Tuesday , September 8 2026

গোসল সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন (পর্ব-০৬)

গোসল

দলিল নং- ৪৬ সুরা আন নিসা আয়াত নং- ৪৩

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَقۡرَبُوا الصَّلٰوۃَ وَ اَنۡتُمۡ سُكٰرٰی حَتّٰی تَعۡلَمُوۡا مَا تَقُوۡلُوۡنَ وَ لَا جُنُبًا اِلَّا عَابِرِیۡ سَبِیۡلٍ حَتّٰی تَغۡتَسِلُوۡا ؕ وَ اِنۡ كُنۡتُمۡ مَّرۡضٰۤی اَوۡ عَلٰی سَفَرٍ اَوۡ جَآءَ اَحَدٌ مِّنۡكُمۡ مِّنَ الۡغَآئِطِ اَوۡ لٰمَسۡتُمُ النِّسَآءَ فَلَمۡ تَجِدُوۡا مَآءً فَتَیَمَّمُوۡا صَعِیۡدًا طَیِّبًا فَامۡسَحُوۡا بِوُجُوۡهِكُمۡ وَ اَیۡدِیۡكُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَفُوًّا غَفُوۡرًا 

হে মুমিনগণ! নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তোমরা সালাতের নিকটবর্তী হয়ে না, যতক্ষন পর্যন্ত না তোমরা যা বল তা বুঝতে পার এবং যদি তোমরা মুসাফির না হও তবে অপবিত্র অবস্থাতেও নয়, যতক্ষন পর্যন্ত না তোমরা গোসল কর। আর যদি তোমরা পীড়িত হও অথবা সফরে থাক বা তোমাদের কেউ শৌচস্থান থেকে আসে অথবা তোমরা নারী সম্ভোগ কর এবং পানি না পাও তবে পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম কর সুতরাং মাসেহ কর তোমরা তোমাদের চেহারা ও হাত, নিশ্চয় আল্লাহ পাপ মোচনকারী, ক্ষমাশীল।

গোসলের পূর্বে অযূ করা ও গোসলের নিয়ম

দলিল নং- ৪৭ সহীহ বুখারী হাদিস নং- ২৪৮

 عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا اغْتَسَلَ مِنَ الْجَنَابَةِ بَدَأَ فَغَسَلَ يَدَيْهِ، ثُمَّ يَتَوَضَّأُ كَمَا يَتَوَضَّأُ لِلصَّلاَةِ، ثُمَّ يُدْخِلُ أَصَابِعَهُ فِي الْمَاءِ، فَيُخَلِّلُ بِهَا أُصُولَ شَعَرِهِ ثُمَّ يَصُبُّ عَلَى رَأْسِهِ ثَلاَثَ غُرَفٍ بِيَدَيْهِ، ثُمَّ يُفِيضُ الْمَاءَ عَلَى جِلْدِهِ كُلِّهِ

’আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানাবাতের গোসল করতেন, তখন প্রথমে তাঁর হাত দু’টো ধুয়ে নিতেন। অতঃপর সালাতের উযূর মত উযূ করতেন। অতঃপর তাঁর আঙ্গুলগুলো পানিতে ডুবিয়ে নিয়ে চুলের গোড়া খিলাল করতেন। অতঃপর তাঁর উভয় হাতের তিন আজলা পানি মাথায় ঢালতেন। তারপর তাঁর সারা দেহের উপর পানি ঢেলে দিতেন।

স্ত্রী সহবাস করার পর গোসল না করে ঘুমানো

দলিল নং- ৪৮ সহীহ বুখারী হাদিস নং- ২৮৭

أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَيَرْقُدُ أَحَدُنَا وَهْوَ جُنُبٌ قَالَ ‏ “‏ نَعَمْ إِذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ فَلْيَرْقُدْ وَهُوَ جُنُبٌ ‏

উমার ইব্‌নুল-খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি আল্লাহর রসূল (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমাদের কেউ জানাবাতের অবস্থায় ঘুমাতে পারবে কি? তিনি বললেনঃ হাঁ, অযূ করে নিয়ে জানাবাতের অবস্থায়ও ঘুমাতে পারে।

কয়টি কারনে গোসলের ফরয হয়?

গোসল ফরজের কারণ ছয়টি:

১. কোন পুরুষ বা মহিলা হতে যৌন উত্তেজনার সাথে বীযর্পাত হওয়া। চাই হস্তমৈথুন করে হোক বা সহবাসে হোক বা স্বপ্নদোষ ইত্যাদির মাধ্যমে হোক।

২. পুরুষলিঙ্গের সামনের অংশ স্ত্রীলিঙ্গের ভিতরে প্রবেশ হলে, যদিও কারো বীযর্পাত না হয়, তবুও গোসল ফরজ।

দলিল নং- ৪৯ সহীহ বুখারী হাদিস নং-২৯১

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ إِذَا جَلَسَ بَيْنَ شُعَبِهَا الأَرْبَعِ ثُمَّ جَهَدَهَا، فَقَدْ وَجَبَ الْغَسْلُ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নাবী (সল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি স্ত্রীর চার শাখার মাঝে বসে তার সাথে সঙ্গত হলে, তার উপর গোসল ওয়াজিব হয়ে যায়।

৩. আল্লাহর রাহে যুদ্ধে শহীদ ব্যতীত, কোন মুসলমান মারা গেলে।

৪. কাফের মুসলমান হলে।

দলিল নং- ৫০ আবু দাউদ হাদিস নং-৩৫৫ (হাদিসের মান সহীহ)

عَنْ خَلِيفَةَ بْنِ حُصَيْنٍ، عَنْ جَدِّهِ، قَيْسِ بْنِ عَاصِمٍ قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أُرِيدُ الإِسْلاَمَ فَأَمَرَنِي أَنْ أَغْتَسِلَ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ ‏

খলীফা ইবনু হুসায়েন থেকে তাঁর দাদা কায়েস (রাঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইসলাম কবুল করার আগ্রহে নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে হাযির হলে তিনি আমাকে কূলের পাতা মিশ্রিত পানি দ্বারা গোসল করার নির্দেশ দেন।

৫. মহিলাদের হায়েয-মাসিক ঋতু হলে।

৬. মহিলাদের নেফাস-প্রসূতি অবস্থার রক্ত বের হলে।

গোসলের বিবরণ

দলিল নং- ৫১ সহীহ বুখারী হাদিস নং-২৭৬

قَالَتْ مَيْمُونَةُ وَضَعْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم غُسْلاً، فَسَتَرْتُهُ بِثَوْبٍ، وَصَبَّ عَلَى يَدَيْهِ فَغَسَلَهُمَا، ثُمَّ صَبَّ بِيَمِينِهِ عَلَى شِمَالِهِ، فَغَسَلَ فَرْجَهُ، فَضَرَبَ بِيَدِهِ الأَرْضَ فَمَسَحَهَا، ثُمَّ غَسَلَهَا فَمَضْمَضَ، وَاسْتَنْشَقَ، وَغَسَلَ وَجْهَهُ وَذِرَاعَيْهِ، ثُمَّ صَبَّ عَلَى رَأْسِهِ، وَأَفَاضَ عَلَى جَسَدِهِ، ثُمَّ تَنَحَّى فَغَسَلَ قَدَمَيْهِ، فَنَاوَلْتُهُ ثَوْبًا فَلَمْ يَأْخُذْهُ، فَانْطَلَقَ وَهْوَ يَنْفُضُ يَدَيْهِ

মাইমূনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম এবং কাপড় দিয়ে পর্দা করে দিলাম। তিনি দু’হাতের উপর পানি ঢেলে উভয় হাত ধুয়ে নিলেন। তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি ঢেলে লজ্জাস্থান ধৌত করলেন। পরে হাতে মাটি লাগিয়ে ঘষে নিলেন এবং ধুয়ে ফেললেন। অতঃপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন,  চেহারা ও দু’ হাত (কনুই পর্যন্ত) ধৌত করলেন। তারপর মাথায় পানি ঢাললেন ও সমস্ত শরীরে পানি পৌঁছালেন। তারপর একটু সরে গিয়ে দু’পা ধুয়ে নিলেন। অতঃপর আমি তাঁকে একটা কাপড় দিলাম কিন্তু তা নিলেন না। তিনি দু‘হাত ঝাড়তে ঝাড়তে চলে গেলেন। 

সালাত আদায়ের পদ্ধতি

ত্বহারাত বা পবিত্রতা (অযু)-দ্বিতীয় অধ্যায় (পর্ব-০৫)

ইমান ভঙ্গের কারনসমূহ (পর্ব-০৪)

জ্ঞান অর্জন ও ঈমান – প্রথম অধ্যায় (পর্ব-০৩)

চার ইমাম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ন কথা (পর্ব-০২)

দলিলভিত্তিক ইবাদত ও জীবনপথ বইয়ের লেখকের বানী (পর্ব-০১)

About ISLAMIC DAWAH FOUNDATION

Check Also

ইনফাক-ফি-সাবিলিল্লাহ

ইনফাক ফি সাবিলিল্লাহ

ইনফাক ফি সাবিলিল্লাহ কুরআন ও হাদিসের আলোকে السلام عليكم و رحمة الله و بركاته.  الحمد …

বিতর স্বলাতের নিয়ম

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-১০)

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পূর্বের পাঠ) সুরা ফাতিহার শেষে আমিন বলা দলিল নং- ৯৭। সহীহ বুখারী …

আউয়াল ওয়াক্তে স্বলাত আদায়ের গুরুত্ব

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-০৯)

সালাতের পদ্ধতি দলিল নং- ৭০। সুরা আল আনকাবুত আয়াত নং-৪৫ اِنَّ الصَّلٰوۃَ تَنۡهٰی عَنِ الۡفَحۡشَآءِ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *