জানাযার স্বলাত, ২য় অংশ
জানাযায় ১ম তাকবীরে কি পড়বে সানা নাকি সুরা ফাতিহা?
জানাযার স্বলাতে ১ম তাকবিরে সানা পড়তে হবে এই মর্মে কোন সহীহ হাদিস আমি পায়নি তবে এর বিপরিতে ১ম তাকবীরে সুরা ফাতিহা পড়তে হবে এই মর্মে সহীহ হাদিস পাওয়া যায়।
দলিল নং- ১৭৯। সহীহ বুখারী হাদিস নং- ১৩৩৫
عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَوْفٍ قَالَ صَلَّيْتُ خَلْفَ ابْنِ عَبَّاسٍ عَلَى جَنَازَةٍ فَقَرَأَ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ قَالَ لِيَعْلَمُوا أَنَّهَا سُنَّةٌ
ত্বলহাহ্ ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আওফ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর পিছনে জানাযার সালাত আদায় করলাম। তাতে তিনি সূরা ফাতিহা পাঠ করলেন এবং (স্বলাত শেষে) বললেন, (আমি সূরা ফাতিহা পাঠ করলাম) যাতে লোকেরা জানতে পারে যে, এটা সুন্নাত।
জানাযায় ২য় তাকবীরে কি পড়বে?
দলিল নং- ১৮০। বাইহাকী চতুর্থ খন্ডের ৩৯ নং পৃষ্ঠা
জানাযার স্বলাতে ২য় তাকবীরে দরূদ পাঠ করবে। সেই ইব্রাহীমী দরূদ পাঠ করবে যা স্বলাতের তাশাহহুদে পাঠ করা হয়ে থাকে। দুরুদ
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ فِي الْعَالَمِينَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
অর্থঃ হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও তার পরিবার পরিজনের উপর রহমত বর্ষণ করো— যেভাবে তুমি ইবরাহীম (আঃ)-এর পরিবার-পরিজনের উপর রহমত বর্ষণ করেছ। তুমি মুহাম্মাদ ও তার পরিবার-পরিজনকে বারাকাত ও প্রাচুর্য দান করো— যেভাবে তুমি ইবরাহীম (আঃ) এর পরিবার-পরিজনকে দুনিয়া ও আখিরাতে বারাকাত ও প্রাচুর্য দান করেছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত।
জানাযায় ৩য় তাকবীরে কোন দোয়া পড়বে?
দলিল নং- ১৮১। সহী মুসলিম হাদিস নং-৯৬৩
عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، سَمِعَهُ يَقُولُ سَمِعْتُ عَوْفَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى جَنَازَةٍ فَحَفِظْتُ مِنْ دُعَائِهِ وَهُوَ يَقُولُ
জুবায়র ইবনু নুফায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন) আমি আওফ ইবনু মালিক (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছিঃ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক জানাযায় যে দুআ পড়লেন, আমি তার সে দু’আ মনে রেখেছি। দু’আয় তিনি এ কথাগুলো বলেছিলেন,
দোয়াটি হলো
اللّهُمَّ اغْفِرْ لَه وَارْحَمْهُ وَعَافِه وَاعْفُ عَنْهُ وَأَكْرِمْ نُزُلَه وَوَسِّعْ مُدْخَلَه وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَنَقِّه مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الْأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِّنْ دَارِه وَأهْلًا خَيْرًا مِّنْ أَهْلِه وَزَوْجًا خَيْرًا مِّنْ زَوْجِه وَأدْخِلْهُ الْجنَّةَ وَأعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ
হে আল্লাহ! মৃত ব্যাক্তিকে ক্ষমা কর, দয়া কর, তাকে শান্তিতে রাখ, তাকে মাফ কর, তার অবস্থানকে মর্যাদা দান কর, তার কবরকে প্রশস্ত কর, পানি বরফ এবং শিলাবৃষ্টি দ্বারা তাকে ধৌত কর, অপরাধ থেকে তাকে পবিত্র কর, যেমন সাদা কাপড়কে ময়লামুক্ত করা হয়। হে আল্লাহ! তার দুনিয়ার বাসভবন হতে উত্তম বাসভবন তাকে দান কর, তার পরিবার হতে উত্তম পরিবার, তার স্ত্রী হতে উত্তম স্ত্রী দান কর, তাকে জান্নাতে দাখিল কর এবং রক্ষা কর কবরের আযাব হতে, জাহান্নামের আযাব হতে।
আমাদের সমাজে দেখা যায় নিচের দোয়াটি জানাযায় পড়ার জন্য শিখানো হয় কিন্তু হাদিস অনুযায়ী এই দোয়াটি জানাযা স্বলাতের পরে পড়া হয়।
দলিল নং- ১৮২। আবু দাউদ হাদিস নং- ৩১৮৭ (হাদিসের মান সহীহ)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى جَنَازَةٍ فَقَالَ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তির জানাযার নামায আদায়ের পর এরূপ দু’আ করেনঃ
দোয়াটি হলো
اَللّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيْرِنَا وَكَبِيْرِنَا وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا. اَللّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَه مِنَّا فَأَحْيِه عَلَى الْإِسْلَامِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَه مِنَّا فَتَوَفَّه عَلَى الْإِيْمَانِ, اَللّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَه وَلَا تَفْتِنَّا بَعْدَه
হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত-মৃত, ছোট-বড়, পুরুষ-নারী এবং উপস্থিত-অনুপস্থিত সকলকে ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ! আমাদের মধ্যে আপনি যাকে জীবিত রাখবেন তাকে ইসলামের উপর জীবিত রাখেন এবং আমাদের মধ্যে যাকে মৃত্যু দিবেন তাকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দিন। হে আল্লাহ! এর সাওয়াব থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করবেন না এবং এর পর আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করবেন না
মন্তব্যঃ এই দোয়াটি জানাযার নামায আদায়ের পর পরেছেন। তাই সহী মুসলিম হাদিস নং-৯৬৩ এর দোয়াটি হলো জানাযার সঠিক দোয়া।
জানাযায় ৪র্থ তাকবীর দিয়ে কি করবে?
সালাম ফিরানো নিয়ে ইমামদের মধ্যে মতবেদ রয়েছে, কেউ বলেছেন এক দিকে সালাম ফিরালে হবে আবার কেউ বলেছে দুই দিকে সালাম ফিরাতে হবে তাই যে কোন একটি গ্রহন করতে পারেন রাসুল (সঃ) থেকে দুই রকমের সহীহ হাদিস পাওয়া যায়।
দলিল নং- ১৮৩। মুয়াত্তা মালেক হাদিস নং ৫৩৩ (সাহাবীদের আমল)
كان أبو هريرة يصلي على الجنازة فيسلم تسليمة واحدة
আবু হুরায়রা (রাঃ) জানাজার নামাজে একবার সালাম দিতেন।
দলিল নং- ১৮৪। আবু দাউদ হাদিস নং ৯৯৬ (হাদিসের মান সহীহ)
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُسَلِّمُ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ حَتَّى يُرَى بَيَاضُ خَدِّهِ “ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ
আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে ডান দিকে এবং পরে বাম দিকে এমনভাবে মুখ ঘুরিয়ে সালাম ফিরাতেন যে, তাঁর মুখমন্ডলের শুভ্র অংশটি পরিলক্ষিত হত এবং তিনি আসসালামু আলায়কুম ওয়া রহমাতুল্লাহ বলে সালাম ফিরাতেন।
দোয়াটি হলোঃ
“ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ
অর্থঃ আপনার উপরও শান্তি এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক
এই হাদীস মূলত সাধারণ সালাতের সালামের বর্ণনা। কিছু ফকীহ এই দলীল দিয়ে জানাজার নামাজেও দুই সালাম বলেছেন। আমার মতে এক দিকে সালাম ফিরোনোর হাদিসগুলো শক্তিশালী তাই সেটি আমল করা উচিত।
লাশ বহন করার সময় কি দোয়া পড়তে হয়?
লাশ বহন করার সময় আমরা দেখতে পাই অনেকে কালেমায়ে শাহাদাৎ পড়ে এটি একটি বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও সুন্নাতের বিপরীত কর্ম। লাশ বহনের সময় পরিপূর্ণ নীরবতাই সুন্নাত। মনের গভীরে শোক ও মৃত্যু চিন্তা নিয়ে নীরবে পথ চলতে হবে। পরস্পরে কথাবার্তা বলাও সুন্নাত বিরোধী। ইমাম নাবাবী বলেন, লাশ বহনের সময় সম্পূর্ণ নীরব থাকাই হলো সুন্নাত সম্মত সঠিক কর্ম যা সাহাবীগণ ও পরবর্তী যুগের মানুষদের রীতি ছিল। প্রসিদ্ধ হানাফী ফকীহ আল্লামা কাসানী বলেন:
‘‘লাশের অনুগমনকারী তার নীরবতাকে প্রলম্বিত করবে। এ সময় সশব্দে যিকর করা মাকরূহ। কাইস ইবনু উবাদাহ বলেন: রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীগণ তিন সময়ে শব্দ করতে অপছন্দ করতেন: যুদ্ধ, জানাযা এবং যিকর। এছাড়া লাশ বহনের সময় সশব্দে যিকর করা ইহূদী-নাসারাগণের অনুকরণ; এজন্য তা মাকরূহ।’’ কাসানী, বাদাইউস সানাই’ ১/৩১০।
লাশ কবরে রাখার দোয়া
দলিল নং- ১৮৫। আবু দাউদ হাদিস নং ৩১৯৯ (হাদিসের মান সহীহ)
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا وَضَعَ الْمَيِّتَ فِي الْقَبْرِ قَالَ “ بِسْمِ اللَّهِ وَعَلَى سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখতেন, তিনি বলতেনঃ দোয়াটি হলোঃ
بِسْمِ اللَّهِ وَعَلَى سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
অর্থাৎ আল্লাহ্র নামের সাথে এবং রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত তরীকায় (এ ব্যক্তিকে কবরে রাখছি)।
কবরে মাটি দেওয়ার দোয়া
কবরে মাটি দেওয়ার জন্য যে দোয়াটি প্রসিদ্ধ তা কুরআনের আয়াত, সুরা ত্বহা আয়াত-৫৫
مِنۡهَا خَلَقۡنٰکُمۡ وَ فِیۡهَا نُعِیۡدُکُمۡ وَ مِنۡهَا نُخۡرِجُکُمۡ تَارَۃً اُخۡرٰی
আমরা মাটি থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, তাতেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে দেব এবং তা থেকেই পুনর্বার তোমাদেরকে বের করব।
এটি কবরে মাটি দেওয়ার দোয়া হিসেবে রাসুল (সঃ) থেকে কোন সহীহ হাদিস পাওয়া যায় না। তাই কবরে মাটি দেওয়ার সময় শুধু “বিসমিল্লাহ” বলা জায়েয মনে করে অনেক মুহাদ্দিস।
মাটি দেওয়ার পরে দোয়া পড়া
দলিল নং- ১৮৬। আবু দাউদ হাদিস নং ৩২০৭ (হাদিসের মান সহীহ)
عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا فَرَغَ مِنْ دَفْنِ الْمَيِّتِ وَقَفَ عَلَيْهِ فَقَالَ “ اسْتَغْفِرُوا لأَخِيكُمْ وَسَلُوا لَهُ التَّثْبِيتَ فَإِنَّهُ الآنَ يُسْأَلُ ” . قَالَ أَبُو دَاوُدَ بَحِيرُ بْنُ رَيْسَانَ
উছমান ইবন আফফান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন মৃত ব্যক্তির দাফন পক্রিয়া সম্পন্ন করতেন, তখন তিনি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলতেনঃ তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য মাগফিরাত কামনা কর এবং সে যেন সুদৃঢ় থাকতে পারে, তার জন্য দু’আ কর। কেননা, এখনই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
দলিল নং- ১৮৭। আবু দাউদ হাদিস নং ৩১৮৮ (হাদিসের মান সহীহ)
عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الأَسْقَعِ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى رَجُلٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ ” اللَّهُمَّ إِنَّ فُلاَنَ بْنَ فُلاَنٍ فِي ذِمَّتِكَ فَقِهِ فِتْنَةَ الْقَبْرِ
ওয়াছিলা ইবন আসকা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে জনৈক ব্যক্তির জানাযার নামায আদায় করি। তখন আমি তাঁকে এরুপ দু’আ করতে শুনিঃ “ইয়া আল্লাহ্! নিশ্চয় অমুকের পুত্র অমুক আপনার যিম্মায়। আপনি তাকে কবরের আযাব হতে রক্ষা করুন।”
দলিল নং- ১৮৮। আবু দাউদ হাদিস নং- ৩১৮৭ (হাদিসের মান সহীহ)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى جَنَازَةٍ فَقَالَ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তির জানাযার নামায আদায়ের পর এরূপ দু’আ করেনঃ
দোয়াটি হলো
اَللّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيْرِنَا وَكَبِيْرِنَا وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا. اَللّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَه مِنَّا فَأَحْيِه عَلَى الْإِسْلَامِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَه مِنَّا فَتَوَفَّه عَلَى الْإِيْمَانِ, اَللّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَه وَلَا تَفْتِنَّا بَعْدَه
হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত-মৃত, ছোট-বড়, পুরুষ-নারী এবং উপস্থিত-অনুপস্থিত সকলকে ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ! আমাদের মধ্যে আপনি যাকে জীবিত রাখবেন তাকে ইসলামের উপর জীবিত রাখেন এবং আমাদের মধ্যে যাকে মৃত্যু দিবেন তাকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দিন। হে আল্লাহ! এর সাওয়াব থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করবেন না এবং এর পর আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করবেন না
দলিল নং- ১৮৯। সহীহ বুখারী হাদিস নং-১৩৩৮
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْعَبْدُ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَتُوُلِّيَ وَذَهَبَ أَصْحَابُهُ حَتَّى إِنَّهُ لَيَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ أَتَاهُ مَلَكَانِ فَأَقْعَدَاهُ فَيَقُولاَنِ لَهُ مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ مُحَمَّدٍ فَيَقُولُ أَشْهَدُ أَنَّهُ عَبْدُ اللهِ وَرَسُولُهُ فَيُقَالُ انْظُرْ إِلَى مَقْعَدِكَ مِنْ النَّارِ أَبْدَلَكَ اللهُ بِهِ مَقْعَدًا مِنْ الْجَنَّةِ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَيَرَاهُمَا جَمِيعًا وَأَمَّا الْكَافِرُ أَوْ الْمُنَافِقُ فَيَقُولُ لاَ أَدْرِي كُنْتُ أَقُولُ مَا يَقُولُ النَّاسُ فَيُقَالُ لاَ دَرَيْتَ وَلاَ تَلَيْتَ ثُمَّ يُضْرَبُ بِمِطْرَقَةٍ مِنْ حَدِيدٍ ضَرْبَةً بَيْنَ أُذُنَيْهِ فَيَصِيحُ صَيْحَةً يَسْمَعُهَا مَنْ يَلِيهِ إِلاَّ الثَّقَلَيْنِ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তাকে পিছনে রেখে তার সাথীরা চলে যায় (এতটুকু দূরে যে,) তখনও সে তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায়, এমন সময় তার নিকট দু’জন ফেরেশ্তা এসে তাকে বসিয়ে দেন। অতঃপর তাঁরা প্রশ্ন করেন, এই যে মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তাঁর সম্পর্কে তুমি কী বলতে? তখন সে বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহ্র বান্দা এবং তাঁর রাসূল। তখন তাঁকে বলা হবে, জাহান্নামে তোমার অবস্থানের জায়গাটি দেখে নাও, যার পরিবর্তে আল্লাহ্ তা‘আলা তোমার জন্য জান্নাতে একটি স্থান নির্ধারিত করেছেন। নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তখন সে দু’টি স্থান একই সময় দেখতে পাবে। আর যারা কাফির বা মুনাফিক, তারা বলবে, আমি জানি না। অন্য লোকেরা যা বলত আমিও তাই বলতাম। তখন তাকে বলা হবে, না তুমি নিজে জেনেছ, না তিলাওয়াত করে শিখেছ। অতঃপর তার দু’ কানের মাঝখানে লোহার মুগুর দিয়ে এমন জোরে মারা হবে, যাতে সে চিৎকার করে উঠবে, তার আশেপাশের সবাই তা শুনতে পাবে মানুষ ও জ্বীন ছাড়া।
কবরে কি আযাব হয়?
দলিল নং- ১৯০। সহীহ বুখারী হাদিস নং- ১৩৭২
فَسَأَلَتْ عَائِشَةُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ عَذَابِ الْقَبْرِ فَقَالَ نَعَمْ عَذَابُ الْقَبْرِ قَالَتْ عَائِشَةُ فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدُ صَلَّى صَلاَةً إِلاَّ تَعَوَّذَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ زَادَ غُنْدَرٌ عَذَابُ الْقَبْرِ حَقٌّ
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) কবর আযাব সম্পর্কে আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেনঃ হাঁ, কবর আযাব (সত্য)। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, এরপর থেকে নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এমন কোন স্বলাত আদায় করতে আমি দেখিনি, যাতে তিনি কবর আযাব হতে আল্লাহ্র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেননি। [এ হাদীসের বর্ণনায়] গুণদার (রহ.) অধিক উল্লেখ করেছেন যে, ‘কবর ‘আযাব একেবারে বাস্তব’।
কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কি বলতে হয়?
দলিল নং- ১৯১। আবু দাউদ হাদিস নং ৩২২৩ (হাদিসের মান সহীহ)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ إِلَى الْمَقْبَرَةِ فَقَالَ “ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরস্থানে গমন করেন। তখন তিনি বলেনঃ (দোয়াটি হলো)
السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ
অর্থাৎ তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, হে মু’মিনদের গৃহে বসবাসকারী। আর অবশ্যই আমরা ইনশাআল্লাহ্ তোমাদের সাথে মিলিত হব।
মন্তব্যঃ আমাদের দেশে কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় যেই সালাম প্রচলিত আছে তা সহীহ কোন হাদিসে পাওয়া যায়না। একটি যঈফ হাদিসে আছে তা হলো
দলিল নং- ১৯২। সুনানে তরমিজি হাদিস নং-১০৫৩ (হাদিসের মান যঈফ)
السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ الْقُبُورِ يَغْفِرُ اللَّهُ لَنَا وَلَكُمْ أَنْتُمْ سَلَفُنَا وَنَحْنُ بِالأَثَرِ
আসসালামু আলাইকুম হে কবরের অধিবাসীগণ, আল্লাহ্ তা’আলা আমাদের এবং তোমাদের মাগফিরাত করুন। তোমরা আমাদের পূর্বসূরী আর আমরা তোমাদের পদাংক অনুসারী।
১ম সালামটি রসুল (সঃ) থেকে সহিহ ভাবে পাওয়া যায়।
কবর জিয়ারতের দোয়া কোনটি?
দলিল নং- ১৯৩। সহীহ মুসলিম হাদিস নং- ৯৭৬
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم “ اسْتَأْذَنْتُ رَبِّي أَنْ أَسْتَغْفِرَ لأُمِّي فَلَمْ يَأْذَنْ لِي وَاسْتَأْذَنْتُهُ أَنْ أَزُورَ قَبْرَهَا فَأَذِنَ لِي ”
আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি আমার প্রভুর নিকট আমার মায়ের জন্য ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করার অনুমতি চাইলে আমার প্রভু আমাকে অনুমতি দান করেননি। আর তার কবর যিয়ারাত করার অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন।
দলিল নং- ১৯৪। আবু দাউদ হাদিস নং ৩২২৩ (হাদিসের মান সহীহ)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ إِلَى الْمَقْبَرَةِ فَقَالَ “ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরস্থানে গমন করেন। তখন তিনি বলেনঃ (দোয়াটি হলো)
السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ
অর্থাৎ তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, হে মু’মিনদের গৃহে বসবাসকারী। আর অবশ্যই আমরা ইনশাআল্লাহ্ তোমাদের সাথে মিলিত হব।
মন্তব্যঃ আমাদের দেশে কবর জিয়ারতের জন্য সুরা ফাতেহা, সুরা ইখলাস ও অন্যান্য আয়াত পড়া হয় যা কোন সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমানিত নয়, সহীহ হাদিস থেকে যা পাওয়া যায় তা হলোঃ প্রথমে কবর গিয়ে উপরের পদ্ধতিতে সালাম দিতে হবে এরপর কবরকে সামনে না নিয়ে পাশে অথবা পিছনে নিয়ে পশ্চিম মুখী হয়ে নিজের জন্য ও কবরবাসীর জন্য আরবী বা মাতৃভাষায় দোয়া করতে থাকা।

স্বলাত ভঙ্গের কারনসমুহ (পর্ব-১৪)
সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-১২)
সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-১১)
সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-১০)
সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-০৯)
স্বলাতের সময় সম্পর্কে সঠিক ধারনা (পর্ব-০৮)
তায়াম্মুম সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন (পর্ব-০৭)
গোসল সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন (পর্ব-০৬)
ত্বহারাত বা পবিত্রতা (অযু)-দ্বিতীয় অধ্যায় (পর্ব-০৫)
ইমান ভঙ্গের কারনসমূহ (পর্ব-০৪)
জ্ঞান অর্জন ও ঈমান – প্রথম অধ্যায় (পর্ব-০৩)
ISLAMIC DAWAH FOUNDATION The truth is revealed to Islam