সালাতের পদ্ধতি
দলিল নং- ৫৭। সুরা আল আনকাবুত আয়াত নং-৪৫
اِنَّ الصَّلٰوۃَ تَنۡهٰی عَنِ الۡفَحۡشَآءِ وَ الۡمُنۡكَرِ
নিশ্চয় স্বলাত বিরত রাখে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে
আমরা পাঁচ ওয়াক্ত স্বলাত পড়ি কখনো কি ভেবে দেখেছি যে আমাদের স্বলাত রসুল (সঃ) এর শিখানো বা তার মত স্বলাত পড়ি কিনা? আমি চেষ্ঠা করবো রসুল (সঃ) এর শিখানো স্বলাতের দোয়াগুলো আলোচনা করা যাতে আমরা রসুল (সঃ) শিখানো স্বলাত পড়ে আমাদের জীবনের পরিবর্তন ঘটাতে পারি।
রসুল (সঃ) বলেছেন,
দলিল নং- ৫৮। সহী বুখারী হাদিস নং ৬০০৮
صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي
“যে ভাবে আমাকে স্বলাত আদায় করতে দেখেছ ঠিক তেমনভাবে স্বলাত আদায় কর”
জামায়াতের সাথে স্বলাত আদায় করার গুরুত্ব
দলিল নং- ৫৯। সুরা আল বাকারা আয়াত নং-৪৩
وَ اَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَ اٰتُوا الزَّكٰوۃَ وَ ارۡكَعُوۡا مَعَ الرّٰكِعِیۡنَ
আর তোমরা স্বলাত প্রতিষ্ঠা কর ও যাকাত দাও এবং রুকূ’কারীদের সাথে রুকূ কর।
স্বলাতের ফরয সমূহ
স্বলাতের বাহিরে ফরয ০৭ টি
১. শরীর পাক ২. কাপড় পাক ৩. স্বলাতের স্থান পাক ৪. সতর আবৃত করা ৫. কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ানো ৬. নিয়ত করা ৭. ওয়াক্ত মত স্বলাত পড়া।
স্বলাতের ভিতরে ফরয ১০ টি
১. কিয়াম বা দাড়ানো। ২. তাকবীরে তাহরীমা বলে স্বলাত শুরু করা। ৩. সূরা ফাতিহা পড়া। ৪. রুকু করা। ৫. সিজদা করা। ৬. দুই সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠক (অধিকাংশ আলেম এর মত)। ৭. শেষ বৈঠক ও তাশাহুদ (আত্তাহিয়াতু) পড়া। ৮. রুকন গুলো ধীরস্থিরভাবে আদায় করা (অধিকাংশ আলেম এর মত)। ৯. রুকন আদায়ে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা (অধিকাংশ আলেম এর মত) ১০. সালাম ফিরানো (অধিকাংশ আলেম এর মত)।
স্বলাতে যা ছুটে গেলে সাহু সিজদা দিতে হয়
ইচ্ছাকৃতভাবে নিচের কোন একটা কাজ ছেড়ে দিলে স্বলাত বাতিল হয়ে যায়। আর ভুলে বাদ পড়লে সাহু সিজদা দিতে হয়। বিশুদ্ধ দলীল-প্রমাণের ভিত্তিতে যা ছুটে গেলে সাহু সিজদা দিতে হয় তা সাতটি
১. সকল তাকবীর (তাকবীরে তাহরীমা ছাড়া)
২. (সূরা ফাতিহার পর) সূরা মিলানো।
৩. ‘সামি আল্লাহু লিমান হামীদা’ বলা (রুকু থেকে মাথা উঠানোর সময় ইমাম ও একাকী নামায আদায়কারী এ তাসবীহটি পড়বে ।
৪. রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’ বলা, (ইমাম, মুক্তাদি ও একাকী স্বলাত আদায়কারী সবাই বলবে)।
৫. মাগরিব ও চার রাকআত বিশিষ্ট স্বলাতের প্রথম বৈঠক।
৬. প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদ পড়া।
৭. দরূদ পড়া (শেষ বৈঠকে), একদল ফিকহবিদের মতে, এটা রুকন।
দলীল: (এক) বুখারী: ৭৩৩, (দুই) বুখারী: ৭৫৯, (তিন) বুখারী: ৭৮৯, (চার) বুখারীঃ ৭৩৩, (পাঁচ) বুখারী: ৮৩০, (ছয়) নাসাঈ: ১১৬৩, (সাত) বুখারী: ৬৩৫৭
মাসজিদে প্রবেশের দোয়া
দলিল নং- ৬০। নাসায়ি শরীফ হাদিস নং ৭৩০ (হাদিসের মান সহীহ)
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم “ إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ وَإِذَا خَرَجَ فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ ” .
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে তখন, সে যেন বলেঃاللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ [আল্লাহুম্মাফ্তাহলি আবওয়াবা রাহামাতিক] “হে আল্লাহ! আমার জন্যে আপনার রহমতের দরজা খুলে দিন।” আর যখন বের হয় তখন যেন বলেঃاللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ [আল্লাহুম্মা ইন্নি আস-আলুকা মিন ফাদলিক] “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার দয়া কামনা করছি।”
মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত স্বলাত না পড়ে বসা যাবেনা
দলিল নং- ৬১। সহীহ বুখারী হাদিস নং- ৪৪৪
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ السَّلَمِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمْ الْمَسْجِدَ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يَجْلِسَ
আবূ কাতাদাহ্ সালামী (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ মাসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন বসার পূর্বে দু’রাক‘আত স্বলাত আদায় করে নেয়।
নোটঃ এই হাদিস থেকে বুঝা যায় মাসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত স্বলাত না পড়ে বসা যাবেনা। তাই একটু চিন্তা করুন আমাদের এই সুন্নাতটি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে।
কিবলামুখী হওয়া
দলিল নং- ৬২। নাসায়ি শরীফ হাদিস নং ৭৪৩ (হাদিসের মান সহীহ)
عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ فَصَلَّى نَحْوَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ سِتَّةَ عَشَرَ شَهْرًا ثُمَّ وُجِّهَ إِلَى الْكَعْبَةِ فَمَرَّ رَجُلٌ قَدْ كَانَ صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আগমনের পর ষোল মাস বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেন। তারপর তাকে কা’বার দিকে মুখ করার নির্দেশ দেয়া হলো।
স্বলাতের নিয়ত প্রসঙ্গে
দলিল নং- ১। সহীহ বুখারী হাদিস নং-০১
عَلْقَمَةَ بْنَ وَقَّاصٍ اللَّيْثِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ ـ رضى الله عنه ـ عَلَى الْمِنْبَرِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ “ إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوْ إِلَى امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ
আলক্বামাহ ইবনু ওয়াক্কাস আল-লায়সী (রহ.) হতে বর্ণিত। আমি ’উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছিঃ আমি আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কাজ (এর প্রাপ্য হবে) নিয়্যাত অনুযায়ী। আর মানুষ তার নিয়্যাত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে। তাই যার হিজরত হবে ইহকাল লাভের অথবা কোন মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশে- তবে তার হিজরত সে উদ্দেশেই হবে, যে জন্যে, সে হিজরত করেছে।
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়: নিয়ত হলো অন্তরের কাজ, মুখের কথা নয়। নামাজ, রোজা, হজসহ অন্য কোন ইবাদতের আগে রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো মুখে নিয়ত বলেননি, রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা সাহাবাগণ মুখে “আমি অমুক নিয়ত করলাম…” এভাবে বলেছেন এমন কোন সহীহ হাদিস পাওয়া যায় না। তাই নিয়ন মুখে উচ্চারন করা সঠিক নয়। নিয়ত করতে হয়, নিয়ত পড়তে হয় না।
আপনি যখন নামাজ পড়তে দাঁড়ান, আপনার মনে থাকে: “আমি যোহরের ফরয স্বলাত পড়ছি” এটিই নিয়ত, আলাদা করে মুখে কিছু বলার দরকার নেই। আমাদের দেশে প্রচলিত আরবি নিয়তগুলো পরবর্তীতে কিছু মানুষ বানিয়েছেন যা সুন্নাহ নয়।
কাতার সোজা করা ও ফাকা বন্ধ করা
দলিল নং- ৬৩। সহীহ বুখারী হাদিস নং-৭২৩
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ سَوُّوا صُفُوفَكُمْ فَإِنَّ تَسْوِيَةَ الصُّفُوفِ مِنْ إِقَامَةِ الصَّلاَةِ.
আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা তোমাদের কাতারগুলো সোজা করে নিবে, কেননা, কাতার সোজা করা স্বলাতের সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত।
দলিল নং- ৬৪। আবু দাউদ হাদিস নং-৬৬৭ (হাদিসের মান সহীহ)
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ “ رُصُّوا صُفُوفَكُمْ وَقَارِبُوا بَيْنَهَا وَحَاذُوا بِالأَعْنَاقِ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لأَرَى الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ مِنْ خَلَلِ الصَّفِّ كَأَنَّهَا الْحَذَفُ ” .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কাতারের মধ্যে পরস্পর মিলে মিশে দাঁড়াও। এক কাতার অপর কাতারের নিকটে কর এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াও। যার হাতে আমার জীবন, তাঁর শপথ! আমি শয়তানকে স্বলাতের কাতারের মধ্যে বকরীর ন্যায় প্রবেশ করতে দেখেছি।
দলিল নং- ৬৫। আবু দাউদ হাদিস নং -৬৬২ (হাদিসের মান সহীহ)
قَالَ سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، يَقُولُ أَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى النَّاسِ بِوَجْهِهِ فَقَالَ ” أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ ” . ثَلاَثًا ” وَاللَّهِ لَتُقِيمُنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ ” . قَالَ فَرَأَيْتُ الرَّجُلَ يُلْزِقُ مَنْكِبَهُ بِمَنْكِبِ صَاحِبِهِ وَرُكْبَتَهُ بِرُكْبَةِ صَاحِبِهِ وَكَعْبَهُ بِكَعْبِهِ
নুমান ইবনু বশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমবেত ব্যক্তিদের নিকট উপস্থিত হয়ে তিনবার বলেনঃ তোমরা তোমাদের কাতার সোজা কর। আল্লাহর শপথ! তোমরা কাতার সোজা করে দন্ডায়মান হবে, অন্যথায় আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি করবেন। রাবী বলেন, অতঃপর আমি মুসল্লীদেরকে পরস্পর কাঁধে কাঁধ, পায়ে পা এবং গোড়ালির সাথে গোড়ালি মিলিয়ে দাঁড়াতে দেখেছি।
নোটঃ আজ কিছু মাসজিদে দেখা যায় কাতারের মাঝে অনেক ফাকা করে দাঁড়ায়। ইমামদেরও এই বিষয়ে তেমন কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা যায়না।
তাকবীর বলে স্বলাত শুরু করা
দলিল নং- ৬৬। সহীহ মুসলিম হাদিস নং-৩৯২
عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ يُكَبِّرُ حِينَ يَقُومُ ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْكَعُ ثُمَّ يَقُولُ ” سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ” . حِينَ يَرْفَعُ صُلْبَهُ مِنَ الرُّكُوعِ ثُمَّ يَقُولُ وَهُوَ قَائِمٌ ” رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ ” . ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَهْوِي سَاجِدًا ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَسْجُدُ ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ ثُمَّ يَفْعَلُ مِثْلَ ذَلِكَ فِي الصَّلاَةِ كُلِّهَا حَتَّى يَقْضِيَهَا وَيُكَبِّرُ حِينَ يَقُومُ مِنَ الْمَثْنَى بَعْدَ الْجُلُوسِ ثُمَّ يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ إِنِّي لأَشْبَهُكُمْ صَلاَةً بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
আবূ বকর ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেনঃ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন স্বলাতে দাঁড়াতেন ’আল্লাহু আকবার’ বলে সালাত শুরু করতেন। তিনি তাকবীর বলে রুকু’তে যেতেন। তিনি রুকু থেকে পিঠ সোজা করে দাঁড়ানোর সময় سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করেন আল্লাহ তার কথা শুনে থাকেন) বলতেন। অতঃপর দাঁড়ানো অবস্থায় رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (হে আল্লাহ! তোমার জন্য সমস্ত প্রশংসা) বলতেন। তিনি তাকবীর সিজদা থেকে মাথা তোলার সময়ও তাকবীর বলতেন। প্রত্যেক রাক’আতে স্বলাত শেষ করা পর্যন্ত তিনি এরূপই করতেন। দ্বিতীয় রাকাআতে বসার পর ওঠার সময়ও তিনি তাকবীর বলতেন। অতঃপর আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বললেন, আমি তোমাদের সবার তুলনায় অধিক পরিমাণে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুরূপ স্বলাত আদায় করতে পারি।
ইমাম তাকবীর আওয়াজ করে এবং মুসল্লি তাকবীর আস্তে বলা
দলিল নং- ৬৭। সহীহ বুখারী হাদিস নং-৮২৫
سَعِيدِ بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ صَلَّى لَنَا أَبُو سَعِيدٍ فَجَهَرَ بِالتَّكْبِيرِ حِينَ رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السُّجُودِ، وَحِينَ سَجَدَ، وَحِينَ رَفَعَ، وَحِينَ قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ وَقَالَ هَكَذَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم.
সা‘ঈদ ইবনু হারিস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আবূ সা‘ঈদ (রাযি.) স্বলাতে আমাদের ইমামতি করেন। তিনি প্রথম সিজদা্ হতে মাথা উঠানোর সময়, দ্বিতীয় সিজদা্ করার সময়, দ্বিতীয় সিজদা্ হতে মাথা উঠানোর সময় এবং দু’ রাক‘আত শেষে (তাশাহ্হুদের বৈঠকের পর) দাঁড়ানোর সময় সশব্দে তাকবীর বলেন। তিনি বলেন, আমি এভাবেই নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে (স্বলাত আদায় করতে) দেখেছি।
দলিল নং- ৬৮। সহীহ বুখারী হাদিস নং-১২০০
زَيْدُ بْنُ أَرْقَمَ إِنْ كُنَّا لَنَتَكَلَّمُ فِي الصَّلاَةِ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، يُكَلِّمُ أَحَدُنَا صَاحِبَهُ بِحَاجَتِهِ حَتَّى نَزَلَتْ (حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ) الآيَةَ، فَأُمِرْنَا بِالسُّكُوتِ
যায়দ ইবনু আরক্বাম (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময়ে স্বলাতের মধ্যে কথা বলতাম। আমাদের যে কেউ তার সঙ্গীর সাথে নিজ দরকারী বিষয়ে কথা বলত। অবশেষে এ আয়াত নাযিল হল- ‘‘তোমরা তোমাদের স্বলাতসমূহের সংরক্ষণ কর ও নিয়ানুমবর্তিতা রক্ষা কর; বিশেষ মধ্যবর্তী (‘আসর) সালাতে, আর তোমরা (স্বলাতে) আল্লাহর উদ্দেশে একাগ্রচিত্ত হও’’- (সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ্ ২/২৩৮)। অতঃপর আমরা স্বলাতে নীরব থাকতে আদেশপ্রাপ্ত হলাম।
নোটঃ এখন অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে মুসুল্লিরা কেন জোড়ে আমিন বলে? তাদের উদ্দেশ্যে বলবো উপরোক্ত হাদিসটি “আম” কিন্তু জোড়ে আমিন বলার জন্য “খাস” ভাবে হাদিস রয়েছে যা নিম্মে আলোচনা করা হবে।

ISLAMIC DAWAH FOUNDATION The truth is revealed to Islam