তায়াম্মুম সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
যে কারনে তায়াম্মুম করা যাবে
দলিল নং- ৩৯। সুরা আল মায়েদা আয়াত নং-০৬
اِنۡ کُنۡتُمۡ مَّرۡضٰۤی اَوۡ عَلٰی سَفَرٍ اَوۡ جَآءَ اَحَدٌ مِّنۡکُمۡ مِّنَ الۡغَآئِطِ اَوۡ لٰمَسۡتُمُ النِّسَآءَ فَلَمۡ تَجِدُوۡا مَآءً فَتَیَمَّمُوۡا صَعِیۡدًا طَیِّبًا فَامۡسَحُوۡا بِوُجُوۡهِکُمۡ وَ اَیۡدِیۡکُمۡ مِّنۡهُ
আর যদি তোমরা অসুস্থ হও বা সফরে থাক বা তোমাদের কেউ পায়খানা থেকে আসে, বা তোমরা স্ত্রীর সাথে সংগত হও এবং পানি না পাও তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে। সুতরাং তা দ্বারা মুখমণ্ডলে ও হাতে মাসেহ করবে।
দলিল নং- ৪০। সুরা আন নিসা আয়াত নং- ৪৩
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَقۡرَبُوا الصَّلٰوۃَ وَ اَنۡتُمۡ سُكٰرٰی حَتّٰی تَعۡلَمُوۡا مَا تَقُوۡلُوۡنَ وَ لَا جُنُبًا اِلَّا عَابِرِیۡ سَبِیۡلٍ حَتّٰی تَغۡتَسِلُوۡا ؕ وَ اِنۡ كُنۡتُمۡ مَّرۡضٰۤی اَوۡ عَلٰی سَفَرٍ اَوۡ جَآءَ اَحَدٌ مِّنۡكُمۡ مِّنَ الۡغَآئِطِ اَوۡ لٰمَسۡتُمُ النِّسَآءَ فَلَمۡ تَجِدُوۡا مَآءً فَتَیَمَّمُوۡا صَعِیۡدًا طَیِّبًا فَامۡسَحُوۡا بِوُجُوۡهِكُمۡ وَ اَیۡدِیۡكُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَفُوًّا غَفُوۡرًا
হে মুমিনগণ! নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তোমরা স্বলাতের নিকটবর্তী হয়ে না, যতক্ষন পর্যন্ত না তোমরা যা বল তা বুঝতে পার এবং যদি তোমরা মুসাফির না হও তবে অপবিত্র অবস্থাতেও নয়, যতক্ষন পর্যন্ত না তোমরা গোসল কর। আর যদি তোমরা পীড়িত হও অথবা সফরে থাক বা তোমাদের কেউ শৌচস্থান থেকে আসে অথবা তোমরা নারী সম্ভোগ কর এবং পানি না পাও তবে পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম কর সুতরাং মাসেহ কর তোমরা তোমাদের চেহারা ও হাত, নিশ্চয় আল্লাহ পাপ মোচনকারী, ক্ষমাশীল।
যা দ্বারা তায়াম্মুম করা জায়েজ
মাটি বা মাটি জাতীয় যে কোন পবিত্র জিনিস দ্বারা তায়াম্মুম করা বৈধ। যেমন: সাধারণ মাটি, বালু পাথর, ভিজা বা শুকনা মাটি।
তায়াম্মুমের পদ্ধতি
পবিত্রতার নিয়ত করে দু হাতের তালু মাটিতে একবার মারবে। অত:পর তা দ্বারা মখু মণ্ডল ও দু হাতের পাঞ্জার উপর ভাগ মাসেহ করবে। প্রথমে বাম হাতের পেট দ্বারা ডান হাতের পাঞ্জার উপর এবং অনুরূপভাবে ডান হাতের পেট দ্বারা বাম হাতের পাঞ্জার উপর ভাগ মাসেহ করবে। আর কখনো দুই হাত আগে ও মখু মণ্ডল পরে মাসেহ করবে।
দলিল নং- ৪১। সহীহ বুখারী হাদিস নং- ৩৩৮
عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَ إِنِّي أَجْنَبْتُ فَلَمْ أُصِبِ الْمَاءَ. فَقَالَ عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَمَا تَذْكُرُ أَنَّا كُنَّا فِي سَفَرٍ أَنَا وَأَنْتَ فَأَمَّا أَنْتَ فَلَمْ تُصَلِّ، وَأَمَّا أَنَا فَتَمَعَّكْتُ فَصَلَّيْتُ، فَذَكَرْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم “ إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ هَكَذَا ”. فَضَرَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِكَفَّيْهِ الأَرْضَ، وَنَفَخَ فِيهِمَا ثُمَّ مَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ
আবদুর রহমান ইবনু আবযা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ জনৈক ব্যক্তি ‘উমর ইব্নুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট এসে জানতে চাইল : একবার আমার গোসলের দরকার হল অথচ আমি পানি পেলাম না। তখন ‘আম্মার ইব্নু ইয়াসার (রাঃ) ‘উমর ইব্নুল খাত্তাব (রাঃ)-কে বললেনঃ আপনার কি সেই ঘটনা মনে আছে যে, একদা আমরা দু’জন সফরে ছিলাম এবং দু’জনেরই গোসলের প্রয়োজন দেখা দিল। আপনি তো সালাত আদায় করলেন না। আর আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে স্বলাত আদায় করলাম। তারপর আমি ঘটনাটি নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বর্ণনা করলাম। তখন নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমার জন্য তো এতটুকুই যথেষ্ট ছিল- এ বলে নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’ হাত মাটিতে মারলেন এবং দু’হাতে ফুঁ দিয়ে তাঁর চেহারা ও উভয় হাত মাস্হ করলেন।
তায়াম্মুম নষ্টকারী জিনিসসমূহ
নিম্মের জিনিসগুলোর দ্বারা তায়াম্মুম নষ্ট হয়:
১. পানি পাওয়া গেলে।
২. অসুস্থতা বা বিশেষ প্রয়োজন ইত্যাদির ওজর দূর হয়ে গেলে।
৩. অযু ভঙ্গের যে কোন কারণ পাওয়া গেলে।
নোটঃ যদি কেউ পানি ও মাটি কোনটাই না পায় অথবা এ দুটোর কোনটারই ব্যবহারের ক্ষমতা না থাকে তাহলে ওযু ও তায়াম্মুম ব্যতীত ঐ অবস্থাতেই স্বলাত আদায় করবে এবং পরে তাকে এ স্বলাত পুন:রায় আদায় করতে হবে না।
তায়াম্মুম ক’রে স্বলাত আদায়ের পরে সময়ের মধ্যেই যদি পানি পায় তাহলে কি করবে?
দলিল নং- ৪২। আবু দাউদ হাদিস নং-৩৩৮ (হাদিসে মান সহীহ)
عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ خَرَجَ رَجُلاَنِ فِي سَفَرٍ فَحَضَرَتِ الصَّلاَةُ وَلَيْسَ مَعَهُمَا مَاءٌ فَتَيَمَّمَا صَعِيدًا طَيِّبًا فَصَلَّيَا ثُمَّ وَجَدَا الْمَاءَ فِي الْوَقْتِ فَأَعَادَ أَحَدُهُمَا الصَّلاَةَ وَالْوُضُوءَ وَلَمْ يُعِدِ الآخَرُ ثُمَّ أَتَيَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَا ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ لِلَّذِي لَمْ يُعِدْ ” أَصَبْتَ السُّنَّةَ وَأَجْزَأَتْكَ صَلاَتُكَ ” . وَقَالَ لِلَّذِي تَوَضَّأَ وَأَعَادَ ” لَكَ الأَجْرُ مَرَّتَيْنِ
আতা (রহঃ) থেকে আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা দুই ব্যক্তি সফরে বের হয় পথিমধ্যে স্বলাতের সময় উপনীত হওয়ায় তারা পানি না পাওয়ায় তায়াম্মুম করে স্বলাত আদায় করে। অতঃপর উক্ত স্বলাতের সময়ের মধ্যে পানি প্রাপ্ত হওয়ায় তাদের একজন অযূ করে পুনরায় স্বলাত আদায় করল এবং অপর ব্যক্তি স্বলাত আদায় করা হতে বিরত থাকে। অতঃপর উভয়েই রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে হাযির হয়ে এই ঘটনা বর্ণনা করল। তিনি বলেনঃ তোমাদের যে ব্যক্তি স্বলাত পুনরায় আদায় করেনি সে সুন্নাত মোতাবেক কাজ করেছে এবং এটাই তার জন্য যথেষ্ট আর যে ব্যক্তি অযূ করে পুনরায় স্বলাত আদায় করেছে তার সম্পর্কে বলেনঃ তুমি দ্বিগুণ ছওয়াবের অধিকারী হয়েছ।
ISLAMIC DAWAH FOUNDATION The truth is revealed to Islam