Saturday , June 27 2026

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-০৩)

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-০২)

রুকুতে যাওয়ার সময় ও রুকু থেকে উঠার সময়

এবং দুই রাকাত শেষে উঠার পর রফউল ইয়াদাইন করা

দলিল নং- ৮৬সহীহ বুখারী হাদিস নং-৭৩৮

أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ رضى الله عنهما افْتَتَحَ التَّكْبِيرَ فِي الصَّلاَةِ فَرَفَعَ يَدَيْهِ حِينَ يُكَبِّرُ حَتَّى يَجْعَلَهُمَا حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ وَإِذَا كَبَّرَ لِلرُّكُوعِ فَعَلَ مِثْلَهُ وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَعَلَ مِثْلَهُ وَقَالَ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ وَلاَ يَفْعَلُ ذَلِكَ حِينَ يَسْجُدُ وَلاَ حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ مِنْ السُّجُودِ

আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাকবীর দিয়ে স্বলাত শুরু করতে দেখেছি, তিনি যখন তাকবীর বলতেন তখন তাঁর উভয় হাত উঠাতেন এবং কাঁধ বরাবর করতেন। আর যখন রুকূ’র তাকবীর বলতেন তখনও এ রকম করতেন। আবার যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ  বলতেন, তখনও এ রকম করতেন এবং رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ  বলতেন। কিন্তু সিজদা্য় যেতে এ রকম করতেন না। আর সিজদা্ হতে মাথা উঠাবার সময়ও এমন করতেন না।

দলিল নং- ৮৭আবু দাউদ হাদিস নং-৭৪৩ (হাদিসের মান সহীহ)

 عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ 

ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন স্বলাতের দুই রাকাত আদায়ের পর দাঁড়াতেন, তখন তাকবীর বলে উভয় হাত উত্তোলন করতেন।

রুকুর দোয়া

দলিল নং- ৮৮সহীহ মুসলিম হাদিস নং ৭৭২

عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ فَافْتَتَحَ الْبَقَرَةَ فَقُلْتُ يَرْكَعُ عِنْدَ الْمِائَةِ ‏.‏ ثُمَّ مَضَى فَقُلْتُ يُصَلِّي بِهَا فِي رَكْعَةٍ فَمَضَى فَقُلْتُ يَرْكَعُ بِهَا ‏.‏ ثُمَّ افْتَتَحَ النِّسَاءَ فَقَرَأَهَا ثُمَّ افْتَتَحَ آلَ عِمْرَانَ فَقَرَأَهَا يَقْرَأُ مُتَرَسِّلاً إِذَا مَرَّ بِآيَةٍ فِيهَا تَسْبِيحٌ سَبَّحَ وَإِذَا مَرَّ بِسُؤَالٍ سَأَلَ وَإِذَا مَرَّ بِتَعَوُّذٍ تَعَوَّذَ ثُمَّ رَكَعَ فَجَعَلَ يَقُولُ ‏”‏ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ ‏”‏ ‏.‏ فَكَانَ رُكُوعُهُ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ ثُمَّ قَالَ ‏”‏ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ قَامَ طَوِيلاً قَرِيبًا مِمَّا رَكَعَ ثُمَّ سَجَدَ فَقَالَ ‏”‏ سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى ‏”‏ ‏.‏ فَكَانَ سُجُودُهُ قَرِيبًا مِنْ قِيَامِهِ

হুযায়ফাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করলাম। তিনি সূরাহ আল বাকারাহ পড়তে শুরু করলে আমি ভাবলাম তিনি হয়ত একশ’ আয়াত পড়ে রুকূ করবেন। কিন্তু এরপরেও তিনি পড়ে চললেন। তখন আমি চিন্তা করলাম। তিনি এর (সূরাহ আল বাকরাহ) দ্বারা পুরো দু’ রাকাআত পড়ে সালাম ফিরাবেন। কিন্তু তিনি এরপরেও পড়তে থাকলে আমি ভাবলাম সূরাটি শেষ করে তিনি রুকূ করবেন। কিন্তু এরপর তিনি সূরাহ নিসা পড়তে শুরু করলেন এবং তা পাঠ করলেন, অতঃপর তিনি সূরাহ আ-লি ইমরান শুরু করলেন এবং তা পাঠ করলেন। তিনি থেমে থেমে ধীরে ধীরে পড়ছিলেন এবং তাসবীর আয়াত আসলে তাসবীহ পড়ছিলেন আর কিছু চাওয়ার আয়াত আসলে চাইলেন। যখন আশ্রয় প্রার্থনা করার কোন আয়াত পড়ছিলেন তখন আশ্রয় প্রার্থনা করছিলেন।

অতঃপর তিনি রুকূ’ করলেন। রুকূ’তে তিনি বলতে থাকলেন, “সুবহা-না রব্বিয়াল আযীম” (আমার মহান প্রভু পবিত্র, আমি তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি)। তার রুকু কিয়ামের মতই দীর্ঘ ছিল। এরপর “সামি’আল্ল-ই লিমান হামিদাহ” (আল্লাহ শুনে থাকেন যে তার প্রশংসা করে) বললেনঃ এরপর যতক্ষণ সময় রুকু করেছিলেন প্রায় ততক্ষণ সময় পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকলেন। এরপর সিজদা করলেন। সাজদাতে তিনি বললেন, “সুবহা-না রব্বিয়াল আ’লা-” (মহান সুউচ্চ সত্তা আমার প্রভু পবিত্র, আমি তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি)। তার এ সাজদায়ও প্রায় কিয়ামের সময়ের মতো দীর্ঘায়িত হলো।

দোয়াটি হলোঃ

سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيْمِ

অর্থঃ আমার মহান প্রভু পবিত্র, আমি তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি

দলিল নং- ৮৯সহীহ বুখারী হাদিস নং ৭৯৪

قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي رُكُوعِهِ وَسُجُودِهِ ‏ “‏ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ‏”‏‏.‏

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ‘ ও সিজদা্য় এ দু‘আ পড়তেনঃ

দোয়াটি হলোঃ

سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي 

অর্থঃ ‘হে আমাদের রব আল্লাহ্! আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। হে আল্লাহ্! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন’’

দলিল নং- ৯০সহীহ মুসলিম হাদিস নং  ৭৭১

দোয়াটি হলোঃ

اللَّهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ خَشَعَ لَكَ سَمْعِي وَبَصَرِي وَمُخِّي وَعَظْمِي وَعَصَبِي

অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার উদ্দেশে রুকু করেছি, তোমার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি, তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি এবং আমার শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, হাড়সমূহ, স্মৃতিশক্তি ও শিরা তোমার প্রতি বিনয়ী

দলিল নং- ৯১সহীহ মুসলিম হাদিস নং ৪৮৭

 أَنَّ عَائِشَةَ، نَبَّأَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ فِي رُكُوعِهِ وَسُجُودِهِ ‏ “‏ سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلاَئِكَةِ وَالرُّوحِ ‏”

আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রুকূ’ ও সাজদায় এ দু’আ পড়তেনঃ “সমস্ত ফেরেশতা ও জিবরীল (আঃ)-এর প্রতিপালক অত্যন্ত পাক-পবিত্র।

দোয়াটি হলোঃ

سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلاَئِكَةِ وَالرُّوحِ

অর্থঃ সমস্ত ফেরেশতা ও জিবরীল (আঃ)-এর প্রতিপালক অত্যন্ত পাক-পবিত্র।

দলিল নং- ৯২আবু দাউদ হাদিস নং ৮৭৩ (হাদিসের মান সহীহ)

দোয়াটি হলোঃ

سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ

অর্থঃ পবিত্র ওই সত্তা, যিনি সর্বময় ক্ষমতা, সার্বভৌমত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্বের অধিকারী

রুকু হতে উঠার দোয়া

দলিল নং- ৯৩সহীহ বুখারী হাদিস নং ৭৩২

قَالَ أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ الأَنْصَارِيُّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَكِبَ فَرَسًا فَجُحِشَ شِقُّهُ الْأَيْمَنُ قَالَ أَنَسٌفَصَلَّى لَنَا يَوْمَئِذٍ صَلاَةً مِنْ الصَّلَوَاتِ وَهُوَ قَاعِدٌ فَصَلَّيْنَا وَرَاءَهُ قُعُودًا ثُمَّ قَالَ لَمَّا سَلَّمَ إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَإِذَا صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا وَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ.

আনাস ইবনু মালিক আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, একবার আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়ায় চড়েন। ফলে তাঁর ডান পাঁজরে আঁচড় লাগে। আনাস (রাযি.) বলেন, এ সময় কোন এক স্বলাত আমাদের নিয়ে তিনি বসে আদায় করেন। আমরাও তাঁর পিছনে বসে স্বলাত আদায় করি। সালাম ফিরানোর পর তিনি বললেনঃ ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাঁকে অনুসরণ করার জন্যই। তাই তিনি যখন দাঁড়িয়ে স্বলাত আদায় করেন তখন তোমরাও দাঁড়িয়ে স্বলাত আদায় করবে। আর তিনি যখন রুকু‘ করেন তখন তোমরাও রুকূ‘ করবে। তিনি যখন সিজদা্ করেন তখন তোমরাও সিজদা্ করবে। তিনি যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ  বলেন, তখন তোমরা رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ  বলবে।

দলিল নং- ৯৪সহীহ বুখারী হাদিস নং ৭৯৯

عَنْ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ الزُّرَقِيِّ، قَالَ كُنَّا يَوْمًا نُصَلِّي وَرَاءَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرَّكْعَةِ قَالَ ‏”‏ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ‏”‏‏.‏ قَالَ رَجُلٌ وَرَاءَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ، حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ، فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ ‏”‏ مَنِ الْمُتَكَلِّمُ ‏”‏‏.‏ قَالَ أَنَا‏.‏ قَالَ ‏”‏ رَأَيْتُ بِضْعَةً وَثَلاَثِينَ مَلَكًا يَبْتَدِرُونَهَا، أَيُّهُمْ يَكْتُبُهَا أَوَّلُ 

রিফা‘আহ ইবনু রাফি’ যুরাকী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে স্বলাত আদায় করলাম। তিনি যখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠিয়ে سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ  বললেন, তখন পিছন হতে এক সাহাবা رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ  বললেন। স্বলাত শেষ করে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে এরূপ বলেছিল? সে সাহাবী বললেন, আমি। তখন তিনি বললেনঃ আমি দেখলাম ত্রিশ জনের অধিক মালাইকাহ এর সওয়াব কে পূর্বে লিখবেন তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছেন।

দোয়াটি হলোঃ

رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ

অর্থঃ  “হে আমাদের প্রতিপালক! আর আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা; অঢেল, পবিত্র ও বরকত-রয়েছে-এমন প্রশংসা।”

দলিল নং- ৯৫সহীহ মুসলিম হাদিস নং ৪৭১

দোয়াটি হলোঃ

اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ أَهْلَ الثَّنَاءِ وَالْمَجْدِ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক প্রশংসা আপনারই জন্য যা আসমান ও জমিন পরিপূর্ণ এবং পরিপূর্ণতা ছাড়াও যতটুকু আপনি ইচ্ছা পোষণ করেন। হে প্রশংসা ও মর্যাদার অধিকারী। আপনি যা দান করবেন তা রোধ করার কেউ নেই। আর আপনি যা রোধ করবেন তা দান করারও কেউ নেই এবং কোনও সম্পদশালীকেই তার সম্পদ আপনার শাস্তি থেকে বাঁচাতে পারবে না।

দলিল নং- ৯৬সহীহ মুসলিম হাদিস নং ৪৭৬

 عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْفَى، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا رَفَعَ ظَهْرَهُ مِنَ الرُّكُوعِ قَالَ ‏ “‏ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ ‏”

ইবনু আবূ আওফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু থেকে পিঠ উঠানোর সময় বলতেনঃ “সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ, আল্লাহুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদু মিলআস সামা-ওয়া-তি ওয়ামিল আল আরযি ওয়ামিলআ মা- শিতা মিন্‌ শাইয়িন বাদু।” অর্থাৎ “প্রশংসাকারীর প্রশংসা আল্লাহ শুনেন। হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক সকল প্রশংসা আপনারই জন্য- যা আসমান ও জমিন পরিপূর্ণ এবং পরিপূর্ণতা ছাড়াও যতটুকু আপনি ইচ্ছা পোষণ করেন।

দোয়াটি হলোঃ

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ অর্থঃ “প্রশংসাকারীর প্রশংসা আল্লাহ শুনেন। হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক সকল প্রশংসা আপনারই জন্য- যা আসমান ও জমিন পরিপূর্ণ এবং পরিপূর্ণতা ছাড়াও যতটুকু আপনি ইচ্ছা পোষণ করেন।

সিজদায় যাওয়ার সময় হাত প্রথমে মাটিতে রাখা।

দলিল নং- ৯৭তিরমিযি শরীফ হাদিস নং- ২৬৯ (হাদিসের মান সহীহ)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ فَيَبْرُكُ فِي صَلاَتِهِ بَرْكَ الْجَمَلِ

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ তার নামাযে কি উটের মত ভর দিয়ে বসবে? (সাজদায়)

দলিল নং- ৯৮আবু দাউদ হাদিস নং- ৮৪০ (হাদিসের মান সহীহ)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ إِذَا سَجَدَ أَحَدُكُمْ فَلاَ يَبْرُكْ كَمَا يَبْرُكُ الْبَعِيرُ وَلْيَضَعْ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ ‏”‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা সিজদা করার সময় উটের ন্যায় বসবে না এবং সিজদায় যেতে মাটিতে হাঁটু রাখার পূর্বে হাত রাখবে।

সিজদার দোয়া

দলিল নং- ৯৯সহীহ মুসলিম হাদিস নং ৭৭২

عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ فَافْتَتَحَ الْبَقَرَةَ فَقُلْتُ يَرْكَعُ عِنْدَ الْمِائَةِ ‏.‏ ثُمَّ مَضَى فَقُلْتُ يُصَلِّي بِهَا فِي رَكْعَةٍ فَمَضَى فَقُلْتُ يَرْكَعُ بِهَا ‏.‏ ثُمَّ افْتَتَحَ النِّسَاءَ فَقَرَأَهَا ثُمَّ افْتَتَحَ آلَ عِمْرَانَ فَقَرَأَهَا يَقْرَأُ مُتَرَسِّلاً إِذَا مَرَّ بِآيَةٍ فِيهَا تَسْبِيحٌ سَبَّحَ وَإِذَا مَرَّ بِسُؤَالٍ سَأَلَ وَإِذَا مَرَّ بِتَعَوُّذٍ تَعَوَّذَ ثُمَّ رَكَعَ فَجَعَلَ يَقُولُ ‏”‏ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ ‏”‏ ‏.‏ فَكَانَ رُكُوعُهُ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ ثُمَّ قَالَ ‏”‏ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ قَامَ طَوِيلاً قَرِيبًا مِمَّا رَكَعَ ثُمَّ سَجَدَ فَقَالَ ‏”‏ سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى ‏”‏ ‏.‏ فَكَانَ سُجُودُهُ قَرِيبًا مِنْ قِيَامِهِ

হুযায়ফাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করলাম। তিনি সূরাহ আল বাকারাহ পড়তে শুরু করলে আমি ভাবলাম তিনি হয়ত একশ’ আয়াত পড়ে রুকূ করবেন। কিন্তু এরপরেও তিনি পড়ে চললেন। তখন আমি চিন্তা করলাম। তিনি এর (সূরাহ আল বাকরাহ) দ্বারা পুরো দু’ রাকাআত পড়ে সালাম ফিরাবেন। কিন্তু তিনি এরপরেও পড়তে থাকলে আমি ভাবলাম সূরাটি শেষ করে তিনি রুকূ করবেন। কিন্তু এরপর তিনি সূরাহ নিসা পড়তে শুরু করলেন এবং তা পাঠ করলেন, অতঃপর তিনি সূরাহ আ-লি ইমরান শুরু করলেন এবং তা পাঠ করলেন। তিনি থেমে থেমে ধীরে ধীরে পড়ছিলেন এবং তাসবীর আয়াত আসলে তাসবীহ পড়ছিলেন আর কিছু চাওয়ার আয়াত আসলে চাইলেন। যখন আশ্রয় প্রার্থনা করার কোন আয়াত পড়ছিলেন তখন আশ্রয় প্রার্থনা করছিলেন।

অতঃপর তিনি রুকূ’ করলেন। রুকূ’তে তিনি বলতে থাকলেন, “সুবহা-না রব্বিয়াল আযীম” (আমার মহান প্রভু পবিত্র, আমি তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি)। তার রুকু কিয়ামের মতই দীর্ঘ ছিল। এরপর “সামি’আল্ল-ই লিমান হামিদাহ” (আল্লাহ শুনে থাকেন যে তার প্রশংসা করে) বললেনঃ এরপর যতক্ষণ সময় রুকু করেছিলেন প্রায় ততক্ষণ সময় পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকলেন। এরপর সিজদা করলেন। সাজদাতে তিনি বললেন, “সুবহা-না রব্বিয়াল আ’লা-” (মহান সুউচ্চ সত্তা আমার প্রভু পবিত্র, আমি তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি)। তার এ সাজদায়ও প্রায় কিয়ামের সময়ের মতো দীর্ঘায়িত হলো।

দোয়াটি হলোঃ

سُبحانَ ربِّيَ الأعلَى

অর্থঃ আমার প্রতিপালক সুমহান ও পবিত্র

দলিল নং- ১০০সহীহ বুখারী হাদিস নং ৭৯৪

قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي رُكُوعِهِ وَسُجُودِهِ ‏ “‏ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ‏”‏‏.‏

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ‘ ও সিজদা্য় এ দু‘আ পড়তেন-سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ‘‘হে আমাদের রব আল্লাহ্! আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। হে আল্লাহ্! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন’’

দোয়াটি হলোঃ

سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي 

অর্থঃ ‘হে আমাদের রব আল্লাহ্! আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। হে আল্লাহ্! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন’’

দলিল নং- ১০১সহীহ মুসলিম হাদিস নং ৪৮৩

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ فِي سُجُودِهِ ‏ “‏ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ دِقَّهُ وَجِلَّهُ وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ وَعَلاَنِيَتَهُ وَسِرَّهُ ‏”‏ ‏

আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাজদায় গিয়ে বলতেনঃ হে আল্লাহ! আমার সকল প্রকার গুনাহ ক্ষমা করে দিন। কম এবং বেশি, প্রথম এবং শেষ, প্রকাশ্য এবং গোপনীয়।

দোয়াটি হলোঃ

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ دِقَّهُ وَجِلَّهُ وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ وَعَلاَنِيَتَهُ وَسِرَّهُ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমার সকল প্রকার গুনাহ ক্ষমা করে দিন। কম এবং বেশি, প্রথম এবং শেষ, প্রকাশ্য এবং গোপনীয়।

দলিল নং- ১০২সহীহ মুসলিম হাদিস নং ৪৮৭

 أَنَّ عَائِشَةَ، نَبَّأَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ فِي رُكُوعِهِ وَسُجُودِهِ ‏ “‏ سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلاَئِكَةِ وَالرُّوحِ ‏”

আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রুকূ’ ও সাজদায় এ দু’আ পড়তেনঃ “সমস্ত ফেরেশতা ও জিবরীল (আঃ)-এর প্রতিপালক অত্যন্ত পাক-পবিত্র।

দোয়াটি হলোঃ

سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلاَئِكَةِ وَالرُّوحِ

অর্থঃ সমস্ত ফেরেশতা ও জিবরীল (আঃ)-এর প্রতিপালক অত্যন্ত পাক-পবিত্র।

দলিল নং- ১০৩আবু দাউদ হাদিস নং ৮৭৩ (হাদিসের মান সহীহ)

দোয়াটি হলোঃ

سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ

অর্থঃ পবিত্র ওই সত্তা, যিনি সর্বময় ক্ষমতা, সার্বভৌমত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্বের অধিকারী।

সিজদায় মাতৃভাষায় দোয়া

সিজদায় নিজের ভাষায় (মাতৃভাষায়) দোয়া করার ব্যাপারে সরাসরি কোনো সহীহ হাদীস নেই। তবে সিজদায় বেশি বেশি দোয়া করার ব্যাপারে সহীহ হাদীস রয়েছে:

দলিল নং- ১০৩সহীহ মুসলিম হাদিস নং – ৪৮২

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ أَقْرَبُ مَا يَكُونُ الْعَبْدُ مِنْ رَبِّهِ وَهُوَ سَاجِدٌ فَأَكْثِرُوا الدُّعَاءَ ‏”‏ ‏

আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ বান্দার সিজদারত অবস্থায়ই তার প্রতিপালকের অনুগ্রহ লাভের সর্বোত্তম অবস্থা (বা মুহুর্ত)। অতএব তোমরা অধিক পরিমাণে দু’আ পড়ো।

নোটঃ অধিকাংশ সমকালীন আলেমের মতে, নফল সালাতে বা সালাতের বাইরে সিজদায় নিজের প্রয়োজনের দোয়া মাতৃভাষায় করা বৈধআপনার এমন কিছুর প্রয়োজন যা আল্লাহ তায়ালার কাছে চাইতে হবে এখন আপনি তার আরবী ভাষা জানেন না তাহলে আপনি কি তা চাওয়া বাদ দিয়ে দিবেন? সুতারং যেহেতু সিজদায় দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাই আপনি নিজের প্রয়োজীয় কিছু মাতৃভাষায় সিজদায় চাওয়া বৈধ।   

দুই সিজদার মাঝে দোয়া

দলিল নং- ১০৪তিরমিজি শরীফ হাদিস নং ২৮৪ (হাদিসের মান সহীহ)

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ ‏ “‏ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاجْبُرْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي ‏”‏ ‏.‏

ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই সিজদার মাঝে বলতেনঃ

দোয়াটি হলোঃ

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاجْبُرْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي

অর্থঃ হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন, আমর প্রতি দয়া করুন, আমাকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করুন, আমকে সৎপথ প্রদর্শন করুন এবং আমাকে রিযক দান করুন।

স্বলাতের বেজোড় রাক‘আতে সিজদা্ হতে উঠে বসার পর দন্ডায়মান হওয়া।

দলিল নং- ১০৫সহীহ বুখারী হাদিস নং ৮২৩

مَالِكُ بْنُ الْحُوَيْرِثِ اللَّيْثِيُّ، أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي، فَإِذَا كَانَ فِي وِتْرٍ مِنْ صَلاَتِهِ لَمْ يَنْهَضْ حَتَّى يَسْتَوِيَ قَاعِدًا

মালিক ইবনু হুয়াইরিস লাইসী (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে স্বলাত আদায় করতে দেখেছেন। তিনি তাঁর স্বলাতের বেজোড় রাক‘আতে (সাজ্দাহ হতে) উঠে না বসে দাঁড়াতেন না।

সালাত আদায়ের পদ্ধতি

সালাত আদায়ের পদ্ধতি (পর্ব-০২)

About Md Nazmul Azam

I am website developer.

Check Also

জুলুমকারীকে বাধা দেওয়া উচিত।

সহীহ বুখারী হাদিস নম্বর ২৪৪৪ আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম …

আউয়াল ওয়াক্তে স্বলাত আদায়ের গুরুত্ব

স্বলাতের সময় সম্পর্কে সঠিক ধারনা

স্বলাতের সময় স্বলাতের সময় সম্পর্কে সঠিক ধারনা সঠিক সময়ে স্বলাত আদায়ের মর্যাদা দলিল নং- ৪৩। …

আউয়াল ওয়াক্তে স্বলাত আদায়ের গুরুত্ব

তায়াম্মুম সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

তায়াম্মুম সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন যে কারনে তায়াম্মুম করা যাবে দলিল নং- ৩৯। সুরা আল মায়েদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *