স্বলাতের সময়
স্বলাতের সময় সম্পর্কে সঠিক ধারনা
সঠিক সময়ে স্বলাত আদায়ের মর্যাদা
দলিল নং- ৪৩। সহীহ বুখারী হাদিস নং- ৫২৭
عَبْدِ اللهِ قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ أَيُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللهِ قَالَ الصَّلاَةُ عَلَى وَقْتِهَا قَالَ ثُمَّ أَيٌّ قَالَ ثُمَّ بِرُّ الْوَالِدَيْنِ قَالَ ثُمَّ أَيٌّ قَالَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ قَالَ حَدَّثَنِي بِهِنَّ وَلَوْ اسْتَزَدْتُهُ لَزَادَنِي
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাযি.) আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করলেন, কোন্ ‘আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়? তিনি বললেন, ‘যথা সময়ে স্বলাত আদায় করা। ইবনু মাস‘ঊদ (রাযি.) পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেন, অতঃপর পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার। ইবনু মাস‘ঊদ (রাযি.) আবার জিজ্ঞেস করলেন, অতঃপর কোনটি? আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অতঃপর জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ্ (আল্লাহর পথে জিহাদ)। ইবনু মাস‘ঊদ (রাযি.) বলেন, এগুলো তো আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনই, যদি আমি আরও অধিক জানতে চাইতাম, তাহলে তিনি আরও বলতেন।
জিবরাইল আঃ রাসুল (সঃ) কে ০৫ ওয়াক্ত সালাতের সময় শিখালেন
দলিল নং- ৪৪। সুনান আদ-দারাকুতনী হাদিস নং- ৯৮৪ (হাদিসের মান সহীহ)
جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيُّ ، قَالَ : ” جَاءَ جِبْرِيلُ – عَلَيْهِ السَّلَامُ – إِلَى النَّبِيِّ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – حِينَ زَالَتِ الشَّمْسُ ، فَقَالَ : قُمْ يَا مُحَمَّدُ فَصَلِّ الظُّهْرَ ، فَقَامَ ، فَصَلَّى الظُّهْرَ حِينَ زَالَتِ الشَّمْسُ ، ثُمَّ مَكَثَ حَتَّى كَانَ فَيْءُ الرَّجُلِ مِثْلَهُ ، فَجَاءَهُ الْعَصْرَ ، فَقَالَ : قُمْ يَا مُحَمَّدُ فَصَلِّ الْعَصْرَ ، فَقَامَ ، فَصَلَّى الْعَصْرَ ، ثُمَّ مَكَثَ حَتَّى غَابَتِ الشَّمْسُ ، فَقَالَ : قُمْ فَصَلِّ الْمَغْرِبَ ، فَقَامَ ، فَصَلَّاهَا حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ سَوَاءً ، ثُمَّ مَكَثَ حَتَّى ذَهَبَ الشَّفَقُ ، فَجَاءَهُ فَقَالَ : قُمْ فَصَلِّ الْعِشَاءَ ، فَقَامَ ، فَصَلَّاهَا ، ثُمَّ جَاءَهُ حِينَ سَطَعَ الْفَجْرُ بِالصُّبْحِ ، فَقَالَ : قُمْ يَا مُحَمَّدُ فَصَلِّ ، فَقَامَ فَصَلَّى الصُّبْحَ ، ثُمَّ جَاءَهُ مِنَ الْغَدِ حِينَ كَانَ فَيْءُ الرَّجُلِ مِثْلَهُ ، فَقَالَ : قُمْ يَا مُحَمَّدُ فَصَلِّ الظُّهْرَ ، فَقَامَ فَصَلَّى الظُّهْرَ ، ثُمَّ جَاءَهُ حِينَ كَانَ فَيْءُ الرَّجُلِ مِثْلَيْهِ ، فَقَالَ : قُمْ يَا مُحَمَّدُ فَصَلِّ ، فَقَامَ فَصَلَّى الْعَصْرَ ، ثُمَّ جَاءَهُ لِلْمَغْرِبِ حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ وَقْتًا وَاحِدًا لَمْ يَزُلْ عَنْهُ ، قَالَ : قُمْ فَصَلِّ الْمَغْرِبَ ، فَصَلَّى الْمَغْرِبَ ، ثُمَّ جَاءَهُ لِلْعِشَاءِ حِينَ ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ الْأَوَّلُ ، فَقَالَ : قُمْ فَصَلِّ الْعِشَاءَ ، فَصَلَّى ، ثُمَّ جَاءَهُ لِلصُّبْحِ حِينَ أَسْفَرَ جِدًّا ، فَقَالَ : قُمْ فَصَلِّ الصُّبْحَ ، ثُمَّ قَالَ : ” مَا بَيْنَ هَذَيْنِ كُلُّهُ وَقْتٌ
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূর্য ঢলে পড়লে জিবরীল (আ.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলেন এবং বললেন, হে মুহাম্মাদ! আপনি উঠুন এবং যুহরের স্বলাত পড়ুন। অতএব তিনি উঠে যুহরের স্বলাত পড়লেন-যখন সূর্য ঢলেছে। তারপর তিনি অপেক্ষা করলেন, এমননি কোন মানুষের ছায়া তার দৈর্ঘ্যের সমান হলে তিনি (জিবরীল) তাঁর (নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট আসরের সময় এলেন এবং বললেন, হে মুহাম্মাদ! আপনি উঠুন এবং আসরের স্বলাত পড়ুন। অতএব তিনি (নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উঠে দাঁড়িয়ে আসরের স্বলাত পড়লেন। তারপর তিনি অপেক্ষা করলেন, যাবত না সূর্য অস্ত গেল। তখন জিবরীল (আ.) বললেন, আপনি উঠুন এবং মাগরিবের স্বলাত পড়ুন। অতএব সূর্য অস্ত গেলে তিনি উঠে দাঁড়িয়ে মাগরিবের স্বলাত পড়লেন। তারপর তিনি অপেক্ষা করেন যাবত না শাফাক অন্তর্হিত হলো। জিবরীল (আ.) তাঁর নিকট এলেন এবং বললেন, আপনি উঠুন এবং এশার স্বলাত পড়ুন। অতএব তিনি উঠে দাঁড়িয়ে এশার স্বলাত পড়লেন। তারপর ফজর (সুবহে সাদেক) উদয় হলে জিবরাঈল (আ.) তাঁর নিকট এলেন এবং বললেন, হে মুহাম্মাদ! উঠে স্বলাত পড়ুন। অতএব তিনি উঠে দাঁড়িয়ে ফজরের স্বলাত পড়লেন।
পরের দিন জিবরীল (আ.) তাঁর নিকট এলেন যখন কোন মানুষের ছায়া তার দৈর্ঘ্যের সমান হলো এবং তিনি বললেন, হে মুহাম্মাদ! উঠুন এবং যুহরের স্বলাত পড়ুন। অতএব তিনি উঠে দাঁড়িয়ে যুহরের স্বলাত পড়লেন। তারপর জিবরীল (আ.) তাঁর নিকট এলেন যখন কোন মানুষের ছায়া তার দৈর্ঘ্যের দ্বিগুণ হলো এবং তিনি বললেন, হে মুহাম্মাদ! আপনি দাঁড়িয়ে আসরের স্বলাত পড়ুন। অতএব তিনি উঠে আসরের স্বলাত পড়লেন। তারপর সূর্য অস্ত গেলে তিনি একই সময় তার নিকট মাগরিবের স্বলাতের জন্য আসেন এবং তাঁকে বলতে থাকেন, আপনি উঠে মাগরিবের স্বলাত পড়ুন। অতএব তিনি উঠে মাগরিবের স্বলাত পড়েন। তারপর রাতের প্রথম এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হলে তিনি তাঁর নিকট এশার স্বলাতের জন্য এলেন এবং বললেন, আপনি দাঁড়িয়ে এশার স্বলাত পড়ুন। অতএব তিনি স্বলাত পড়েন। তারপর তিনি তাঁর নিকট ফজরের স্বলাতের জন্য আসেন যখন প্রচুর ফর্সা হলো তখন বললেন, আপনি উঠে ফজরের স্বলাত পড়ুন। এরপর তিনি বলেন, এই দুই সময়সীমার মাঝখানেই রয়েছে (স্বলাতের) পুরা ওয়াক্ত।
আউয়াল ওয়াক্তে স্বলাত আদায়ের গুরুত্ব
দলিল নং- ৪৫। সুরা আন নিসা আয়াত নং- ১০৩
اِنَّ الصَّلٰوۃَ كَانَتۡ عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ كِتٰبًا مَّوۡقُوۡتًا
নিশ্চয় মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে স্বলাত ফরয করা হয়েছে
দলিল নং- ৪৬। সুনানে তিরমিযি হাদিস নং- ১৭০ (হাদিসের মান সহীহ)
عَنْ عَمَّتِهِ أُمِّ فَرْوَةَ، وَكَانَتْ، مِمَّنْ بَايَعَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَىُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ “ الصَّلاَةُ لأَوَّلِ وَقْتِهَا ”
উম্মু ফরওয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা (যে মহিলা রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বায়আত হয়েছিলেন উম্মু ফারওয়া ছিলেন তাঁদের অন্যতম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল সবচেয়ে মর্যাদাবান আমল কোনটি? তিনি বলেছিলেন আওয়াল ওয়াক্তে স্বলাত আদায় করা।
যোহরের স্বলাতের সময়
সূযর্ পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়া থেকে শুরু করে কোন বস্তুর মূল ছায়া ব্যতীত তার ছায়া উক্ত বস্তুর সমান হওয়া পর্যন্ত। এটি বিশুদ্ধ মত। তবে অতি গরমের সময় দেরী করে আবহাওয়া কিছুটা ঠাণ্ডা হলে আদায় করা সুন্নত।
দলিল নং- ৪৭। সহীহ মুসলিম হাদিস নং- ৬১২
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ “ وَقْتُ الظُّهْرِ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ وَكَانَ ظِلُّ الرَّجُلِ كَطُولِهِ مَا لَمْ يَحْضُرِ الْعَصْرُ وَوَقْتُ الْعَصْرِ مَا لَمْ تَصْفَرَّ الشَّمْسُ وَوَقْتُ صَلاَةِ الْمَغْرِبِ مَا لَمْ يَغِبِ الشَّفَقُ وَوَقْتُ صَلاَةِ الْعِشَاءِ إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ الأَوْسَطِ وَوَقْتُ صَلاَةِ الصُّبْحِ مِنْ طُلُوعِ الْفَجْرِ مَا لَمْ تَطْلُعِ الشَّمْسُ فَإِذَا طَلَعَتِ الشَّمْسُ فَأَمْسِكْ عَنِ الصَّلاَةِ فَإِنَّهَا تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَىْ شَيْطَانٍ
’আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যুহরের স্বলাতের ওয়াক্ত শুরু হয় যখন সূর্য (মাথার উপর থেকে পশ্চিম দিকে) হেলে পড়ে এবং মানুষের ছায়া তার দৈর্ঘ্যের সমান হয়। আর আসরের স্বলাতের সময় না হওয়া পর্যন্ত তা থাকে। আসরের স্বলাতের সময় থাকে সূর্য বিবর্ণ হয়ে সোনালী বা তাম্রবর্ণ ধারণ না করা পর্যন্ত। মাগরিবের স্বলাতের সময় থাকে সূর্যাস্তের পর সন্ধ্যা গোধূলি বা পশ্চিম দিগন্তে উদ্ভাসিত লালিমা অন্তর্হিত না হওয়া পর্যন্ত। ইশার স্বলাতের সময় থাকে অর্ধরাত্রি অর্থাৎ- মধ্যরাত পর্যন্ত। আর ফজরের স্বলাতের সময় শুরু হয় ফাজর বা উষার উদয় থেকে শুরু করে সূর্যোদয় পর্যন্ত। অতএব সূর্যোদয়ের সময় সালাত আদায় করা বন্ধ রাখবে। কারণ সূর্য শায়তনের দু শিংয়ের মধ্যখানে উদিত হয়।
বিঃদ্রঃ ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বিপরীত মত পোষন করে বলেন কোন বস্তুর ছায়া তার দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত যোহরের ওয়াক্ত থাকে। এই মতামতটি সহীহ হাদিসের সাথে মিল না থাকায় গ্রহন যোগ্যতা নেই।
আসরের স্বলাতের সময়
জোহরের সময় শেষ হওয়ার পর থেকে সূর্য হলুদবর্ন হওয়া পর্যন্ত।
দলিল নং- ৪৮। সুনানে নাসায়ী হাদিস নং- ৫০৫ (হাদিসের মান সহীহ)
عَنْ جَابِرٍ، قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ مَوَاقِيتِ الصَّلاَةِ فَقَالَ “ صَلِّ مَعِي ” . فَصَلَّى الظُّهْرَ حِينَ زَاغَتِ الشَّمْسُ وَالْعَصْرَ حِينَ كَانَ فَىْءُ كُلِّ شَىْءٍ مِثْلَهُ وَالْمَغْرِبَ حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ وَالْعِشَاءَ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ
জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাতের নির্ধারিত সময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেনঃ আমার সঙ্গে স্বলাত আদায় কর। তারপর তিনি যোহরের স্বলাত আদায় করেন যখন সুর্য অনেকখানি ঢলে যায়। আসরের স্বলাত আদায় করেন যখন প্রতিটি বস্তুর ছায়া তার সমান হয়ে গেল, মাগরিবের স্বলাত আদায় করেন যখন সুর্য অদৃশ্য হয়ে গেল এবং ইশার স্বলাত আদায় করেন যখন সুর্য অস্তমিত হওয়ার পর শাফাক অদৃশ্য হয়ে গেল।
দলিল নং- ৪৯। সহীহ বুখারী হাদিস নং-৫৭৯
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ أَدْرَكَ مِنْ الصُّبْحِ رَكْعَةً قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ الصُّبْحَ وَمَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ الْعَصْرَ.
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূর্য উঠার পূর্বে ফজরের স্বলাতের এক রাক‘আত পায়, সে ফজরের স্বলাত পেল। আর যে ব্যক্তি সূর্য ডুবার পূর্বে ‘আসরের স্বলাতের এক রাক‘আত পেলো সে ‘আসরের স্বলাত পেল।
মাগরিবের সালাতের সময়
সূর্যাস্ত থেকে শুরু করে পশ্চিম আকাশের লালিমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত। তবে দেরী না করে সময়ের শুরুর ভাগে আদায় করে নেওয়া সুন্নাত।
দলিল নং- ৫০। সহীহ মুসলিম হাদিস নং- ৬১২
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ “ وَقْتُ الظُّهْرِ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ وَكَانَ ظِلُّ الرَّجُلِ كَطُولِهِ مَا لَمْ يَحْضُرِ الْعَصْرُ وَوَقْتُ الْعَصْرِ مَا لَمْ تَصْفَرَّ الشَّمْسُ وَوَقْتُ صَلاَةِ الْمَغْرِبِ مَا لَمْ يَغِبِ الشَّفَقُ وَوَقْتُ صَلاَةِ الْعِشَاءِ إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ الأَوْسَطِ وَوَقْتُ صَلاَةِ الصُّبْحِ مِنْ طُلُوعِ الْفَجْرِ مَا لَمْ تَطْلُعِ الشَّمْسُ فَإِذَا طَلَعَتِ الشَّمْسُ فَأَمْسِكْ عَنِ الصَّلاَةِ فَإِنَّهَا تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَىْ شَيْطَانٍ
’আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যুহরের স্বলাতের ওয়াক্ত শুরু হয় যখন সূর্য (মাথার উপর থেকে পশ্চিম দিকে) হেলে পড়ে এবং মানুষের ছায়া তার দৈর্ঘ্যের সমান হয়। আর আসরের স্বলাতের সময় না হওয়া পর্যন্ত তা থাকে। আসরের স্বলাতের সময় থাকে সূর্য বিবর্ণ হয়ে সোনালী বা তাম্রবর্ণ ধারণ না করা পর্যন্ত। মাগরিবের স্বলাতের সময় থাকে সূর্যাস্তের পর সন্ধ্যা গোধূলি বা পশ্চিম দিগন্তে উদ্ভাসিত লালিমা অন্তর্হিত না হওয়া পর্যন্ত। ইশার স্বলাতের সময় থাকে অর্ধরাত্রি অর্থাৎ- মধ্যরাত পর্যন্ত। আর ফজরের স্বলাতের সময় শুরু হয় ফাজর বা উষার উদয় থেকে শুরু করে সূর্যোদয় পর্যন্ত। অতএব সূর্যোদয়ের সময় স্বলাত আদায় করা বন্ধ রাখবে। কারণ সূর্য শায়তনের দু শিংয়ের মধ্যখানে উদিত হয়।
এশার স্বলাতের সময়
মাগরিবের লালিমা দূর হওয়া থেকে শুরু করে অর্ধ রাত্রি পর্যন্ত। আর জরুরী অবস্থায় সুবহে সাদিক (ফজর) পর্যন্ত আদায় করতে পারে। রাত্রির এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরী করা উত্তম, যদি তা সহজে সম্ভব হয়।
দলিল নং- ৫১। সহীহ বুখারী হাদিস নং- ৫৬৯
أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ أَعْتَمَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِالْعِشَاءِ حَتَّى نَادَاهُ عُمَرُ الصَّلاَةَ نَامَ النِّسَاءُ وَالصِّبْيَانُ فَخَرَجَ فَقَالَ مَا يَنْتَظِرُهَا أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الْأَرْضِ غَيْرُكُمْ قَالَ وَلاَ يُصَلَّى يَوْمَئِذٍ إِلاَّ بِالْمَدِينَةِ وَكَانُوا يُصَلُّونَ فِيمَا بَيْنَ أَنْ يَغِيبَ الشَّفَقُ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ الْأَوَّلِ
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইশার স্বলাত আদায় করতে দেরী করলেন। ‘উমার (রাযি.) তাঁকে বললেন, আস্- স্বলাত । নারী ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে। অতঃপর তিনি বেরিয়ে আসলেন এবং বললেনঃ তোমরা ছাড়া পৃথিবীর আর কেউ এ স্বলাতের জন্য অপেক্ষা করছে না। (রাবী বলেন) তখন মদিনা ছাড়া অন্য কোথাও স্বলাত আদায় করা হতো না। (তিনি আরও বলেন যে) পশ্চিম আকাশের ‘শাফাক’ (পশ্চিম আকাশের লাল কিরণ) অন্তর্হিত হবার পর হতে রাতের প্রথম এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে তাঁরা ‘ইশা স্বলাত আদায় করতেন।
ফজরের স্বলাতের সময়
সুবহে সাদিক তথা ফজর হওয়ার পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত। তবে বিলম্ব না করাই উত্তম। সুন্নাত হলো গালাস তথা অন্ধকারে
স্বলাত আদায় করে অন্ধকার থাকতেই শেষ করা। আর কখনো অন্ধকারে শুরু করে ফর্সা হলে শেষ করা।
দলিল নং- ৫২। সহীহ বুখারী হাদিস নং- ৫৭৮
أَنَّ عَائِشَةَ أَخْبَرَتْهُ قَالَتْ كُنَّ نِسَاءُ الْمُؤْمِنَاتِ يَشْهَدْنَ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلاَةَ الْفَجْرِ مُتَلَفِّعَاتٍ بِمُرُوطِهِنَّ ثُمَّ يَنْقَلِبْنَ إِلَى بُيُوتِهِنَّ حِينَ يَقْضِينَ الصَّلاَةَ لاَ يَعْرِفُهُنَّ أَحَدٌ مِنَ الْغَلَسِ
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন; মুসলিম মহিলাগণ সর্বাঙ্গ চাদরে ঢেকে আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ফজরের জামা‘আতে হাযির হতেন। অতঃপর স্বলাত আদায় করে তারা নিজ নিজ ঘরে ফিরে যেতেন। আবছা আঁধারে কেউ তাঁদের চিনতে পারতো না।
দলিল নং- ৫৩। আবু দাউদ হাদিস নং- ৪২৪ (হাদিসের মান হাসান)
عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ” أَصْبِحُوا بِالصُّبْحِ فَإِنَّهُ أَعْظَمُ لأُجُورِكُمْ
রাফে ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা পূর্ব দিগন্ত পরিষ্কার হওয়ার পর ফজরের স্বলাত আদায় করবে; কেননা এর মধ্যে তোমাদের জন্য উত্তম বিনিময় রয়েছে।
নোটঃ ইমাম আবু হানীফা (রহ.) এর মতে ফজরের জামাআত ফর্সা করে আদায় করলে অধিক সওয়াব পাওয়া যায়। তিনি একটি হাসান হাদিস কে দলিল হিসেবে পেশ করেন। যেখানে সহীহ হাদিস পাওয়া যায় সেখানে হাসান হাদিস দলিল হিসেবে না নেওয়ার জন্য ইমাম আবু হানিফা নিজেই বলেছেন যখন কোন সহীহ হাদিস পাবে সেটিই আমার মাযহাব।
চাশত/ইশরাক/আউয়াবীন স্বলাতের সময়
সূর্য উদিত হয়ে এক বর্শা বা আনুমানিক এক মিটার পর্যন্ত উপড়ে যখন উঠে তখনই এ স্বলাতের সময় শুরু হয়। অর্থাৎ, সূর্যোদয়ের মুহূর্ত থেকে পনেরো মিনিট পরেই এ স্বলাতের সময় শুরু হয় এবং সূর্য ঠিক মাথার উপরে আসার পূর্ব পর্যন্ত এ স্বলাতের সময় থাকে। চাশতের স্বলাতকে ইশরাক বা আউয়ারীনের স্বলাতও বলা হয়। এগুলো একই স্বলাত । সূর্যোদয়ের পরপরই প্রথম দিকে পড়লে হয় ইশরাক এবং সূর্যের তাপ একটু বাড়ার পরপর পড়লে বলা হয় চাশতের স্বলাত বা আউয়াবীনের স্বলাত । কেউ কেউ বলে মাগরিবের পর আদায় করা নফল স্বলাত হলো আউয়াবীনের ‘স্বলাত – এটি সঠিক নয়। কারণ এর পক্ষে কোন সহীহ হাদীস-দলীল নেই। কিছু অগ্রহণযোগ্য ও খুবই দুর্বল হাদীসের ভিত্তিতে বিষয়টি সমাজে প্রচলিত। বরং চাশতের স্বলাতই আউয়াবীনের স্বলাত যার পক্ষে সহীহ দলীল আছে।
দলিল নং- ৫৪। সহীহ মুসলিম হাদিস নং- ৭৪৮
إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ “ صَلاَةُ الأَوَّابِينَ حِينَ تَرْمَضُ الْفِصَالُ
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ’স্বলাতুল আওয়াবীন’ বা আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী বান্দাদের স্বলাতের সময় হ’ল তখন সূর্যতাপে উটের বাচ্চাদের পা গরম হয়ে যায়।
ইমাম দেরি করে স্বলাত আদায় করলে করনীয়?
দলিল নং- ৫৫। সুনানে তিরমিযি হাদিস নং-১৭৬ (হাদিসের মান সহীহ)
عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم “ يَا أَبَا ذَرٍّ أُمَرَاءُ يَكُونُونَ بَعْدِي يُمِيتُونَ الصَّلاَةَ فَصَلِّ الصَّلاَةَ لِوَقْتِهَا فَإِنْ صُلِّيَتْ لِوَقْتِهَا كَانَتْ لَكَ نَافِلَةً وَإِلاَّ كُنْتَ قَدْ أَحْرَزْتَ صَلاَتَكَ
আবূ যার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছিনে, হে আবূ যার আমার পরে এমন কিছু আমীর হবে যারা স্বলাতকে মুর্দা বানিয়ে ফেলবে। (অর্থাৎ আফযাল ওয়াক্তে তা আদায় করবে না।) এমতাবাস্থায় তুমি যথা সময়ে স্বলাত আদায় করে নিবে। আর ঐ আমীরের সাথে যে স্বলাত পড়বে তা তোমার জন্য নফল বলে গণ্য হবে। আর তা যদি না হয় তবে তোমার স্বলাতের তুমি হিফাযত করলে।
আযান ও ইক্বামাত এর শব্দ
দলিল নং- ৫৬। সহীহ বুখারী হাদিস নং-৬০৫
عَنْ أَنَسٍ قَالَ أُمِرَ بِلالٌ أَنْ يَشْفَعَ الْأَذَانَ وَأَنْ يُوتِرَ الْإِقَامَةَ إِلاَّ الْإِقَامَةَ
আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাযি.)-কে আযানের শব্দ দু’ দু’বার এবং قَدْقَامَتِ الصَّلاَةُ ব্যতীত ইক্বামাতে শব্দগুলো বেজোড় করে বলার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।
নোটঃ ইক্বামাতের শব্দগুলি একবার করে অথবা দু’বার করে বলার উভয়বিধ অভিমতের বৈধতা ও প্রামাণিকতা স্বীকার করি। কিন্তু যেহেতু ইক্বামাতের শব্দগুলি দু’বার করে বলার নির্দেশ সম্বলিত হাদীস হতে একবার করে বলার নির্দেশ সম্বলিত হাদীস অধিক প্রামাণ্য ও বিশুদ্ধ এবং তা বহু সূত্রে বর্ণিত এমনকি ইমাম বুখারী ও মুসলিম উভয় কর্তৃক গৃহীত, কাজেই আমরা ইক্বামাতের শব্দগুলি একবার করে বলা সর্বোত্তম মনে করি।
ISLAMIC DAWAH FOUNDATION The truth is revealed to Islam