Saturday , August 29 2026

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-১২)

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পূর্বের পাঠ)

সালাম ফিরানোর পরের দোয়া

দলিল নং- ১৩৫ সহীহ মুসলিম হাদিস নং ৫৯১

عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا انْصَرَفَ مِنْ صَلاَتِهِ اسْتَغْفَرَ ثَلاَثًا وَقَالَ ‏ “‏ اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ ‏”‏

সাওবান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বলাত শেষ করে তিনবার ইসতিগফার করতেন এবং বলতেন-অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমিই শান্তিময় এবং তোমার থেকে শান্তি আসে। তুমি কল্যাণময় এবং সম্মান ও প্রতিপত্তির অধিকারী ।

দোয়াটি হলোঃ

اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ

অর্থঃ  হে আল্লাহ! তুমিই শান্তিময় এবং তোমার থেকে শান্তি আসে। তুমি কল্যাণময় এবং সম্মান ও প্রতিপত্তির অধিকারী ।

দলিল নং- ১৩৬ সহিহ বুখারী হাদিস নং ৮৪৪

 أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلاَةٍ مَكْتُوبَةٍ ‏ “‏ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهْوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ، اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ

নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ফরজ স্বলাতের পর বলতেনঃ

দোয়াটি হলোঃ

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهْوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ، اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ

অর্থঃ ’’এক আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই, সার্বভৌমত্ব একমাত্র তাঁরই, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র তাঁরই জন্য, তিনি সব কিছুর উপরই ক্ষমতাশীল। হে আল্লাহ্! আপনি যা প্রদান করতে চান তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা প্রদান করার কেউ নেই। আপনার নিকট (সৎকাজ ভিন্ন) কোন সম্পদশালীর সম্পদ উপকারে আসে না।’’

দলিল নং- ১৩৭ সহীহ মুসলিম হাদিস নং ৫৯৬

দোয়াটি হলোঃ

دُبُرَ كُلِّ صَلاَةٍ مَكْتُوبَةٍ ثَلاَثٌ وَثَلاَثُونَ تَسْبِيحَةً وَثَلاَثٌ وَثَلاَثُونَ تَحْمِيدَةً وَأَرْبَعٌ وَثَلاَثُونَ تَكْبِيرَةً

অর্থঃ প্রত্যেক ফারয (ফরয) স্বলাতের পরে কিছু দু’আ আছে, তা হলোঃ তেত্রিশবার তাসবীহ (আলহামদু লিল্লা-হ) পড়া, তেত্রিশবার তাহমীদ (সুবহা-নাল্ল-হ) পাঠ করা এবং চৌত্রিশবার তাকবীর (আল্ল-হু আকবার) পাঠ করা

দলিল নং- ১৩৮ সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহিব হাদিস নং ১৫৯৫ (হাদিসের মান সহীহ)

যে ব্যাক্তি পাঁচ ওয়াক্ত স্বলাতের পরে আয়াতুল কুরছি পরবে তার জান্নাতে যাওয়ার জন্য বাধা হয় শুধু মৃত্যু।

দোয়াটি হলোঃ

اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَۚ اَلۡحَیُّ الۡقَیُّوۡمُ ۬ۚ لَا تَاۡخُذُهٗ سِنَۃٌ وَّ لَا نَوۡمٌ ؕ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ مَنۡ ذَا الَّذِیۡ یَشۡفَعُ عِنۡدَهٗۤ اِلَّا بِاِذۡنِهٖ ؕ یَعۡلَمُ مَا بَیۡنَ اَیۡدِیۡهِمۡ وَ مَا خَلۡفَهُمۡ ۚ وَ لَا یُحِیۡطُوۡنَ بِشَیۡءٍ مِّنۡ عِلۡمِهٖۤ اِلَّا بِمَا شَآءَ ۚ وَسِعَ کُرۡسِیُّهُ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ ۚ وَ لَا یَـُٔوۡدُهٗ حِفۡظُهُمَا ۚ وَ هُوَ الۡعَلِیُّ الۡعَظِیۡمُ

অর্থঃ আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্ৰাও নয়। আসমানসমূহে যা রয়েছে ও যমীনে যা রয়েছে সবই তার কে সে, যে তার অনুমতি ব্যতীত তার কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পিছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। আর যা তিনি ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তার জ্ঞানের কোন কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। তার কুরসী আসমানসমূহ ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে; আর এ দু’টোর রক্ষণাবেক্ষণ তার জন্য বোঝা হয় না। আর তিনি সুউচ্চ সুমহান।

দলিল নং- ১৩৯ সহীহ বুখারী হাদিস নং ২৮২২

 إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَعَوَّذُ مِنْهُنَّ دُبُرَ الصَّلَاةِ اللَّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ الْجُبْنِ وَأَعُوْذُ بِكَ أَنْ أُرَدَّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ 

আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বলাতের পর এগুলো থেকে পানাহ চাইতেন, ‘হে আল্লাহ্! আমি ভীরুতা, অতি বার্ধক্য, দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের শাস্তি থেকে আপনার নিকট পানাহ চাই।’

দোয়াটি হলোঃ

اللَّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ الْجُبْنِ وَأَعُوْذُ بِكَ أَنْ أُرَدَّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ

হে আল্লাহ্! আমি ভীরুতা, অতি বার্ধক্য, দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের শাস্তি থেকে আপনার নিকট পানাহ চাই।’

সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার

যে ব্যক্তি দিনে (সকালে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ ইসতিগফার পড়বে আর সন্ধ্যা হবার আগেই সে মারা যাবে, সে জান্নাতী হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে (প্রথম ভাগে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ দু’আ পড়ে নেবে আর সে ভোর হবার আগেই মারা যাবে সে জান্নাতী হবে।

দলিল নং- ১৪০ সহীহ বুখারী হাদিস নং ৬৩০৬

شَدَّادُ بْنُ أَوْسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم سَيِّدُ الِاسْتِغْفَارِ أَنْ تَقُولَ اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلٰى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّه“ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ قَالَ وَمَنْ قَالَهَا مِنْ النَّهَارِ مُوقِنًا بِهَا فَمَاتَ مِنْ يَوْمِه„ قَبْلَ أَنْ يُمْسِيَ فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَمَنْ قَالَهَا مِنْ اللَّيْلِ وَهُوَ مُوقِنٌ بِهَا فَمَاتَ قَبْلَ أَنْ يُصْبِح فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ

শাদ্দাদ ইবনু আউস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার হলো বান্দার এ দু’আ পড়া-

’’হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নি’য়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা কর।’’

যে ব্যক্তি দিনে (সকালে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ ইসতিগফার পড়বে আর সন্ধ্যা হবার আগেই সে মারা যাবে, সে জান্নাতী হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে (প্রথম ভাগে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ দু’আ পড়ে নেবে আর সে ভোর হবার আগেই মারা যাবে সে জান্নাতী হবে।

দোয়াটি হলোঃ

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلٰى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّه لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ

অর্থঃ ’’হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নি’য়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা কর।’’

সিজদায়ে সাহূ এর নিয়ম

সাহু সিজদা সংবিধিবদ্ধ করার পিছনে রহস্য হল এই যে, এটা নামাযের মধ্যে যে ত্রুটি হয় তার পূর্ণতা দান করে

দলিল নং- ১৪১ সহীহ বুখারী হাদিস নং ১২২৪

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ بُحَيْنَةَ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّهُ قَالَ صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَيْنِ مِنْ بَعْضِ الصَّلَوَاتِ ثُمَّ قَامَ فَلَمْ يَجْلِسْ، فَقَامَ النَّاسُ مَعَهُ، فَلَمَّا قَضَى صَلاَتَهُ وَنَظَرْنَا تَسْلِيمَهُ كَبَّرَ قَبْلَ التَّسْلِيمِ فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ ثُمَّ سَلَّمَ

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু বুহায়নাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক স্বলাতে আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’রাক‘আত আদায় করে না বসে দাঁড়িয়ে গেলেন। মুসল্লীগণ তাঁর সঙ্গে দাঁড়িয়ে গেলেন। যখন তাঁর স্বলাত সমাপ্ত করার সময় হলো এবং আমরা তাঁর সালাম ফিরানোর অপেক্ষা করছিলাম, তখন তিনি সালাম ফিরানোর পূর্বে তাকবীর বলে বসে বসেই দু’টি সিজদা্ করলেন। অতঃপর সালাম ফিরালেন।

দলিল নং- ১৪২ সহীহ বুখারী হাদিস নং ১২২৬

عَنْ عَبْدِ اللهِأَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الظُّهْرَ خَمْسًا فَقِيلَ لَهُ أَزِيدَ فِي الصَّلاَةِ فَقَالَ وَمَا ذَاكَ قَالَ صَلَّيْتَ خَمْسًا فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ بَعْدَ مَا سَلَّمَ

‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের স্বলাত পাঁচ রাক‘আত আদায় করলেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, স্বলাত কি বৃদ্ধি করা হয়েছে? তিনি বললেন, এ প্রশ্ন কেন? (প্রশ্নকারী) বললেন, আপনি তো পাঁচ রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। অতএব তিনি সালাম ফিরানোর পর দু’টি সিজদা্ করলেন।

দলিল নং- ১৪৩ সুনান আত তিরমিজী হাদিস নং ৩৯৫ (হাদিসের মান যঈফ)

عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى بِهِمْ فَسَهَا فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ تَشَهَّدَ ثُمَّ سَلَّمَ

ইমরান হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার তাদের নিয়ে স্বলাত আদায় করলেন। এতে তাঁর সাহু (ভুল) হয়ে গেল। অনন্তর তিনি সিজদা সাহু করলেন। এরপর তাশাহ্হুদ পাঠ করে সালাম ফিরালেন।

মন্তব্যঃ সালাম ফিরানোর পূর্বে ও পরে এই দুইভাবে সিজদায়ে সাহু দেওয়া যায়। তবে একদিকে সালাম ফিরানোর পরে সিজদায়ে সাহু দেওয়া আবার তাশাহুদ পড়ে সালাম ফিরানো যে নিয়মটি রয়েছে তার ব্যাপারে উপরের সুনান আত তিরমিজী হাদিস নং ৩৯৫ (হাদিসের মান যঈফ) এই হাদিস যঈফ হওয়ার কারনে অধিকাংশ ইমাম এইমতটি গ্রহন করেন নি।  

তিনটি কারণে স্বলাতে সাহু সিজদা দিতে হয়ঃ

১) স্বলাতে বৃদ্ধি হওয়া। যেমন, কোন রুকূ বা সিজদা বা বসা ইত্যাদি বৃদ্ধি হওয়া।

২) হ্রাস হওয়া। কোন রুকন বা ওয়াজিব কম হওয়া।

৩) সন্দেহ হওয়া। কত রাকাত পড়েছে তিন না চার এব্যাপারে সংশয় হওয়া।

প্রথমতঃ স্বলাতে বৃদ্ধি হওয়া:

মুছল্লী যদি স্বলাতের অন্তর্ভুক্ত এমন কিছু কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে বৃদ্ধি করে যেমনঃ দাঁড়ানো, বসা, রুকূ‘, সিজদা ইত্যাদি- যেমন দু‘বার করে রুকূ করা, তিন বার সিজদা করা, অথবা যোহর পাঁচ রাকাত আদায় করা। তবে তার স্বলাত বাতিল বা ভঙ্গ হয়ে যাবে। কেননা সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের বিপরীত আমল করেছে। নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন

مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ

“যে ব্যক্তি এমন আমল করবে, যার পক্ষে আমাদের নির্দেশনা নেই, তবে উহা প্রত্যাখ্যাত।”

কিন্তু যদি ভুলবশতঃ তা করে এবং ঐভাবেই স্বলাত শেষ করে দেয়ার পর স্মরণ হয় যে, স্বলাতে বৃদ্ধি হয়ে গেছে, তবে শুধুমাত্র সাহু সিজদা করবে। তার স্বলাতও বিশুদ্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু স্বলাতরত অবস্থায় যদি উক্ত বৃদ্ধি স্মরণ হয়- যেমন চার রাকাআত শেষ করে পাঁচ রাকাআতের জন্য দাঁড়িয়ে গেছে- তবে সে ফিরে আসবে এবং শেষে সিজদায়ে সাহু করবে।

উদাহরণ: জনৈক ব্যক্তি যোহরের স্বলাত পাঁচ রাকাআত আদায় করে নিয়েছে। কিন্তু শেষ তাশাহুদে বসার সময় এ বৃদ্ধির কথা তার স্মরণ হল, তাহলে সে তাশাহুদ পূর্ণ করবে এবং সালাম ফেরাবে। তারপর সাহু সিজদা করবে এবং সালাম ফিরাবে। আর যদি সালাম ফেরানোর পর তা স্মরণ হয়, তবে সাহু সিজদা করবে এবং সালাম ফিরাবে আর যদি পঞ্চম রাকাআত চলা অবস্থায় স্মরণ হয় তবে তখনই বসে পড়বে এবং তাশাহুদ পড়ে সালাম ফেরাবে। তারপর সিজদায়ে সাহু করে আবার সালাম ফেরাবে।

দলীল

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ صَلَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الظُّهْرَ خَمْسًا فَقَالُوا أَزِيدَ فِي الصَّلَاةِ؟ قَالَ: وَمَا ذَاكَ؟ قَالُوا: صَلَّيْتَ خَمْسًا، فسجد سجدتين بعد ما سلم. وفي رواية: فَثَنَى رِجْلَيْهِ وَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثم سلم

আবদুল্লাহ্‌ বিন মাসঊদ (রা:) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যোহরের স্বলাত পাঁচ রাক্‌আত পড়লেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হল, স্বলাত কি বৃদ্ধি করা হয়েছে? তিনি বললেন, কিভাবে? তাঁরা বললেন, আপনি আজ পাঁচ রাকাআত পড়েছেন। তখন তিনি দু‘টি সিজদা করলেন। অন্য রেওয়ায়াতে এসেছে, তখন তিনি পা গুটিয়ে ক্বিবলামুখি হলেন, দু‘টি সিজদা করলেন অত:পর সালাম ফেরালেন।

স্বলাত পূর্ণ হওয়ার আগেই সালাম ফেরানো

স্বলাত পূর্ণ হওয়ার আগেই সালাম ফেরানো স্বলাতে বৃদ্ধি করার অন্তর্গত। কেননা স্বলাতরত অবস্থায় সে সালামকে বৃদ্ধি করেছে। একাজ যদি ইচ্ছাকৃত করে তবে স্বলাত বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি ভুলক্রমে হয়, কিন্তু অনেক পরে তার এ ভুলের কথা মনে পড়ল তবে স্বলাত পুনরায় ফিরিয়ে পড়বে। আর যদি একটু পরেই (যেমন দু/এক মিনিট) তবে সে অবশিষ্ট স্বলাত পূর্ণ করবে এবং সালাম ফিরাবে। অতঃপর সাহু সিজদা করে সালাম ফিরাবে।

দলীল:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِي اللَّه عَنْه أّنّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى بِهم الظُّهْرَ أو العصر فسَلَّمَ من رَكْعَتَيْنِ فَخَرَجَ سَرَعَانُ من أبواب الْمَسْجِدِ يقولون: قَصُرَتِ الصَّلاَةُ وَقَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى خَشَبَةٍ الْمَسْجِدِ فاتكأَ عَلَيْهَا كأنه غضبانَ، فقام رجل فَقَالَ يَا رسول الله: أَنَسِيتَ أَمْ قَصُرَتْ الصَّلاَةُ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَمْ أَنْسَ وَلَمْ تَقْصُرْ، فقال الرجل: بَلي نَسِيتَ فقال النَّبِيُّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ للصحابة: أَحقٌّ ما يقول؟ قَالُوا: نعم، فتقدم النَّبِيُّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَصَلَّى ما بقي من صلاته، ثم سلم ثم سجد سجدتين ثم سلم

আবু হুরায়রা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে নিয়ে যোহর অথবা আছরের স্বলাত আদায় করলেন। কিন্তু দু‘রাকাআত আদায় করেই সালাম ফিরিয়ে দিলেন। কিছু লোক দ্রুত মসিজদ থেকে একথা বলতে বলতে বের হয়ে গেল যে, স্বলাত সংক্ষিপ্ত হয়ে গেছে। নবীজিও (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদের এক খুঁটির কাছে গিয়ে তাতে হেলান দিয়ে বসে পড়লেন। মনে হচ্ছিল তিনি যেন রাগন্বিত। জনৈক ব্যক্তি তাঁর কাছে গিয়ে বলল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনি কি ভুলে গেছেন, নাকি স্বলাত সংক্ষিপ্ত করে দেয়া হয়েছে? নাবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি তো ভুলিনি, আর স্বলাতও সংক্ষিপ্ত করা হয়নি। লোকটি বলল, বরং আপনি ভুলেই গিয়েছেন। (কারণ আপনি দু‘রাকাআত স্বলাত আদায় করেছেন।) নাবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, একি সত্য বলছে? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। তখন নাবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবার দাঁড়িয়ে পড়লেন এবং অবশিষ্ট দু‘রাকাআত আদায় করে তাশাহুদ পড়ে সালাম ফিরলেন। তারপর দু‘টি সিজদা করলেন অতঃপর সালাম ফেরালেন।

দ্বিতীয়ত: স্বলাতে হ্রাস হওয়া:

ক) রুকন হ্রাস হওয়া:

মুছল্লী যদি কোন রুকন কম করে ফেলে- উক্ত রুকন যদি তাকবীরে তাহরিমা (স্বলাত শুরু করার তাকবীর) হয়, তবে তার স্বলাতই হবে না। চাই উহা ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিক বা ভুলক্রমে ছেড়ে দিক। কেননা তার স্বলাতই তো শুরু হয়নি।

আর উক্ত রুকন যদি তাকবীরে তাহরিমা ব্যতীত অন্য কিছু হয় আর তা ইচ্ছাকৃত হয় তবে তার স্বলাত বাতিল বা ভঙ্গ হয়ে যাবে।

কিন্তু যদি অনিচ্ছাকৃত বা ভুলক্রমে কোন রুকন ছুটে যায়- যেমন প্রথম রাকাআতে কোন রুকন ছুটে গেল, এখন যদি দ্বিতীয় রাকাআতে সেই ছুটে যাওয়া রুকনের নিকট পৌঁছে যায়- তবে এঅবস্থায় আগের রাকাআত বাতিল হয়ে যাবে এবং এটাকে প্রথম রাকাআত গণ্য করবে এবং বাকী অংশ পূরা করে সাহু সিজদা দিবে।

কিন্তু যদি দ্বিতীয় রাকাআতে ছুটে যাওয়া সেই রুকনে না পৌঁছে, তবে ছুটে যাওয়া রুকনটি আগে আদায় করবে তারপর বাকী অংশগুলো আদায় করবে এবং সাহু সিজদা দিবে

উদাহরণ: জনৈক মুছল্লী প্রথম রাকাআতের দ্বিতীয় সিজদাটি ভুলে গেল। যখন সেকথা স্মরণ হল, তখন সে দ্বিতীয় রাকাআতের দু‘সিজদার মধ্যবর্তি স্থানে বসেছে। এঅবস্থায় আগের রাকাতটি বাতিল হয়ে যাবে এবং এটাকে প্রথম রাকাত গণ্য করে অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করে স্বলাত শেষে সাহু সিজদা করবে।

আর একটি উদাহরণ: জনৈক ব্যক্তি প্রথম রাকাআতে একটি মাত্র সিজদা করেছে। তারপর দ্বিতীয় সিজদা না করেই দাঁড়িয়ে পড়েছে। অতঃপর দ্বিতীয় রাকাতে রুকূ করার পর সেই ভুলের কথা স্মরণ হয়েছে, তবে সে বসে পড়বে এবং সেই ছুটে যাওয়া সিজদা দিবে এবং সেখান থেকে স্বলাতের বাকী অংশ পূর্ণ করে সালাম ফিরাবে। তারপর সাহু সিজদা করে সালাম ফিরাবে।

খ) কোন ওয়াজিব হ্রাস হওয়া:

মুছল্লী যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন ওয়াজিব পরিত্যাগ করে তবে তার স্বলাত বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি ভুলক্রমে হয় আর উক্ত স্থান ছেড়ে যাওয়ার আগেই যদি স্মরণ হয়ে যায় তবে তা আদায় করবে এতে কোন দোষ নেই- সাহু সিজদা দিতে হবে না। কিন্তু যদি উক্ত ওয়াজিব ছেড়ে পরবর্তী রুকন শুরু করার আগেই স্মরণ হয়ে যায় তবে ফিরে গিয়ে সেই ওয়াজিব আদায় করবে এবং শেষে সাহু সিজদা করবে। কিন্তু পরবর্তী রুকন শুরু করার পর যদি স্মরণ হয় তবে উক্ত ছুটে যাওয়া ওয়াজিব রহিত হয়ে যাবে। অবশিষ্ট স্বলাত আদায় করে সালামের পূর্বে সাহু সিজদা করলেই স্বলাত পূর্ণ হয়ে যাবে।

উদাহরণ: একজন মুছল্লী দ্বিতীয় রাকাতের দ্বিতীয় সিজদা থেকে উঠে না বসে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াতে যাচ্ছে। এমন সময় স্মরণ হল নিজ ভুলের কথা। তখন সে বসে পড়বে এবং তাশাহুদ পড়ে স্বলাত পূর্ণ করবে। কোন সাহু সিজদা লাগবে না।

আর যদি কিছুটা দাঁড়ায় কিন্তু পরিপূর্ণরূপে দাঁড়ায়নি তবে সে বসে যাবে এবং তাশাহুদ পড়বে ও স্বলাত শেষে সাহু সিজদা করে সালাম ফিরাবে। কিন্তু যদি পূর্ণরূপে দাঁড়িয়ে পড়ে তবে আর বসবে না। তাশাহুদ রহিত হযে যাবে। ঐভাবেই স্বলাত পূর্ণ করবে এবং সলাম ফিরানোর পূর্বে সাহু সিজদা করবে। 

দলীল:

عَنْ عَبْدِاللَّهِ ابْنِ بُحَيْنَةَ قَالَ صَلَّى بِنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَامَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ قَبْلَ أَنْ يَجْلِسَ فَمَضَى فِي صَلَاتِهِ فَلَمَّا قَضَى صَلَاتَهُ انْتَظَرَ النَّاسُ تَسْلِيمَهُ فَكَبَّرَ وَسَجَدَ قَبْلَ أَنْ يُسَلِّمَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ ثُمَّ كَبَّرَ وَسَجَدَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ وَسَلَّمَ

আবদুল্লাহ্‌ বিন বুহাইনাহ্‌ (রা:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নাবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে নিয়ে (যোহর) স্বলাত আদায় করলেন। কিন্তু দু‘রাকাত শেষে (তাশাহুদ না পড়েই) দাঁড়িয়ে পড়লেন। তিনি স্বলাত চালিয়ে যেতে থাকলেন। স্বলাত শেষে মানুষ সালামের অপেক্ষা করছে এমন সময় সালামের পূর্বে তিনি তাকবীর দিয়ে সিজদা করলেন, মাথা উঠিয়ে আবার তাকবীর দিয়ে সিজদা করলেন, তারপর মাথা উঠিয়ে সালাম ফেরালেন।

তৃতীয়ত: সন্দেহ হওয়া: 

স্বলাতের মধ্যে সন্দেহের দু‘টি অবস্থা: প্রথম অবস্থা: সন্দেহযুক্ত দু‘টি বিষয়ের মধ্যে যেটির প্রাধান্য পাবে সে অনুযায়ী কাজ করবে এবং স্বলাত পূর্ণ করে সালাম ফিরাবে। তারপর সাহু সিজদা করে সালাম ফিরাবে

উদাহরণ: একজন লোক যোহরের ছালাত আদায় করছে। কিন্তু সন্দেহ হল এখন সে কি দ্বিতীয় রাকাতে না তৃতীয় রাকাতে? এ সময় সে অনুমান করে স্থির করবে কোনটা ঠিক। যদি অনুমান প্রাধান্য পায় যে এটা তৃতীয় রাকাত, তবে তা তৃতীয় রাকাত গণ্য করে স্বলাত পূর্ণ করবে এবং সালাম ফেরানোর পর সাহু সিজদা করবে।

দলীল: আবদুল্লাহ্‌ বিন মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন

وَإِذَا شَكَّ أَحَدُكُمْ فِي صَلَاتِهِ فَلْيَتَحَرَّ الصَّوَابَ فَلْيُتِمَّ عَلَيْهِ ثُمَّ لِيُسَلِّمْ ثُمَّ يَسْجُدُ سَجْدَتَيْنِ

“তোমাদের কারো স্বলাতে যদি সন্দেহ হয় তবে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার চেষ্টা করবে এবং সে ভিত্তিতে স্বলাত পূর্ণ করবে। তারপর সালাম ফিরিয়ে দু‘টি সাহু সিজদা করবে।”

দ্বিতীয় অবস্থা: সন্দেহযুক্ত দু‘টি দিকের কোনটাই প্রাধান্য পায় না। এ অবস্থায় নিশ্চিত দিকটির উপর ভিত্তি করবে। অর্থাৎ কম সংখ্যাটি নির্ধারণ করে বাকী স্বলাত পূর্ণ করবে। তারপর সালামের আগে সাহু সিজদা করে শেষে সালাম ফিরাবে।

উদাহরণঃ জনৈক ব্যক্তি আছরের স্বলাতে সন্দেহ করল- তিন রাকাত পড়েছে না দু‘রাকাত। কিন্তু অনুমান করে কোনটাই তার নিকট প্রাধান্য পেল না। এমতাবস্থায় সে তা দ্বিতীয় রাকাত ধরে প্রথম তাশাহুদ পাঠ করবে। তারপর বাকী দু‘রাকাত স্বলাত পূর্ণ করবে এবং শেষে সালাম ফিরানোর পূর্বে সাহু সিজদা করবে।

দলীল: আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন

إِذَا شَكَّ أَحَدُكُمْ فِي صَلاتِهِ فَلَمْ يَدْرِ كَمْ صَلَّى ثَلاثًا أَمْ أَرْبَعًا فَلْيَطْرَحِ الشَّكَّ وَلْيَبْنِ عَلَى مَا اسْتَيْقَنَ ثُمَّ يَسْجُدُ سَجْدَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يُسَلِّمَ فَإِنْ كَانَ صَلَّى خَمْسًا شَفَعْنَ لَهُ صَلَاتَهُ وَإِنْ كَانَ صَلَّى إِتْمَامًا لِأَرْبَعٍ كَانَتَا تَرْغِيمًا لِلشَّيْطَانِ

“তোমাদের কোন ব্যক্তি যদি স্বলাতে সন্দেহ করে যে, তিন রাকাত পড়েছে না চার রাকাত? তবে সে সন্দেহকে বর্জন করবে এবং নিশ্চিতের উপর ভিত্তি করবে। তারপর সালাম ফেরানোর পূর্বে দু‘টি সিজদা করবে। যদি পাঁচ রাকাত পড়ে থাকে তবে স্বলাত বেজোড় থেকে জোড় হয়ে যাবে। আর যদি চার রাকাতই পড়ে থাকে, তবে এসিজদা দু‘টি শয়তানকে অপমানের জন্য হবে।”

সারকথা: পূর্বেল্লেখিত আলোচনা থেকে বুঝা গেল যে, সিজদায়ে সাহু কখনো সালামের আগে কখনো সালামের পর করতে হয়।

সালামের পূর্বে সাহু সিজদা দু‘ক্ষেত্রে করতে হয়:

প্রথম: স্বলাতে যদি কোন ওয়াজিব হ্রাস হয়।

দ্বিতীয়: স্বলাতে যদি সন্দেহ হয় এবং দু‘টি দিকের কোনটিই প্রাধান্য না পায়, তবে সালামের পূর্বে সাহু সিজদা করবে।

সালামের পর দু‘ক্ষেত্রে সাহু সিজদা করতে হয়:

প্রথম: যদি স্বলাতে বৃদ্ধি হয়ে যায়।

দ্বিতীয়: যদি সন্দেহ হয় এবং যে কোন একটি দিক অনুমানের ভিত্তিতে প্রাধান্য লাভ করে, তবে সালামের পর সাহু সিজদা করবে।

সালাত আদায়ের পদ্ধতি

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-১১)

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-১০)

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-০৯)

স্বলাতের সময় সম্পর্কে সঠিক ধারনা (পর্ব-০৮)

তায়াম্মুম সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন (পর্ব-০৭)

গোসল সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন (পর্ব-০৬)

ত্বহারাত বা পবিত্রতা (অযু)-দ্বিতীয় অধ্যায় (পর্ব-০৫)

ইমান ভঙ্গের কারনসমূহ (পর্ব-০৪)

জ্ঞান অর্জন ও ঈমান – প্রথম অধ্যায় (পর্ব-০৩)

চার ইমাম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ন কথা (পর্ব-০২)

দলিলভিত্তিক ইবাদত ও জীবনপথ বইয়ের লেখকের বানী (পর্ব-০১)

About Md Nazmul Azam

I am website developer.

Check Also

আউয়াল ওয়াক্তে স্বলাত আদায়ের গুরুত্ব

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-০৯)

সালাতের পদ্ধতি দলিল নং- ৭০। সুরা আল আনকাবুত আয়াত নং-৪৫ اِنَّ الصَّلٰوۃَ تَنۡهٰی عَنِ الۡفَحۡشَآءِ …

জুলুমকারীকে বাধা দেওয়া উচিত।

সহীহ বুখারী হাদিস নম্বর ২৪৪৪ আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম …

আউয়াল ওয়াক্তে স্বলাত আদায়ের গুরুত্ব

স্বলাতের সময় সম্পর্কে সঠিক ধারনা (পর্ব-০৮)

স্বলাতের সময় সঠিক সময়ে স্বলাত আদায়ের মর্যাদা দলিল নং- ৫৬। সহীহ বুখারী হাদিস নং- ৫২৭ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *