মৃত্যুর সময় একজন নেশাগ্রশ্ত পাপী মুসলিম এর কি কি হয়। অর্থাৎ ঐ ব্যাক্তির সাথে কি করা হয়
রুহ কবজ করার সময় কঠোরতা
পাপী ও নাফরমান ব্যক্তির মৃত্যুর সময় কঠোর ও ভয়ের চেহারা নিয়ে আযাবের ফেরেশতারা উপস্থিত হন। তাদের সাথে থাকে জাহান্নামের ঠাণ্ডা ও দুর্গন্ধযুক্ত কাপড় বা ছাই। সুরা আনফাল আয়াত ৫০
وَ لَوۡ تَرٰۤی اِذۡ یَتَوَفَّی الَّذِیۡنَ كَفَرُوا ۙ الۡمَلٰٓئِكَۃُ یَضۡرِبُوۡنَ وُجُوۡهَهُمۡ وَ اَدۡبَارَهُمۡ ۚ وَ ذُوۡقُوۡا عَذَابَ الۡحَرِیۡقِ
অর্থ- আর আপনি যদি দেখতে পেতেন যখন ফিরিশতাগণ যারা কুফরী করেছে তাদের প্রাণ হরণ করছিল, তাদের মুখমণ্ডলে ও পিঠে আঘাত করছিল। আর বলছিল তোমরা দহনযন্ত্রণা ভোগ কর।
ভেজা পশমের মধ্যে লোহার কাঁটা ঢুকিয়ে যেভাবে টেনে বের করা হয়, পাপী ব্যক্তির শরীর থেকে তেমনি অত্যন্ত কষ্ট ও চঞ্চলতার সাথে আত্মা বা রুহ টেনে বের করা হয়। মৃত্যুর ফেরেশতারা তাকে দুনিয়াবি শাস্তি ও আল্লাহর অসন্তুষ্টির সুসংবাদ দেয়, যার ফলে তার ভেতর চরম আতঙ্ক তৈরি হয়।
বরযখ বা কবরের প্রাথমিক অবস্থা
পাপী ব্যক্তির জন্য কবর সংকুচিত হয়ে যায়। এমনভাবে চাপ দেওয়া হয় যে এক পাশের পাজরের হাড় অন্য পাশের হাড়ের মধ্যে ঢুকে যায়।
রাসুল সাঃ বলেন- পাপী ব্যক্তিকে যখন কবরে প্রশ্ন করা হয় এবং সে উত্তর দিতে পারে না, তখন আকাশ থেকে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন, ‘সে মিথ্যা বলেছে। সুতরাং তার জন্য জাহান্নামের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তাকে জাহান্নামের পোশাক পরিয়ে দাও।’ অতঃপর তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং কবরের দুই পাশ এমনভাবে চেপে আসে যে তার একদিকের পাজরের হাড় অপরদিকের হাড়ের ভেতর ঢুকে যায়। (মুসনাদে আহমাদ, সুনানে আবু দাউদ)
ঈমানদারদের রুহ যেখানে আসমানের উঁচুতে ‘ইল্লিয়্যীন’-এ রাখা হয়, পাপাচারীদের রুহ তেমন মর্যাদাপূর্ণ স্থানে না রেখে নিচের স্তর বা ‘সিজ্জীন’-এ প্রেরিত হয়। যারা দুনিয়াতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তওবা না করে মারা যান, হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী আখেরাতে তাদের বিশেষ শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। এমনকি কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, মাদকাসক্ত ও নেশাকারীদের জাহান্নামিদের শরীর থেকে নির্গত পুঁজ পান করানো হতে পারে।
সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৫৫৭৫
“যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মদ (বা যেকোনো নেশাজাতীয় দ্রব্য) পান করল এবং তা থেকে তওবা না করে মারা গেল, সে আখেরাতে জান্নাতের পবিত্র শরাব পান করা থেকে বঞ্চিত হবে।”
আখেরাতের চূড়ান্ত ফয়সালা
তওবা ছাড়া মৃত্যুবরণকারী কবিরা গুনাহগার বা পাপাচারী মুসলিম সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। আল্লাহ চাইলে নিজ দয়া ও ক্ষমায় তাকে সরাসরি ক্ষমা করতে পারেন।
সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৪৮
اِنَّ اللّٰهَ لَا یَغۡفِرُ اَنۡ یُّشۡرَكَ بِهٖ وَ یَغۡفِرُ مَا دُوۡنَ ذٰلِكَ لِمَنۡ یَّشَآءُ ۚ وَ مَنۡ یُّشۡرِكۡ بِاللّٰهِ فَقَدِ افۡتَرٰۤی اِثۡمًا عَظِیۡمًا
অর্থ- নিশ্চয় আল্লাহ তার সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না। এছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করেন। আর যে-ই আল্লাহর সাথে শরীক করে, সে এক মহাপাপ রটনা করে।
আল্লাহ যদি ক্ষমা না করেন, তবে তার পাপের পরিমাণ অনুযায়ী তাকে জাহান্নামে বা কবরে শাস্তি দেওয়া হতে পারে। তবে অণুপরিমাণ ঈমান বা তাওহীদ থাকলে শাস্তি ভোগ করার পর সে একদিন জান্নাতে প্রবেশ করবে, এবং জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে না।
ISLAMIC DAWAH FOUNDATION The truth is revealed to Islam