Tuesday , March 10 2026
সর্বশেষ

ইমামদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ন কথা

ইমামদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ন কথা (পাঠ-০২)

(যা না পড়লে বইটি সঠিক ভাবে বুঝা সম্ভব হবে না)

বইটি পড়ার পূর্বে ইমামদের কথাগুলো সম্পর্কে ধারনা নেওয়া উচিত মনে করে কিছু ইমামের কথা আলোচনা করা হলো। যাতে সম্মানিত পাঠক বইটি সম্পর্কে ভুল ধারনা না নেয়।

চার মাজহাব‘,

‘চার ইমাম’ বলতে আমরা সাধারণত বুঝি- চার মতাদর্শের চারজন ব্যক্তি। একজন যদি বলেন- ডানে যাও, তো আরেকজন বলেন- না, বামে যাও। অর্থাৎ, চার ইমাম মানে একে অন্যের সাথে ‘যুদ্ধে’ লিপ্ত থাকা চারজন ব্যক্তি! আসলেই কি তাই? চার ইমাম মানেই কি তারা পরস্পরের শত্রু?

ইমামগণের ব্যক্তিগত জীবনের দিকে তাকালে বরং উল্টো মনে হয়। তারা একে অন্যের শত্রু তো ছিলেন না, তারা বরং একে অন্যের ছাত্র-শিক্ষক বা শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। সবগুলো মাজহাবের ইমামগণ হয় নিজেরা, অথবা তাঁদের ছাত্রদের মাধ্যমে তারা একে অন্যের সাথে কুরআন অ সহীহ সুন্নাহর ভিত্তিতে সম্পর্কযুক্ত ছিলেন।

ইমাম আবু হানিফার (রাহি:) প্রিয় ছাত্র ছিলেন ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে হাসান আশ-শায়বানী (রাহি:)। তিনি একদিকে যেমন ইমাম আবু হানিফার ছাত্র, অন্যদিকে ছিলেন চার ইমামের আরেক ইমাম, ইমাম মালিকের (রাহি:) ছাত্র। ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে হাসান একে তো ছিলেন দুই মাজহাবের দুই ইমামের ছাত্র, অন্যদিকে তিনি ছিলেন স্বয়ং আরেকটা মাজহাবের ইমামের শিক্ষক। ইমাম আশ-শাফে’ঈ (রাহি:) ছিলেন ইমাম আবু হানিফার ছাত্র ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে হাসানের ছাত্র।

চার ইমামের সংক্ষিপ্ত জীবনী

ইমাম আবু হানিফা (রা) নাম নোমান বিন ছাবিত। উপনাম আবু হানিফা। রাসূল (সা) –এর ইন্তেকালের ৭০ বছর পর ৮০ হিজরীতে ইরাকের কুফায় জন্ম গ্রহণ করেন। ১৫০ হিজরীতে ৭০ বছর বয়সে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন। তিনি তর্ক ও ফিকাহ শাস্ত্রে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তিনি উচ্চ মানের একজন পরহেজগার ছিলেন। ইমামের কোন প্রামাণ্য লেখা বর্তমানে নেই।

ইমাম মালিক (রা) নাম মালিক বিন আনাস। রাসূল (সা) এর ইন্তেকালের ৮৩ বছর পর ৯৫ হিজরীতে পবিত্র মাদীনাতে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৭৯ হিজরীতে ৮৬ বছর বয়সে মদীনাতেই ইন্তিকাল করেন। তিনি হাদীস ও ফিকাহ শাস্ত্রে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তিনিই সর্বপ্রথম হাদীসের ইল্লেখযোগ্য কিতাব লিখেছেন। এটি ‘মুয়াত্বা মালিক” নামে প্রসিদ্ধ। এছাড়া আরও বহু কিতাব তিনি লিখেছেন।

ইমাম শাফিয়ী (রা) এর নাম মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস আশ-শাফেয়ী। রাসূল (সা) এর ইন্তেকালের ১৪০ বছর পর ১৫০ হিজরীতে গাযায় জন্ম গ্রহণ করেন। পবিত্র মক্কায় বড় হন এবং জ্ঞান অর্জন করেন। ২০৪ হিজরীতে ৫৪ বছর বয়সে মিশরে ইন্তেকাল করেন। তিনি উচ্চ মানের একজন হাদীস বিশারদ ছিলেন। তিনি মহামূল্যবান বহুগ্রন্থ লিখেছেন। এসবের মধ্যে ‘কিতাবুল উম্ম’ ও ‘আর-রিসালাহ’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

ইমাম আহমদ (রা) নাম আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল। রাসূল (সা)-এর ইন্তেকালের ১৫৪ বছর পর ১৬৪ হিজরীতে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন। ২৪১ হিজরীতে ৭৭ বছর বয়সে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন। তিনি হাদীস জগতে এক উজ্জল নক্ষত্র। হাদীসের এক বিশাল সমুদ্র। তিনি তাঁর সু-প্রসিদ্ধ কিতাব “আল মুসনাদ” এ চল্লিশ হাজার হাদীস মুসলিম বিশ্বকে উপহার দিয়ে গেছেন। এছাড়া আরও বহু গ্রন্থ তিনি লিখেছেন। গ্রন্থ রচনা ও হাদীসের জ্ঞানের ক্ষেত্রে চার ইমামের মধ্যে তিনিই সবার সেরা। বিস্তারিত দেখুন বই- চার ইমামের অবস্থান ।

কুরআনুল কারীম ও সহীহ হাদীস অনুসরণ করাই চার ইমামের মূলনীতি।

এই ব্যাপারে সন্মানিত চার ইমামের বক্তব্য তুলে ধরা হলো

১. ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ) বলেছেন: যখন কোন (বিষয়ে) সহীহ হাদীস পাওয়া যাবে সেই সহীহ হাদীসকে আমার মাযহাব বলে জানবে।

তিনি আরও বলেছেন: আমি যদি এমন কথা বলি যা আল্লাহ তায়ালার কিতাব এবং রসূল (সঃ) –এর হাদীসের বিপরীত, তাহলে আমার  কথাকে বর্জন কর (এবং কোরআন-হাদীসকে আঁকড়ে ধর)

তিনি আরও বলেছেন: সাবধান! তোমরা আল্লাহর দ্বীনে নিজেদের মনগড়া মতামত প্রয়োগ করা হতে বিরত থাক। সকল অবস্থায়ই সুন্নাহর অনুসরণ কর। যে ব্যক্তি সুন্নাহ হতে বের হবে সে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে।

২. ইমাম মালিক (রা) বলেছেন: আমি একজন মানুষ মাত্র। চিন্তা গবেষণায় ভুলও হয় আবার সঠিকও হয়। সুতরাং আমার যে অভিমত কুরআন ও সুন্নাহর পক্ষে পাও তা গ্রহণ কর। আর যা পক্ষে নেই তা বর্জন কর।

৩. ইমাম শাফিয়ী (র) বলেছেন: তোমাদের কারো কাছ থেকে যেন রাসূলুল্লাহ (সা) এর সুন্নাহ ছুটে না যায়। আমি যা কিছুই বলে থাকি তা যদি রসূল (সা) এর হাদীসের বিপরীত হয় তাহলে রসূল (সা) এর কথাই আমার কথা।

৪. ইমাম আহমদ (র) বলেছেন: ইমাম আওযাঈ এর অভিমত, ইমাম মালিক এর অভিমত এবং ইমাম আবু হানিফার অভিমত সবই আমার কাছে অভিমত হিসাবে সমান অর্থাৎ একটাও শরীয়তের দলীল হতে পারে না। সাহাবীদের কথা শরীয়তের দলীল হবে।

ইমাম আহমদ (রা) আরও বলেছেন: যে ব্যক্তি রসূল (সাঃ) এর হাদীসকে প্রত্যাখ্যান করে সে ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

নোটঃ সন্মানিত ইমামগণের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার বুঝা যায় যে, তাঁদের ভুল ইজতেহাদ এবং দুর্বল দলিলের বিপরীতে সহীহ হাদীস পাওয়া গেলে তাঁদের কথা বর্জন করে সহীহ হাদীস অনুযায়ী আমল করতে হবে।

সকল মুসলিমের মাযহাব মূলত: একটাই

মাযহাবের শাব্দিক অর্থ মত বা পথ। সে মত বা পথের নাম হলো ইসলাম। মুসলিম জাতির মাযহাবের ইমাম হলেন রসুল (সাঃ), যে মাযহাবের অনুসারী ছিলেন সমস্ত সাহাবায়ে কিরাম, তাবেয়ী ও তাবে তাবেয়ীগন। সম্মানিত ইমামগণের বক্তব্য থেকে এ কথাও ফুটে উঠেছে যে, চার ইমামের প্রকৃত মাযহাব মূলত: একটাই। আর তা হলো, পবিত্র কুরআন এবং সহীহ হাদীস অনুসরণ করা। এটাই রসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কিরামের মাযহাব। এই মাযহাবের নাম হলো ইসলাম আর অনুসারীর নাম মুসলিম। যে পথ বা মত সম্পর্কে রসুল (সাঃ) বলেন-

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَخَطَّ خَطًّا وَخَطَّ خَطَّيْنِ عَنْ يَمِينِهِ وَخَطَّ خَطَّيْنِ عَنْ يَسَارِهِ ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ فِي الْخَطِّ الأَوْسَطِ فَقَالَ ‏”‏ هَذَا سَبِيلُ اللَّهِ ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ تَلاَ هَذِهِ الآيَةَ (وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلاَ تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত থাকা অবস্থায় তিনি একটি সরল রেখা টানলেন এবং তাঁর ডান দিকে দুটি সরল রেখা টানলেন এবং বাম দিকেও দুটি সরল রেখা টানলেন। অতঃপর তিনি মধ্যবর্তী রেখার উপর তাঁর হাত রেখে বলেনঃ এটা আল্লাহ্‌র রাস্তা। অতঃপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করেন (অনুবাদ) এবং এ পথই আমার সরল পথ। অতএব তোমরা এ পথেরই অনুসরণ করো এবং বিভিন্ন পথ অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। (ইবনু মাজাহ, হাদিস নং-১১)

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَ اعۡتَصِمُوۡا بِحَبۡلِ اللّٰهِ جَمِیۡعًا وَّ لَا تَفَرَّقُوۡا ۪

তোমরা সকলে আল্লাহর রশি (ধর্ম বা কুরআন) কে শক্ত করে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। (সুরাহ- আল ইমরান, আয়াত-১০৩)

আল্লাহ আরো বলেন-

مِنَ الَّذِیۡنَ فَرَّقُوۡا دِیۡنَهُمۡ وَ كَانُوۡا شِیَعًا ؕ كُلُّ حِزۡبٍۭ بِمَا لَدَیۡهِمۡ فَرِحُوۡنَ

যারা নিজেদের দ্বীনকে বিভক্ত করেছে এবং বিভিন্ন দলে পরিণত হয়েছে।(১) প্ৰত্যেক দলই যা তাদের কাছে আছে তা নিয়ে আনন্দিত (সুরা রুম, আয়াত-৩২)

এই মাযহাবের ইমামে আজম হলেন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এই মাযহাবের প্রথম কাতারের অনুসারী হলেন সাহাবায়ে কেরাম। দ্বীতীয কাতারের অনুসারী হলেন তাবেয়ীগণ। আর তৃতীয় কাতারের অনুসারী তাবে তাবেইয়ীগণ এবং মুজতাহিদ সকল ইমাম। এভাবে প্রত্যেক যুগের খাঁটি মুমিম-মুসলিমগণ এই জামাতে শরীক হয়েছেন। আমরাও এই জামাতের অনুসারী। কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ দুনিয়াতে আসবে, মুক্তি পেতে হলে এই জামাতেই শরীক হতে হবে।

প্রচলিত চার মাযহাব মানা কি ফরজ?

মাযহাব আরবী শব্দ। মাযহাব অর্থ চলার পথ, ধর্মমত এবং বিশ্বাস।  বিশ্ব মুসলিমের চলার পথ, ধর্মমত এবং বিশ্বাস এক-অভিন্ন। কারণ, বিশ্ব মুসলিমের আল্লাহ এক, কুরআন এক, রাসূল এক, কিবলা এক, দ্বীন এক। সুতরার মুসলিমরা চার মাযহাবের নামে চার দলে বিভক্ত হবে কেন?

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:

 وَ اعۡتَصِمُوۡا بِحَبۡلِ اللّٰهِ جَمِیۡعًا وَّ لَا تَفَرَّقُوۡا

তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে ধারণ করো এবং তোমরা দলে দলে বিভক্ত হয়ে যেও না। (সুরা আল ইমরান আয়াত-১০৩)

 আল্লাহ আরো বলেন-

اِنَّ الَّذِیۡنَ فَرَّقُوۡا دِیۡنَهُمۡ وَ كَانُوۡا شِیَعًا لَّسۡتَ مِنۡهُمۡ فِیۡ شَیۡءٍ ؕ اِنَّمَاۤ اَمۡرُهُمۡ اِلَی اللّٰهِ ثُمَّ یُنَبِّئُهُمۡ بِمَا كَانُوۡا یَفۡعَلُوۡنَ

যারা নিজেদের ধর্মকে ভাগ ভাগ করে পৃথক পৃথক দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে (হে রাসূল) আপনার কোনো সম্পর্ক নেই তাদের সাথে। তাদের বিষয় আল্লাহর হাতে। তিনি তাদেরকে (এর কুফল) জানিয়ে দিবেন। (সুরা আনআম আয়াত-১৫৯)  

উল্লেখিত আয়াতদ্বয় থেকে পরিকষ্কার বুঝা যায় যে, সিরাতে মুস্তাকিম-সোজা পথ একটাই। সকলকে এক পথেই চলতে বলা হয়েছে। দলে দলে বিভক্ত হতে নিষেধ করা হয়েছে।

সকল মুসলিম উম্মাহর মতামত যদি কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর বিপরীত হয় তাহলে এই মতামত গ্রহণযোগ্য হবেনা। কারন আল্লাহ বলেছেন-

اَلۡیَوۡمَ اَكۡمَلۡتُ لَكُمۡ دِیۡنَكُمۡ وَ اَتۡمَمۡتُ عَلَیۡكُمۡ نِعۡمَتِیۡ وَ رَضِیۡتُ لَكُمُ الۡاِسۡلَامَ دِیۡنًا ؕ

আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম(১৪), আর তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম (সুরা আল মায়েদা, আয়াত-০৩)

সম্মানিত পাঠক উপরে উল্লেখিত আয়াতগুলো থেকে পরিস্কার বুঝা গেল ইসলামে বিভিন্ন দলে বিভাক্ত হওয়া নিষিদ্ধ। মাযহাব বা কোন ইমামের অনুসরণ করা যাবেনা। অনুসরণ করতে হবে একমাত্র কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর ।

সম্মানিত পাঠক রসুল (সাঃ) এর ইন্তিকালের প্রায় ৪০০ বছর পরে মাযহাবের সৃষ্টি করা হয়েছে যা আমাদের অনুসরন করা ফরয বলা গুমরাহী। আর এই মাযহাব নামে কোন কিছু ইমামরাও তৈরি করে যায়নি।  

চার মায়হাব রাসূল (সাঃ) এর সুন্নাতও নয় এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতও নয়

সুনানে তিরমিযি২৬৭৬ (হাদিসের মান সহিহ)

أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ عَبْدٌ حَبَشِيٌّ فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ يَرَى اخْتِلاَفًا كَثِيرًا وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ فَإِنَّهَا ضَلاَلَةٌ فَمَنْ أَدْرَكَ ذَلِكَ مِنْكُمْ فَعَلَيْهِ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ ‏”‏

তিনি বললেন, তোমাদের আমি আল্লাহকে ভয় করার অসিয়্যাত করছি। যদি হাবশী গোলমও আমীর নিযুক্ত হয় তবুও তার প্রতি অনুগত থাকবে, তার নির্দেশ শুনবে। তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে তারা বহু বিরোধ প্রত্যক্ষ করবে। তোমরা সাবধান থাকবে নতুন নতুন বিষয়ে লিপ্ত হওয়া থেকে। কারণ তা হল গুমরাহী। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ঐ যুগ পাবে তার কর্তব্য হল আমার সুন্নাত এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতের উপর অবিচল থাকা। এগুলো তোমরা চোয়ালের দাঁত দিয়ে আঁকড়ে ধরে রাখবে।

প্রচলিত চার মাযহাব রাসূল (সা) এর সুন্নাতও নয়, খলিফা আবুবকর, উমর, উসমান এবং আলী (রা)-এর সুন্নাতও নয়। বরং তাঁদের অনেক পরে এসব নতুন আবিষ্কার করা হয়েছে। রসূল (সাঃ) বলেছেন: বনি ইসরাঈল ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছে। আর আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। একটি ছাড়া সবই জাহান্নামে প্রবেশ করবে। জিজ্ঞাসা করা হলো ঐ নাজাত প্রাপ্তদল কারা? রাসূল (সা) বললেন, যারা ঐ পথে থাকবে যে পথে আমি ও আমার সাহাবাগণ রয়েছি। উল্লেখিত হাদীস থেকে পরিষ্কার বুঝা যায় যে, মুক্তি পেতে হলে সে পথেই চলতে হবে যে পথে রাসূল (সা) এবং সাহাবীগণ ছিলেন। এবার প্রশ্ন হলো, আমরা কি সেপথে আছি, যে পথে তাঁরা ছিলেন? তাঁরা কি চার মাযহাবের নামে চার দলে বিভক্ত ছিলেন? “চার মাযহাবের যে কোন এক মাযহাব মানতেই হবে- মাযহাব মানা ফরজ”- এমন আক্বীদা-বিশ্বাস কি তাঁদের ছিল? কুরআন-হাদীসের কোনো স্থানে চার মাযহাব মানা ফরজ বা ওয়াজিব এমন কথা লেখা নেই। এমন কি, কুরআন-হাদীসের কোথাও চার ইমামের অথবা চার মাযহাবের নামটুকুও উল্লেখ নেই। সর্বোপরি, সম্মানিত ঈমামগণ প্রচলিত চার মাযহাব চালুও করেননি। আর তা মেনে চলা ফরজ বা ওয়াজিব এমন কথা ঘোষনাও করেননি। তাঁরা রাসূল (সা) এবং সাহাবায়ে কেরামের আলোকিত সহীহ পথের পথিক ছিলেন। তাঁদের ইন্তে-কালের বহু বছর পর প্রচলিত চার মাযহাব আবিষ্কার করা হয়েছে। সুতরাং কোনো দিক থেকেই প্রচলিত মাযহাব মানা ওয়াজিব বা ফরজ নয়।

বর্তমানে কুরআনের সঠিক তরজমা, নির্ভরযোগ্য তাফসীর এবং হাদীসের বিশাল ভান্ডার রয়েছে। সহীহ হাদীস থেকে জঈফ ও জাল বর্ণনা পৃথক করা আছে। মাযহাবের যে সব মাসআলা পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসের সাথে মিলে তা মানতে হবে। আর যা মিলে না তা বর্জন করতে হবে। ভুল কিয়াস এবং জঈফ ও জাল দলিল ভিত্তিক যে সব মাসআলা মাযহাবে আছে তা মানা ফরজ নয়। বরং তা বর্জন করে কুরআন-হাদীস মোতাবেক আমল করা ফরজ। এটাই আমাদের মূল বক্তব্য। আর এটাই সম্মানিত চার ইমামের প্রকৃত মাযহাব। আমরা তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ ও শ্রদ্ধাশীল। তাই আসুন দলে উপদলে বিভক্ত না হয়ে কুরআন এবং সহীহ হাদীসকে আকড়িয়ে ধরি।

দলিল ভিত্তিক ইবাদাত ও জীবনপথ বইয়ের পূর্বের পাঠ পেতে ক্লিক করুন

About Md Nazmul Azam

I am website developer.

Check Also

সুরা আল ইমরান আয়াত ১০২ এর তাফসীর, ঈমান ও মুত্তাকী সম্পর্কে আলোচনা (নাজমুল আযম শামীম)

Premium WordPress Themes DownloadDownload WordPress Themes FreeDownload WordPress ThemesDownload Best WordPress Themes Free Downloaddownload udemy …

দ্বীন প্রতিষ্ঠা (নাজমুল আযম শামীম)

Premium WordPress Themes DownloadDownload Nulled WordPress ThemesDownload Best WordPress Themes Free DownloadFree Download WordPress Themesfree …

সুরা বাকারা এর ১৭৭ নং আয়াতের দারস (তাফসির)

সুরা বাকারা এর ১৭৭ নং আয়াতের দারস (তাফসির)  لَیۡسَ الۡبِرَّ اَنۡ تُوَلُّوۡا وُجُوۡهَكُمۡ قِبَلَ الۡمَشۡرِقِ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *