Tuesday , September 22 2026

জানাযার স্বলাত (পর্ব-১৬)

জানাযার স্বলাত

মানুষ মারা গেলে অন্য কারো কাছে সংবাদ পৌছানো

দলিল নং- ১৬৫ সহীহ বুখারী হাদিস নং- ১২৪৭

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَاتَ إِنْسَانٌ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَعُودُهُ فَمَاتَ بِاللَّيْلِ فَدَفَنُوهُ لَيْلاً فَلَمَّا أَصْبَحَ أَخْبَرُوهُ فَقَالَ مَا مَنَعَكُمْ أَنْ تُعْلِمُونِي قَالُوا كَانَ اللَّيْلُ فَكَرِهْنَا وَكَانَتْ ظُلْمَةٌ أَنْ نَشُقَّ عَلَيْكَ فَأَتَى قَبْرَهُ فَصَلَّى عَلَيْهِ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মারা গেল। যার অসুস্থতার সময় আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খোঁজ-খবর রাখতেন। তার মৃত্যু হয় এবং রাতেই লোকেরা তাঁকে দাফন করেন। সকাল হলে তাঁরা (এ বিষয়ে) নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে খবর দেন। তিনি বললেনঃ আমাকে খবর দিতে তোমাদের কিসে বাধা দিল? তারা বলল, তখন ছিল রাত এবং গাঢ় অন্ধকার। তাই আপনাকে কষ্ট দেয়া আমরা পছন্দ করিনি। তিনি ঐ ব্যক্তির কবরের নিকট গেলেন এবং তাঁর জন্য স্বলাতে জানাযা আদায় করলেন।

আত্মীয় মারা গেল ধৈর্য্য ধারন করা

দলিল নং- ১৬৬ সহীহ বুখারী হাদিস নং- ১২৫২

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِامْرَأَةٍ عِنْدَ قَبْرٍ

وَهِيَ تَبْكِي فَقَالَ اتَّقِي اللهَ وَاصْبِرِي

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কবরের নিকট উপস্থিত এক মহিলার পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন, সে তখন ক্রন্দন করছিল। তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহ্‌কে ভয় কর এবং ধৈর্য ধর।

নিজের সন্তান মারা গেলে আলহামদুলিল্লাহ বলা

সন্তান মারা গেলে আলহামদুলিল্লাহ বলতে হয় এর পর  ইন্ন লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন বলতে হয়। কি অবাক হলেন! নিচের হাদিস দেখুন কি বলে

দলিল নং- ১৬৭ সুনানে তিরমিজি হাদিস নং-১০২১ (হাদিসের মান হাসান)

عَنْ أَبِي سِنَانٍ، قَالَ دَفَنْتُ ابْنِي سِنَانًا وَأَبُو طَلْحَةَ الْخَوْلاَنِيُّ جَالِسٌ عَلَى شَفِيرِ الْقَبْرِ فَلَمَّا أَرَدْتُ الْخُرُوجَ أَخَذَ بِيَدِي فَقَالَ أَلاَ أُبَشِّرُكَ يَا أَبَا سِنَانٍ ‏.‏ قُلْتُ بَلَى ‏.‏ فَقَالَ حَدَّثَنِي الضَّحَّاكُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَرْزَبٍ عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ إِذَا مَاتَ وَلَدُ الْعَبْدِ قَالَ اللَّهُ لِمَلاَئِكَتِهِ قَبَضْتُمْ وَلَدَ عَبْدِي ‏.‏ فَيَقُولُونَ نَعَمْ ‏.‏ فَيَقُولُ قَبَضْتُمْ ثَمَرَةَ فُؤَادِهِ ‏.‏ فَيَقُولُونَ نَعَمْ ‏.‏ فَيَقُولُ مَاذَا قَالَ عَبْدِي فَيَقُولُونَ حَمِدَكَ وَاسْتَرْجَعَ ‏.‏ فَيَقُولُ اللَّهُ ابْنُوا لِعَبْدِي بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ وَسَمُّوهُ بَيْتَ الْحَمْدِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ

আবূ সিনান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমার ছেলে সিনানকে দাফন করছিলাম। সে সময় আবূ তালহা আল-খাওলানী কবরের কিনারায় বসা ছিলেন। পরে আমি যখন কবর থেকে বের হতে ইচ্ছা করলাম তখন তিনি আমার হাত ধরলেন এবং বললেন, হে আবূ সিনান, আমি কি তোমাকে সুসংবাদ দিব? আমি বললাম, অবশ্যই দিন। তিনি বললেন, যাহ্হাক ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু আরযাব (রহঃ) আমাকে আবূ মূসা আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোন বান্দার সন্তান মারা যায় তখন আল্লাহ তা’আলা ফিরিশতাদের বলেন, তোমরা আমার বান্দার সন্তান কবয করে নিয়ে এলে? তার বলে, হ্যাঁ। আল্লাহ্ তাআলা বলেন, তোমরা তার হৃদয়ের ফল কবয করে নিয়ে এলে? তারা বলে হ্যাঁ। আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমার বান্দা কি বলেছে? তারা বলে, আপনার হামদ করেছে এবং ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন পড়েছে। আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, আমার এই বান্দার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ কর এবং তার নামকরণ কর ’’বায়তুল হামদ’ বা প্রশংসালয়।

মৃতের জন্য বিলাপ করা

দলিল নং- ১৬৮ সহীহ বুখারী হাদিস নং- ১২৯১

عَنْ الْمُغِيرَةِ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِنَّ كَذِبًا عَلَيَّ لَيْسَ كَكَذِبٍ عَلَى أَحَدٍ مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنْ النَّارِ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ مَنْ نِيحَ عَلَيْهِ يُعَذَّبُ بِمَا نِيحَ عَلَيْهِ

মুগীরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, আমার প্রতি মিথ্যারোপ করা অন্য কারো প্রতি মিথ্যারোপ করার মত নয়। যে ব্যক্তি আমার প্রতি মিথ্যারোপ করে সে যেন অবশ্যই তার ঠিকানা জাহান্নামে করে নেয়। [মুগীরাহ (রাঃ) আরও বলেছেন,] আমি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আরও বলতে শুনেছি, যে (মৃত) ব্যক্তির জন্য বিলাপ করা হয়, তাকে বিলাপকৃত বিষয়ের উপর ‘আযাব দেয়া হবে।

মৃতকে গোসল ও উযূ করানো।

দলিল নং- ১৬৯ সহীহ বুখারী হাদিস নং- ১২৫৪

عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ قَالَتْ دَخَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ نَغْسِلُ ابْنَتَهُ فَقَالَ اغْسِلْنَهَا ثَلاَثًا أَوْ خَمْسًا أَوْ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ وَاجْعَلْنَ فِي الآخِرَةِ كَافُورًا فَإِذَا فَرَغْتُنَّ فَآذِنَّنِي فَلَمَّا فَرَغْنَا آذَنَّاهُ فَأَلْقَى إِلَيْنَا حِقْوَهُ فَقَالَ أَشْعِرْنَهَا إِيَّاهُ فَقَالَ أَيُّوبُ وَحَدَّثَتْنِي حَفْصَةُ بِمِثْلِ حَدِيثِ مُحَمَّدٍ وَكَانَ فِي حَدِيثِ حَفْصَةَ اغْسِلْنَهَا وِتْرًا وَكَانَ فِيهِ ثَلاَثًا أَوْ خَمْسًا أَوْ سَبْعًا وَكَانَ فِيهِ أَنَّهُ قَالَ ابْدَءُوا بِمَيَامِنِهَا وَمَوَاضِعِ الْوُضُوءِ مِنْهَا وَكَانَ فِيهِ أَنَّ أُمَّ عَطِيَّةَ قَالَتْ وَمَشَطْنَاهَا ثَلاَثَةَ قُرُونٍ

উম্মু আতিয়্যাহ্ আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যা যায়নাব (রাযি.) ইন্তিকাল করলে তিনি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে বললেনঃ তোমরা তাঁকে তিনবার বা পাঁচবার বা প্রয়োজন মনে করলে তার চেয়ে অধিকবার বরই পাতাসহ পানি দ্বারা গোসল দাও। শেষবারে কর্পুর বা (তিনি বলেছেন) কিছু কর্পুর ব্যবহার করবে। তোমরা শেষ করে আমাকে জানাও। আমরা শেষ করার পর তাঁকে জানালাম। তখন তিনি তাঁর চাদরখানি আমাদের দিকে দিয়ে বললেনঃ এটি তাঁর ভিতরের কাপড় হিসেবে পরিয়ে দাও। আইয়ুব (রহ.) বলেছেন, হাফসাহ (রহ.) আমাকে মুহাম্মাদ বর্ণিত হাদীসের ন্যায় হাদীস শুনিয়েছেন। তবে তাঁর হাদীসে আছে যে, তাকে বিজোড় সংখ্যায় গোসল দিবে। আরও আছে, তিনবার, পাঁচবার অথবা সাতবার করে; তাতে আরো আছে, আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘তোমরা তার ডান দিক হতে এবং তার উযূর স্থানগুলো থেকে আরম্ভ করবে।’’ তাতে এ কথাও আছে। (বর্ণনাকারিণী) উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) বলেছেন, আমরা তার চুলগুলো আঁচড়ে তিনটি গোছা করে দিলাম।

কাফনের জন্য সাদা কাপড় ও তিন কাপড়

দলিল নং- ১৭০ সহীহ বুখারী হাদিস নং- ১২৬৪

عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كُفِّنَ فِي ثَلاَثَةِ أَثْوَابٍ يَمَانِيَةٍ بِيضٍ سَحُولِيَّةٍ مِنْ كُرْسُفٍ لَيْسَ فِيهِنَّ قَمِيصٌ وَلاَ عِمَامَةٌ

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তিনটি ইয়ামানী সাহুলী সাদা সূতী বস্ত্র দ্বারা কাফন দেয়া হয়েছিল। তার মধ্যে কামীস এবং পাগড়ী ছিল না।

দলিল নং- ১৭১ সুনানে তিরমিযি হাদিস নং-৯৯৪ (হাদিসের মান সহীহ)

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ الْبَسُوا مِنْ ثِيَابِكُمُ الْبَيَاضَ فَإِنَّهَا مِنْ خَيْرِ ثِيَابِكُمْ وَكَفِّنُوا فِيهَا مَوْتَاكُمْ

তোমরা সাদা কাপড় পরিধান করো। কেননা তা তোমাদের উত্তম পোশাকগুলোর অন্তর্ভুক্ত। আর তোমাদের মৃতদেরও তা দিয়ে কাফন দাও।

জানাযা কারা বহন করবে পুরুষ নাকি নারী?

দলিল নং- ১৭২ সহীহ বুখারী হাদিস নং- ১৩১৪

 أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا وُضِعَتْ الْجِنَازَةُ وَاحْتَمَلَهَا الرِّجَالُ عَلَى أَعْنَاقِهِمْ فَإِنْ كَانَتْ صَالِحَةً قَالَتْ قَدِّمُونِي وَإِنْ كَانَتْ غَيْرَ صَالِحَةٍ قَالَتْ يَا وَيْلَهَا أَيْنَ يَذْهَبُونَ بِهَا يَسْمَعُ صَوْتَهَا كُلُّ شَيْءٍ إِلاَّ الإِنْسَانَ وَلَوْ سَمِعَهُ صَعِقَ

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন জানাযা খাটে রাখা হয় এবং পুরুষরা তা কাঁধে বহন করে নেয়, তখন সে সৎ হলে বলতে থাকে, আমাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাও। আর সৎ না হলে সে বলতে থাকে, হায় আফসোস! তোমরা এটাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ? মানব জাতি ব্যতীত সবাই তার চিৎকার শুনতে পায়। মানুষ তা শুনলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলত।

জানাযার স্বলাত পড়লে কোন লাভ আছে কি?

দলিল নং- ১৭৩ সহীহ বুখারী হাদিস নং-৪৭

 عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ مَنِ اتَّبَعَ جَنَازَةَ مُسْلِمٍ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، وَكَانَ مَعَهُ حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهَا، وَيَفْرُغَ مِنْ دَفْنِهَا، فَإِنَّهُ يَرْجِعُ مِنَ الأَجْرِ بِقِيرَاطَيْنِ، كُلُّ قِيرَاطٍ مِثْلُ أُحُدٍ، وَمَنْ صَلَّى عَلَيْهَا ثُمَّ رَجَعَ قَبْلَ أَنْ تُدْفَنَ فَإِنَّهُ يَرْجِعُ بِقِيرَاطٍ ‏”‏‏

আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও পুণ্যের আশায় কোন মুসলিমের জানাযার অনুগমন করে এবং তার স্বলাত-ই-জানাযা আদায় ও দাফন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত সঙ্গে থাকে, সে দুই কীরাত সওয়াব নিয়ে ফিরবে। প্রতিটি কীরাত হল উহুদ পর্বতের মতো। আর যে ব্যক্তি শুধু তার জানাযা আদায় করে, তারপর দাফন সম্পন্ন হবার পূর্বেই চলে আসে, সে এক কীরাত সওয়াব নিয়ে ফিরবে।

জানাযার স্বলাতের কাতার কতটি হবে?

দলিল নং- ১৭৪ সহীহ বুখারী হাদিস নং- ১৩২০

جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ يَقُولُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَدْ تُوُفِّيَ الْيَوْمَ رَجُلٌ صَالِحٌ مِنْ الْحَبَشِ فَهَلُمَّ فَصَلُّوا عَلَيْهِ قَالَ فَصَفَفْنَا فَصَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهِ وَنَحْنُ مَعَهُ صُفُوفٌ قَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ كُنْتُ فِي الصَّفِّ الثَّانِي

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আজ হাবাশা দেশের (আবিসিনিয়ার) একজন পুণ্যবান লোকের মৃত্যু হয়েছে, তোমরা এসো তাঁর জন্য (জানাযার) স্বলাত আদায় কর। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা তখন কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ালে নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (জানাযার) স্বলাত আদায় করলেন, আমরা ছিলাম কয়েক কাতার। আবূ যুবাইর (রহ.) জাবির (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, জাবির (রাঃ) বলেছেন, আমি দ্বিতীয় কাতারে ছিলাম। 

ইমাম মাইয়্যেতের কোথায় দাঁড়াবে

দলিল নং- ১৭৫ তিরমিযি শরীফ হাদিস নং- ১০৩৪ (হাদিসের মান সহীহ)

عَنْ أَبِي غَالِبٍ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَلَى جَنَازَةِ رَجُلٍ فَقَامَ حِيَالَ رَأْسِهِ ثُمَّ جَاءُوا بِجَنَازَةِ امْرَأَةٍ مِنْ قُرَيْشٍ فَقَالُوا يَا أَبَا حَمْزَةَ صَلِّ عَلَيْهَا ‏.‏ فَقَامَ حِيَالَ وَسَطِ السَّرِيرِ ‏.‏ فَقَالَ لَهُ الْعَلاَءُ بْنُ زِيَادٍ هَكَذَا رَأَيْتَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَامَ عَلَى الْجَنَازَةِ مُقَامَكَ مِنْهَا وَمِنَ الرَّجُلِ مُقَامَكَ مِنْهُ قَالَ نَعَمْ ‏.‏ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ احْفَظُوا

আবূ গালিব (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) এর সঙ্গে জনৈক পুরুষের স্বলাতুল জানাযা আদায় করেছি। তিনি তখন লাশের মাথা বরাবর দাঁড়িয়েছেন। এরপর লোকেরা জনৈকা কুরায়শী মহিলার জানাযা নিয়ে এল। তারা তাঁকে বলল, হে আবূ হামযা, এর স্বলাতুল জানাযা- ও পড়িয়ে দিন। তখন তিনি খাটিয়ার মাঝামাঝি দাঁড়ালেন। এতে আলা-ইবনু যিয়াদ তাঁকে বললেন, যেভাবে আপনি মহিলার জানাযায় দাঁড়িয়েছেন আর যেভাবে পুরুষের জানাযায় দাঁড়িয়েছেন। আপনি কি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেও এরূপ করতে দেখেছেন? তিনি বললেন হ্যাঁ। জানাযা সম্পাদনের পর তিনি সকলকে লক্ষ্য করে বললেন, এই বিষয়টির তোমরা সংরক্ষণ করো।

জানাযার স্বলাতে তাকবীর কতটি?

দলিল নং- ১৭৬ সহীহ বুখারী হাদিস নং- ১৩৩৩

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَعَى النَّجَاشِيَّ فِي الْيَوْمِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ وَخَرَجَ بِهِمْ إِلَى الْمُصَلَّى فَصَفَّ بِهِمْ وَكَبَّرَ عَلَيْهِ أَرْبَعَ تَكْبِيرَاتٍ

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজাশীর মৃত্যুর দিন তাঁর মৃত্যু খবর জানালেন এবং সাহাবীবর্গকে সঙ্গে নিয়ে জানাযার সালাতের স্থানে গেলেন এবং তাদেরকে সারিবদ্ধ করে চার তাকবীরে জানাযার সালাত আদায় করলেন। 

জানাযার প্রত্যেক তাকবীরে কি হাত উঠাবে?

দলিল নং- ১৭৭ সুনানে দারাকুতনি হাদিস নং- ১৮৪৯ (হাদিসের মান সহীহ)

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي كُلِّ تَكْبِيرَةٍ عَلَى الْجَنَازَةِ

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) জানাযার নামাজে প্রতিটি তাকবীরে তার দুই হাত উঠাতেন।

দলিল নং- ১৭৮ সুনানে আত তিরমিযি হাদিস নং- ১০৭৭ (হাদিসের মান হাসান)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهُ صلى الله عليه وسلم كَبَّرَ عَلَى جَنَازَةٍ فَرَفَعَ يَدَيْهِ فِي أَوَّلِ تَكْبِيرَةٍ وَوَضَعَ الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযায়া তকবীর দেন। তিনি এর প্রথম তকবীরে হাত উঠিয়েছিলেন এবং ডান হত বাম হাতের উপর রেখেছিলেন।

ইমাম ঈসা (রহঃ) বলেন, হাদীসটি গারীব। এই সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না। এই বিষয়ে আলিমদের মতবিরোধ রয়েছে। অধিকাংশ সাহাবী ও অপরাপর আলিম মনে করেন যে, সালাতুল জানাযার প্রত্যেক তাকবীরেই হাত উঠাতে হবে। এ হলো ইবনু মুবারক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত। কতক আলিম বলেন, কেবল প্রথম তাকবীরেই হাত উঠাবে। এ হলো ইমাম ছাওরী ও কুফাবাসী আলিমদের অভিমত।

মন্তব্যঃ জানাযার প্রতি তাকবিরে হাত উঠানো সুন্নত। বর্ণিত আছে যে, সাহাবি আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ওমর প্রতি তাকবিরে হাত উঠাতেন।

জানাযার স্বলাত

জুম’আর স্বলাত (পর্ব-১৫)

স্বলাত ভঙ্গের কারনসমুহ (পর্ব-১৪)

বিতর স্বলাতের নিয়ম (পর্ব-১৩)

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-১২)

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-১১)

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-১০)

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-০৯)

স্বলাতের সময় সম্পর্কে সঠিক ধারনা (পর্ব-০৮)

তায়াম্মুম সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন (পর্ব-০৭)

গোসল সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন (পর্ব-০৬)

ত্বহারাত বা পবিত্রতা (অযু)-দ্বিতীয় অধ্যায় (পর্ব-০৫)

ইমান ভঙ্গের কারনসমূহ (পর্ব-০৪)

জ্ঞান অর্জন ও ঈমান – প্রথম অধ্যায় (পর্ব-০৩)

চার ইমাম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ন কথা (পর্ব-০২)

দলিলভিত্তিক ইবাদত ও জীবনপথ বইয়ের লেখকের বানী (পর্ব-০১)

About Md Nazmul Azam

I am website developer.

Check Also

জানাযার স্বলাত

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-১২)

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পূর্বের পাঠ) সালাম ফিরানোর পরের দোয়া দলিল নং- ১৩৫। সহীহ মুসলিম হাদিস …

জানাযার স্বলাত

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-১১)

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পূর্বের পাঠ) সিজদায় যাওয়ার সময় হাত প্রথমে মাটিতে রাখা। দলিল নং- ১১৫। …

ইনফাক-ফি-সাবিলিল্লাহ

ইনফাক ফি সাবিলিল্লাহ

ইনফাক ফি সাবিলিল্লাহ কুরআন ও হাদিসের আলোকে السلام عليكم و رحمة الله و بركاته.  الحمد …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *