٍ ؛ أَنَّهُ سَأَلَ عُمَرَ عَنِ الْقِرَاءَةِ خَلْفَ الْإِمَامِ ، فَقَالَ : اقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ ، قُلْتُ : وَإِنْ كُنْتَ أَنْتَ ؟ قَالَ : وَإِنْ كُنْتُ أَنَا ، قُلْتُ : وَإِنْ جَهَرْتَ ؟ قَالَ : وَإِنْ جَهَرْتُ ، رُوَاتُهُ كُلُّهُمْ ثِقَاتٌ
ইয়াযীদ ইবনে শারীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উমার (রাঃ)-এর নিকট ইমামের পিছনে ক্বিরাআত পাঠ করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেন, তুমি ফাতিহাতুল কিতাব পড়ো। আমি বললাম, যদি আপনি (ইমাম) হন? তিনি বললেন, যদিও আমি (ইমাম) হই (তবুও) । আমি বললাম, যদি আপনি সশব্দে (ক্বিরাআত) পড়েন? তিনি বলেন, যদিও আমি সশব্দে (ক্বিরাআত) পড়ি। এই হাদীসের সমস্ত রাবী নির্ভরযোগ্য।
মন্তব্যঃ প্রতি রাকাতে সুরা ফাতিহা পাঠ করা আবশ্যক। রসুল (সঃ) সাহাবীদেরকে সুরা ফাতিহা পাঠ করার জন্য সাকতা করতেন বা সময় দিতেন দুইবার। সুরা ফাতিহা শুরু করার পূর্বে এবং রুকু যাওয়ার পুর্বে এতে তাদের সুরা ফাতিহা পাঠ করা হয়ে যেত এবং সাথে সাথে তিলাওয়াত ও শুনা হতো কিন্তু আমরা আজ সুরা ফাতিহা পাঠ করার সময় পায়না। সুরা আরাফ এর ২০৪ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, وَ اِذَا قُرِیٴَ الۡقُرۡاٰنُ فَاسۡتَمِعُوۡا لَهٗ وَ اَنۡصِتُوۡا لَعَلَّكُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ অর্থঃ আর যখন কুরআন পাঠ করা হয় তখন তোমরা মনোযোগের সাথে তা শুন এবং নিশ্চুপ হয়ে থাক যাতে তোমাদের প্রতি দয়া করা হয়।
এই আয়াতের উপর ভিত্তি করে অনেক আলেম সুরা ফাতিহা পাঠ করতে নিষেধ করে। তাদেরকে প্রশ্ন, আপনারা যখন শব্দ করে তিলাওয়াত করেন তখন মুসুল্লিরা শুনে এতে এই আয়াতের আমল হয় কিন্তু যখন নীরব তিলাওয়াত করেন তখন মুসুল্লিরা কি করবে? জবাব নেই।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে আমি যা করি, যেসকল রাকাতে ইমাম শব্দ করে তিলাওয়াত করেন সে সকল রাকাতে যদি ইমাম রসুল (সঃ) এর সুন্নাত অনুযায়ী সাকতা করেন বা সময় দেন তাহলে সাকতার সময় আমি সুরা ফাতেহা পড়ে নেই। আর যদি সুযোগ না পায় তাহলে শব্দ করে তিলাওয়াত করা রাকাতে সুরা ফাতেহা পড়িনা। যা সুরা আরাফের ২০৪ নং আয়াতের নির্দেশ। আর যে সকল রাকাতে ইমাম নিঃশব্দে সুরা পড়েন সে সকল রাকাতে আমি সুরা ফাতিহা পড়ি ও অন্য সুরা বা আয়াত মিলিয়ে থাকি।

স্বলাতের সময় সম্পর্কে সঠিক ধারনা (পর্ব-০৮)
তায়াম্মুম সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন (পর্ব-০৭)
গোসল সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন (পর্ব-০৬)
ত্বহারাত বা পবিত্রতা (অযু)-দ্বিতীয় অধ্যায় (পর্ব-০৫)
ইমান ভঙ্গের কারনসমূহ (পর্ব-০৪)
জ্ঞান অর্জন ও ঈমান – প্রথম অধ্যায় (পর্ব-০৩)
ISLAMIC DAWAH FOUNDATION The truth is revealed to Islam