Tuesday , September 1 2026

বিতর স্বলাতের নিয়ম (পর্ব-১৩)

বিতর স্বলাতের নিয়ম

দলিল নং- ১৪৪ সহীহ বুখারী হাদিস নং ৯৯০

عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَجُلاً سَأَلَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَلاَةِ اللَّيْلِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهِ السَّلاَم صَلاَةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى فَإِذَا خَشِيَ أَحَدُكُمْ الصُّبْحَ صَلَّى رَكْعَةً وَاحِدَةً تُوتِرُ لَهُ مَا قَدْ صَلَّى

ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট রাতের স্বলাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ রাতের স্বলাত দু’ দু’ (রাক‘আত) করে। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি ফজর হবার আশঙ্কা করে, সে যেন এক রাক‘আত স্বলাত আদায় করে নেয়। আর সে যে স্বলাত আদায় করল, তা তার জন্য বিতর হয়ে যাবে।

দলিল নং- ১৪৫ আবু দাউদ হাদিস নং ১৪২২ (হাদিসের মান সহীহ)

عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ الْوِتْرُ حَقٌّ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ فَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُوتِرَ بِخَمْسٍ فَلْيَفْعَلْ وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُوتِرَ بِثَلاَثٍ فَلْيَفْعَلْ وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُوتِرَ بِوَاحِدَةٍ فَلْيَفْعَلْ ‏

আবু আয়্যূব আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ বিতিরের স্বলাত প্রত্যেক মুসলিমের জন্য হক। যে ব্যক্তি তাকে পাঁচ রাকাত আদায় করতে চায়, সে পাঁচ রাকাত আদায় করবে; যে ব্যক্তি তিন রাকাত আদায়ের ইচ্ছা করে, সে ঐরূপ করবে এবং যে ব্যক্তি এক রাকাত আদায় করতে চায়, সে এক রাকাত আদায় করবে।

১ রাকাত বিতর স্বলাতের নিয়মঃ

বিতরের নিয়ত নিয়ে স্বলাতে দাড়িয়ে সাধারণ স্বলাতের মতই সানা, আউজুবিল্লাহ বিসমিল্লাহ ইত্যাদি পাঠ করে সুরা ফাতিহা পাঠ করতে হবে সাথে অন্য একটি সুরা বা আয়াত কিরাত হিসেবে পাঠ করতে হবে। তার পর রুকুতে যেতে হবে। রুকু থেকে উঠে সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদা, রব্বানা লাকাল হামদ ….  ইত্যাদি পাঠ শেষ করে মোনাজাতের মত ২ হাত তুলে ”দোয়া কুনুত” পাঠ করতে হয়। অথবা রুকুর আগেও সূরা মিলানোর পর মোনাজাতের মত ২ হাত তুলে দোয়া কুনুত পাঠ করা যায়। উভয়টাই জায়েজ। দোয়া কুনুত পাঠ অপরিহার্য (ওয়াজিব) নয়। তাই না জানলেও বিতর হয়ে যাবে, তবে শিখে নেওয়া উচিত। কুনুত পাঠ করে তারপর সিজদায় গিয়ে দুটো সিজদা করে তাশাহুদে বসে পড়তে হবে। তার পর আত্যাহিয়াতু, দুরুদ, দুয়া মাসুরা ইত্যাদি পাঠ করে সালাম ফেরাতে হবে। এটাই ১ রাকাত বিতর। সাধারণ স্বলতের মতই।

৩ রাকাত বিতর স্বলাতের নিয়মঃ

বিতর ৩ রাকাত দুইভাবে পড়া যায়, এক সালামে অথবা দুই সালামে।

এক সালামে পড়লে, আপনি সাধারণ সালাতের মতো দুই রাকাত পড়বেন কিন্তু দুই রাকাতের যে বৈঠক সেখানে বসবেন না। কারণ রসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “তোমরা বিতরকে মাগরিবের মতো করে দিওনা”. এখন দুই রাকাতের বৈঠকে না বসে আপনি ৩ রাকাত বিতরকে মাগরিবের সালাতের সাথে পার্থক্য সৃষ্টি করে দিলেন। ২য় রাকাতে বৈঠকে না বসে দাঁড়িয়ে ৩য় রাকাত পুরো করবেন, আর ৩য় রাকাতে আপনি ১ রাকাত বিতর পড়ার যে নিয়ম সেইভাবে কুনুত পড়বেন। এর পরে রাকাত পুরো করে সালাম ফিরাবেন।

দুই সালামে পড়লে, সাধারণ নিয়ম মত দুই রাকাত পড়বেন এবং বাকি একরাকাত উপরে উল্লেখিত ১ রাকাত বিতর স্বলাতের নিয়ম অনুযায়ী পড়বেন।

৫ রাকাত বিতর স্বলাতের নিয়মঃ

দলিল নং- ১৪৬ সহীহ মুসলিম হাদিস নং ৭৩৭

عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً يُوتِرُ مِنْ ذَلِكَ بِخَمْسٍ لاَ يَجْلِسُ فِي شَىْءٍ إِلاَّ فِي آخِرِهَا

আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা তের রাকাআত সালাত আদায় করতেন। এর মধ্যে পাঁচ রাক’আত আদায় করতেন বিতর এবং এতে একেবারে শেষে ছাড়া কোন বৈঠক করতেন না।

এক সালামে পড়লে, আপনি সাধারণ সালাতের মতো চার রাকাত পড়বেন কিন্তু দুই রাকাতের পরে এবং চার রাকাতের পরে যে বৈঠক সেখানে বসবেন না। আর ৫ম রাকাতে আপনি ১ রাকাত বিতর পড়ার যে নিয়ম সেইভাবে কুনুত পড়বেন। এর পরে রাকাত পুরো করে সালাম ফিরাবেন।

এছাড়া, সাধারণ নিয়ম মত দুই রাকাত পড়বেন, আবার  দুই রাকাত পড়বেন এবং বাকি একরাকাত উপরে উল্লেখিত ১ রাকাত বিতর স্বলাতের নিয়ম অনুযায়ী পড়বেন।

৭ রাকাত বিতর স্বলাতের নিয়মঃ

এক সালামে পড়লে, আপনি সাধারণ সালাতের মতো ছয় রাকাত পড়বেন কিন্তু দুই রাকাতের পরে, চার রাকাতের পরে এবং ছয় রাকাতের পরে যে বৈঠক সেখানে বসবেন না। আর ৭ম রাকাতে আপনি ১ রাকাত বিতর পড়ার যে নিয়ম সেইভাবে কুনুত পড়বেন। এর পরে রাকাত পুরো করে সালাম ফিরাবেন।

এছাড়া, সাধারণ নিয়ম মত দুই রাকাত পড়বেন, আবার  দুই রাকাত পড়বেন, আবার  দুই রাকাত পড়বেন এবং বাকি একরাকাত উপরে উল্লেখিত ১ রাকাত বিতর স্বলাতের নিয়ম অনুযায়ী পড়বেন।

৯ রাকাত বিতর স্বলাতের নিয়মঃ

দলিল নং- ১৪৭ সহীহ মুসলিম হাদিস নং ৭৪৬

وَهُوَ قَاعِدٌ فَتِلْكَ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يَا بُنَىَّ فَلَمَّا أَسَنَّ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَخَذَ اللَّحْمَ أَوْتَرَ بِسَبْعٍ وَصَنَعَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ مِثْلَ صَنِيعِهِ الأَوَّلِ فَتِلْكَ تِسْعٌ يَا بُنَىَّ وَكَانَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا صَلَّى صَلاَةً أَحَبَّ أَنْ يُدَاوِمَ عَلَيْهَا وَكَانَ إِذَا غَلَبَهُ نَوْمٌ أَوْ وَجَعٌ عَنْ قِيَامِ اللَّيْلِ صَلَّى مِنَ النَّهَارِ ثِنْتَىْ عَشْرَةَ رَكْعَةً وَلاَ أَعْلَمُ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ الْقُرْآنَ كُلَّهُ فِي لَيْلَةٍ وَلاَ صَلَّى لَيْلَةً إِلَى الصُّبْحِ وَلاَ صَامَ شَهْرًا كَامِلاً غَيْرَ رَمَضَانَ

তারপর বললেনঃ হে বৎস! এ এগার রাকাআত সালাত তিনি রাতে আদায় করতেন। পরবর্তী নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বয়স বেড়ে গিয়েছিল এবং শরীরও কিছুটা ভারী হয়ে গিয়েছিল তখন তিনি সাত রাকাআত বিতর আদায় করতেন। এক্ষেত্রেও তিনি শেষের দু রাকাআত সালাত পূর্বের মতো করেই আদায় করতেন। হে বৎস! এভাবে তিনি নয় রাকাআত সালাত আদায় করতেন। আর নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সালাত আদায় করলে তা সর্বদা নিয়মিত আদায় করা পছন্দ করতেন। যখন ঘুমের প্রাবল্য বা ব্যথা-বেদনার কারণে তিনি রাতে ইবাদাত (সালাত আদায়) করতে পারতেন না, তখন দিনের বেলা বারো রাকাআত সালাত আদায় করতেন। আর নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে পুরো কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করেছেন বা সকাল পর্যন্ত সারা রাত আদায় করেছেন কিংবা রমযান মাস ছাড়া সারা মাস সিয়াম (রোযা) পালন করেছেন এমনটি আমি কখনো দেখিনি।

এক সালামে পড়লে, আপনি সাধারণ সালাতের মতো আট রাকাত পড়বেন কিন্তু দুই রাকাতের পরে, চার রাকাতের পরে, ছয় রাকাতের পরে এবং আট রাকাতের পরে যে বৈঠক সেখানে বসবেন না। আর ৯ম রাকাতে আপনি ১ রাকাত বিতর পড়ার যে নিয়ম সেইভাবে কুনুত পড়বেন। এর পরে রাকাত পুরো করে সালাম ফিরাবেন।

এছাড়া, সাধারণ নিয়ম মত দুই রাকাত পড়বেন, আবার  দুই রাকাত পড়বেন, আবার  দুই রাকাত পড়বেন, আবার  দুই রাকাত পড়বেন এবং বাকি একরাকাত উপরে উল্লেখিত ১ রাকাত বিতর স্বলাতের নিয়ম অনুযায়ী পড়বেন।

বিতর স্বলাতের দোয়া কুনুত

দলিল নং- ১৪৮ তিরমিজি হাদিস নং ৪৬৪ (হাদিসের মান সহীহ)

قَالَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ رضى الله عَنْهُمَا عَلَّمَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَلِمَاتٍ أَقُولُهُنَّ فِي الْوِتْرِ ‏ “‏ اللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ فَإِنَّكَ تَقْضِي وَلاَ يُقْضَى عَلَيْكَ وَإِنَّهُ لاَ يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ

হাসান ইবনু আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ বিতরে পাঠের জন্য রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কিছু কালেমা শিখিয়েছেনঃ

দোয়াটি হলোঃ

اللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ فَإِنَّكَ تَقْضِي وَلاَ يُقْضَى عَلَيْكَ وَإِنَّهُ لاَ يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ

অর্থঃ ’’হে আল্লাহ! যাদের আপনি হিদায়াত করে তাদের সাথে আমাকেও হিদায়াত করুন, যাদের আপনি অকল্যাণ থেকে দূরে রেখেছেন তাদের সাথে আমাকেও অকল্যাণ থেকে দূরে রাখুন, যাদের আপনি আপনার অভিভাবকত্বে রেখেছেন তাদের সাথে আমাকেও আপনার অভিভাবকত্বে রাখুন। আপনি যা দিয়েছেন তাতে আপনি বরকত দিন। আপনি আমার তাকদিরে যা রেখেছেন এর অসুবিধা থেকে আমাকে রক্ষা করুন, আপনই তো ফয়সালা দেন, আপনার বিপরীত তো ফয়সালা দিতে পারে না কেউ। আপনি যার বন্ধু তাকে তো লাঞ্ছিত করতে পারবে না কেউ। হে আমার রব! আপনি তো বরকতময় এবং সুমহান।

মন্তব্যঃ উল্লেখ্য যে, আমাদের দেশে ‘কুনূতে নাযেলা’ থেকে মধ্যম অংশটুকু অর্থাৎ ইন্না নাস্তাঈনুকা নিয়ে সেটাকে ‘কুনুতে বিতর’ হিসেবে চালু করা হয়েছে আলবানী (রহঃ) বলেন যে, এই দোয়াটি ওমর (রাঃ) ফজরের স্বলাতে কুনুতে নাজেলা হিসেবে পড়তেন। এটাকে তিনি বিতরের কুনুতে পড়েছেন বলে আমি জানতে পারিনি। ইরওয়াউল গালীল হা/৪২৮, ২/১৭২ পৃঃ।

কুনুতে নাযেলা

দলিল নং- ১৪৯ সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-১০৯৭


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَكُنْ يَقْنُتُ إِلَّا أَنْ يَدْعُوَ لِقَوْمٍ عَلَى قَوْمٍ، فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَدْعُوَ عَلَى قَوْمٍ أَوْ يَدْعُوَ لِقَوْمٍ، قَنَتَ حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ مِنَ الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ مِنْ صَلَاةِ الْفَجْرِ

আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূল সাঃ ফজরের স্বলাতের সময় সর্বদা কুনুতে [নাজেলাহ] পড়তেন না। শুধু পড়তেন কোন জাতির জন্য দুআ করতে বা বদদুআ করার প্রয়োজন হলে। তিনি কুনুত পড়তেন যখন ফজরের নামাযের দ্বিতীয় রাকাতের রুকু থেকে মাথা উঠাতেন।

ইমাম বাইহাকি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ বাইহাকিতে কুনুতে নাজেলায় পড়ার দোয়া এভাবে তুলে ধরেছেন
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا ، وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ ، وَأَلِّفْ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ ، وَأَصْلِحْ ذَاتَ بَيْنِهِمْ ، وَانْصُرْهُمْ عَلَى عَدُوِّكَ وَعَدُوِّهِمْ، اللَّهُمَّ الْعَنْ كَفَرَةَ أَهْلِ الْكِتَابِ الَّذِينَ يَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِكَ ، وَيُكُذِّبُونَ رُسُلَكَ ، وَيُقَاتِلُونَ أَوْلِيَاءَكَ اللَّهُمَّ خَالِفْ بَيْنَ كَلِمَتِهِمَ ، وَزَلْزِلْ أَقْدَامَهُمْ، وَأَنْزِلْ بِهِمْ بَأْسَكَ الَّذِى لاَ تَرُدُّهُ عَنِ الْقَوْمِ الْمُجْرِمِينَ اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْتَعِينُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُثْنِى عَلَيْكَ وَلاَ نَكْفُرُكَ، وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَفْجُرُكَ اللَّهُمَّ إِيَّاكَ نَعْبُدُ، وَلَكَ نُصَلِّى وَنَسْجُدُ، وَلَكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ ، نَخْشَى عَذَابَكَ الْجَدَّ، وَنَرْجُو رَحْمَتَكَ، إِنَّ عَذَابَكَ بِالْكَافِرِينَ مُلْحَقٌ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে এবং সকল মুমিন-মুসলিম নর নারীকে ক্ষমা করুন, আপনি তাদের অন্তর সমূহে মহব্বত পয়দা করে দিন ও তাদের মধ্যকার বিবাদ মীমাংসা করে দিন; আপনি তাদেরকে আপনার ও তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে সাহায্য করুন; হে আল্লাহ! আপনি কাফেরদের উপরে লা’নত করুন; যারা আপনার রাস্তা বন্ধ করে, আপনার প্রেরিত রাসূলগণকে অবিশ্বাস করে ও আপনার বন্ধুদের সাথে লড়াই করে; হে আল্লাহ, আপনি তাদের দলের মধ্যে ভাঙ্গন সৃষ্টি করে দিন ও তাদের পদ সমূহ টলিয়ে দিন এবং আপনি তাদের মধ্যে আপনার প্রতিশোধকে নামিয়ে দিন, যা পাপাচারী সম্প্রদায় থেকে আপনি ফিরিয়ে নেন না। হে আল্লাহ! আমরা তোমারই সাহায্য চাই। তোমারই নিকট ক্ষমা চাই, তোমারই প্রতি ঈমান রাখি, তোমারই ওপর ভরসা করি এবং সকল মঙ্গল তোমারই দিকে ন্যস্ত করি। আমরা তোমার কৃতজ্ঞ হয়ে চলি, অকৃতজ্ঞ হই না। সম্পর্ক ছিন্ন করি ও পরিত্যাগ করি যারা তোমার অবাধ্যতা করে ৷হে আল্লাহ! আমরা তোমারই দাসত্ব করি, তোমারই জন্য স্বলাত পড়ি এবং তোমাকেই সিজদাহ করি। আমরা তোমারই দিকে দৌড়াই ও এগিয়ে চলি। আমরা তোমারই রহমত আশা করি এবং তোমার আযাবকে ভয় করি। আর তোমার আযাবতো কাফেরদের জন্যই র্নিধারিত।

মন্তব্যঃ উল্লেখ্য যে, উক্ত ‘কুনূতে নাযেলা’ থেকে মধ্যম অংশটুকু অর্থাৎ ইন্না নাস্তাঈনুকা নিয়ে সেটাকে ‘কুনুতে বিতর’ হিসেবে চালু করা হয়েছে, যা নিতান্তই ভুল। আলবানী (রহ.) বলেন যে, এই দোয়াটি ওমর (রাঃ) ফজরের সালাতে কুনুতে নাজেলা হিসেবে পড়তেন। এটাকে তিনি বিতরের কুনুতে পড়েছেন বলে আমি জানতে পারিনি। ইরওয়াউল গালীল হা/৪২৮, ২/১৭২ পৃঃ।

বিতর স্বলাতের নিয়ম

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-১২)

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-১১)

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-১০)

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-০৯)

স্বলাতের সময় সম্পর্কে সঠিক ধারনা (পর্ব-০৮)

তায়াম্মুম সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন (পর্ব-০৭)

গোসল সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন (পর্ব-০৬)

ত্বহারাত বা পবিত্রতা (অযু)-দ্বিতীয় অধ্যায় (পর্ব-০৫)

ইমান ভঙ্গের কারনসমূহ (পর্ব-০৪)

জ্ঞান অর্জন ও ঈমান – প্রথম অধ্যায় (পর্ব-০৩)

চার ইমাম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ন কথা (পর্ব-০২)

দলিলভিত্তিক ইবাদত ও জীবনপথ বইয়ের লেখকের বানী (পর্ব-০১)

About Md Nazmul Azam

I am website developer.

Check Also

বিতর স্বলাতের নিয়ম

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-১০)

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পূর্বের পাঠ) সুরা ফাতিহার শেষে আমিন বলা দলিল নং- ৯৭। সহীহ বুখারী …

আউয়াল ওয়াক্তে স্বলাত আদায়ের গুরুত্ব

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-০৯)

সালাতের পদ্ধতি দলিল নং- ৭০। সুরা আল আনকাবুত আয়াত নং-৪৫ اِنَّ الصَّلٰوۃَ تَنۡهٰی عَنِ الۡفَحۡشَآءِ …

জুলুমকারীকে বাধা দেওয়া উচিত।

সহীহ বুখারী হাদিস নম্বর ২৪৪৪ আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *