তোফাজ্জল হোসেন ভৈরবীর বক্তব্যে শুনলাম, তিনি বললেন জ্বালালাইন উল্লেখ আছে নবীজির হাশরের ময়দানে 3 জন এর সাথে বিয়ে হবে
১. ফেরাঅন এর বিবি আছিয়া
২. মোরিয়ম
৩. মুসা নবীর বোন এমন কিছু
এটার কি আদৌ কোনো দলিল আছে
প্রশ্নঃ নবীজির হাশরের ময়দানে ৩ জন এর সাথে বিয়ে হবে ১. ফেরাউন এর বিবি আছিয়া ২. মরিয়ম আঃ ৩. মুসা আঃ এর বোন। এটার কি আদৌ কোনো দলিল আছে?
জান্নাতে বা হাশরের ময়দানে নবীজি (সা.)-এর সাথে হযরত মরিয়ম, ফেরাউনের স্ত্রী আছিয়া এবং মুসা (আ.)-এর বোন কুলছুম (রা.)-এর বিয়ে হবে এমন দাবির পক্ষে সাহিহ (বিশুদ্ধ) কোনো হাদিস নেই। বরং মুহাদ্দিস ও তাফসিরবিদদের মতে, এই মর্মে বর্ণিত হাদিসগুলো সনদগত দিক থেকে অত্যন্ত দুর্বল (যয়ীফ) অথবা বানোয়াট (জাল)।
এ বিষয়ে হাদিস ও তাফসীরের মূল পর্যালোচনা:
এই বিষয়ে ইমাম তাবারানি (রহ.) নিজ গ্রন্থ আল-মু‘জামুল কাবির-সহ অন্য বর্ণনায় কিছু হাদিস এনেছেন। তবে হাফেজ ইবনে কাসীর (রহ.) তাঁর আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ এবং তাফসির গ্রন্থে এসব হাদিস উল্লেখ করার পর সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, এগুলোর প্রত্যেকটির সনদে সমস্যা রয়েছে এবং বর্ণনাকারীরা অত্যন্ত দুর্বল। হাদিস বিশারদ আলবানী (রহ.)-ও এগুলোকে ‘মুনকার’ বা জাল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
তাফসীরে জালালাইন ও অন্যান্য: তাফসীরে জালালাইনের কোথাও হাশরের ময়দানে বা জান্নাতে নবীজির সাথে তাদের বিয়ের কথা উল্লেখ নেই। তবে কোনো কোনো তাফসীরকারক যেমন আল-বাকাঈ (রহ.) বা অন্য ঐতিহাসিকরা পূর্ববর্তী উম্মতদের নেককার নারীদের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য দুর্বল সূত্রে পাওয়া এই বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেছেন।
আলেমদের মতে, এই বিষয়গুলো ঈমান বা আমলের মৌলিক কোনো অংশ নয়। যেহেতু বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা বিষয়টি প্রমাণিত নয়, তাই একে নিশ্চিত বা অকাট্য সত্য হিসেবে বিশ্বাস করার সুযোগ নেই।
পরকালে বা জান্নাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে তাঁর দুনিয়ার পবিত্র স্ত্রীগণই (উম্মাহাতুল মুমিনীন) পুনরায় স্ত্রী হিসেবে থাকবেন। বিশুদ্ধ হাদিস ও ইসলামী আলেমদের ঐকমত্য অনুযায়ী, নবীজি (সা.)-এর সাথে জান্নাতে নতুন করে কোনো নারীর বিয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ নেই।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের একাধিক আয়াতে স্পষ্ট করেছেন যে, মুমিন ব্যক্তিরা যখন জান্নাতে প্রবেশ করবেন, তখন তাঁদের যোগ্য ও নেককার স্ত্রী এবং সন্তানদেরও তাঁদের সাথে জান্নাতে মিলিয়ে দেওয়া হবে।
দলিলঃ সূরা আর-রাদ, আয়াত ২৩
جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا وَمَن صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْواجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ
অর্থ: “তা হলো স্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের পিতৃপুরুষ, স্ত্রীগণ ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল হয়েছে তারাও।”
দলিলঃ সূরা ইয়াছিন, আয়াত ৫৬
هُمْ وَأَزْوَاجُهُمْ فِي ظِلَالٍ عَلَى الْأَرَائِكِ مُتَّكِئُونَ
অর্থ: “তারা এবং তাদের স্ত্রীরা উপবিষ্ট থাকবে ছায়াময় পরিবেশে সিংহাসনের ওপর হেলান দিয়ে।”
দলিলঃ সহীহ বুখারী হাদিস নং- ৩৭৭২
أَبَا وَائِلٍ قَالَ لَمَّا بَعَثَ عَلِيٌّ عَمَّارًا وَالْحَسَنَ إِلَى الْكُوفَةِ لِيَسْتَنْفِرَهُمْ خَطَبَ عَمَّارٌ فَقَالَ إِنِّيْ لَاعْلَمُ أَنَّهَا زَوْجَتُهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَلَكِنَّ اللهَ ابْتَلَاكُمْ لِتَتَّبِعُوْهُ أَوْ إِيَّاهَا
আবূ ওয়াইল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আলী (রাঃ) তাঁর স্বপক্ষে জিহাদে সাহায্য করার জন্য লোক সংগ্রহের জন্য আম্মার ও হাসান (রাঃ)-কে কুফায় পাঠান। আম্মার (রাঃ) তাঁর ভাষণে একদা বললেন, এ কথা আমি ভালভাবেই জানি যে, ‘আয়িশাহ (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুনিয়া ও আখিরাতের সম্মানিতা স্ত্রী। কিন্তু এখন আল্লাহ্ তোমাদেরকে পরীক্ষা করছেন যে তোমরা কি ‘আলী (রাঃ)-এর আনুগত্য করবে, না ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর আনুগত্য করবে?
সর্বশেষ বলতে পারি, রাসুল (সাঃ) পরকালে আপনার উল্লেখিত তিনজন নারীকে বিবাহ বা স্ত্রী হিসেবে পাবেন এমন কোন সহীহ হাদিস বা কুরআনের দলিল পাওয়া যায়না। তাই আমরা এই বিষয়টি বিশ্বাস করার সুযোগ নেই।
ISLAMIC DAWAH FOUNDATION The truth is revealed to Islam