দ্বিতীয় অধ্যায়
ত্বহারাত বা পবিত্রতা
(অযু)
ত্বহারাত শব্দের অর্থ পবিত্রতা। স্বলাত আদায়ের পূর্বশর্ত হলো পবিত্রতা অর্জন করে নিতে হবে অযু বা গোসল করার মাধ্যমে।
দলিল নং- ২৫। সূরা আল-মায়িদাহ্ আয়াত নং- ০৬
إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاَةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ
ওহে যারা ঈমান এনেছ!) তোমরা যখন সালাতের জন্য দাঁড়াতে চাও তখন ধৌত করে নিবে নিজেদের মুখমন্ডল এবং হাত কনুই পর্যন্ত আর মাসেহ করে নিবে নিজেদের মস্তক এবং ধৌত করে নিবে নিজেদের পা গ্রন্থি পর্যন্ত।
অযুর ফরয
ওযুর ফরয সম্পর্কে সূরা আল-মায়িদাহ্ আয়াত নং- ০৬
إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاَةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ
ওহে যারা ঈমান এনেছ!) তোমরা যখন সালাতের জন্য দাঁড়াতে চাও তখন ধৌত করে নিবে নিজেদের মুখমন্ডল এবং হাত কনুই পর্যন্ত আর মাসেহ করে নিবে নিজেদের মস্তক এবং ধৌত করে নিবে নিজেদের পা গ্রন্থি পর্যন্ত।
উক্ত আয়াতের মাধ্যমে জানা যায় অযুর ফরয ৪টি
১. মুখমণ্ডল ধৌত করা,
২. দুই হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করা,
৩. মাথা মাসেহ করা,
৪. দুই পা গিরাসহ ধৌত করা।
কোন কোন ফকীহর মতে, নিম্নবর্ণিত ২টি কাজসহ ওযুর ফরয মোট ৬টি
ইমাম মালেক (র.) এর মতে অযুর ফরয ০৬ টি
৫. ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। অর্থাৎ ওযূর অঙ্গ ধৌত করার সময় ক্রমধারা ভঙ্গ না করা। আরবীতে এ সিরিয়ালকে বলা হয় তারতীব ;
৬. এক অঙ্গ শুকিয়ে যাওয়ার পূর্বেই পরবর্তী অঙ্গ ধৌত করা। এটাকে আরবীতে বলা হয় মুওয়ালাহ।
ওযু করার নিয়ম
দলিল নং- ২৬। সহীহ মুসলিম, হাদিস নং- ২২৬
عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ – رضى الله عنه – دَعَا بِوَضُوءٍ فَتَوَضَّأَ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ مَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ غَسَلَ يَدَهُ الْيُمْنَى إِلَى الْمِرْفَقِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ غَسَلَ يَدَهُ الْيُسْرَى مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَهُ الْيُمْنَى إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ غَسَلَ الْيُسْرَى مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم “ مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ قَامَ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ لاَ يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ”
উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ওযুর পানি চাইলেন। এরপর তিনি অযু করতে আরম্ভ করলেন। (বর্ণনাকারী বলেন), তিনি উসমান (রাযিঃ) তিনবার তার হাতের কজি পর্যন্ত ধুলেন, এরপর কুলি করলেন এবং নাক ঝাড়লেন। এরপর তিনবার তার মুখমণ্ডল ধুলেন এবং ডান হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন। অতঃপর বাম হাত অনুরূপভাবে ধুলেন। অতঃপর তিনি মাথা মাসাহ করলেন। এরপর তার ডান পা টাখনু পর্যন্ত তিনবার ধুলেন- অতঃপর তদ্রুপভাবে বাম পা ধুলেন তারপর বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমার এ অয়ূর করার ন্যায় অযু করতে দেখেছি এবং অযু শেষে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার এ অযুর ন্যায় অযু করবে এবং একান্ত মনোযোগের সাথে দু’ রাকাআত সালাত আদায় করবে, সে ব্যক্তির পিছনের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
অযূ ভঙ্গের কারন
ওজু ভঙ্গের কারণসমূহ নিম্নরূপ:
১। দুই রাস্তা দিয়ে কোন কিছু বের হওয়া (যেমন- পেশাব, পায়খানা, বায়ু, বীর্য, মযি ও ওদি বীযর্পাত, মাসিক ঋতু ও প্রসূতি অবস্থার রক্ত ইত্যাদি)।
২। বিবেক-বুদ্ধি হারিয়ে ফেলা। সেটা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে হোক; যেটা হচ্ছে পাগলামি। কিংবা বিশেষ কারণের পরিপ্রেক্ষিতে (যেমন- ঘুম, বেহুশ হয়ে যাওয়া, মাতাল হওয়া ইত্যাদি) নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিবেক-বুদ্ধি বিকল হয়ে থাকুক।
৩। উটের গোশত খাওয়া। দলিল হচ্ছে
দলিল নং- ২৭। সহীহ মুসলিম, হাদিস নং- ৩৬০
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَأَتَوَضَّأُ مِنْ لُحُومِ الْغَنَمِ قَالَ ” إِنْ شِئْتَ فَتَوَضَّأْ وَإِنْ شِئْتَ فَلاَ تَوَضَّأْ ” . قَالَ أَتَوَضَّأُ مِنْ لُحُومِ الإِبِلِ قَالَ ” نَعَمْ فَتَوَضَّأْ مِنْ لُحُومِ الإِبِلِ ”
জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক লোক রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, আমি কি বকরীর মাংস খেয়ে ওযু করব? তিনি বললেন, তোমার ইচ্ছা ওযু করতে পার আর নাও করতে পার। সে বলল, আমি কি উটের মাংস খেয়ে ওযু করব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, উটের মাংস খেয়ে তুমি ওযু করবে।
৪। ইসলাম হতে মুরদাত তথা দ্বীন ত্যাগ করে কাফের হলে।
এখানে উল্লেখ্য,
কোন নারীর শরীরের ছোঁয়া লাগলেই অজু ভেঙ্গে যাবে না; সেটা উত্তেজনাসহ হোক কিংবা উত্তেজনা ছাড়া হোক; যতক্ষণ পর্যন্ত না এ ছোঁয়ার কারণে কোন কিছু বের না হয়।
রক্ত বের হয়ে গড়িয়ে পড়লে অযু করা সম্পর্কে। আবদুর রহমান ইবন মুজাব্বার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি সালিম ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ)-কে দেখিয়াছেন, তাহার নাক হইতে রক্ত প্রবাহিত হইতেছে, এমনকি (সেই রক্তে) তাহার আঙুলসমূহ রঞ্জিত হইয়া গিয়াছে। অতঃপর তিনি নাক মোচড়াইলেন, তারপর স্বলাত পড়িলেন, অথচ অযু করিলেন না।”[মুয়াত্তা মালেক, হাদিস নং- ৮০]
নামাযে অট্র হাসিতে অযু ভাঙ্গবে এই মর্মে সহীহ সনদে হাদিস পাওয়া যায় না।
মুখ ভরে বমি করলে অযু করা নিয়ে ইমামদের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। অযু ভঙ্গ না হওয়ার মতটি বিশুদ্ধ
উযূ সহ রাতে ঘুমাবার ফযীলত
দলিল নং- ২৮। সহীহ বুখারী হাদিস নং- ২৪৭
عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم ” إِذَا أَتَيْتَ مَضْجَعَكَ فَتَوَضَّأْ وُضُوءَكَ لِلصَّلاَةِ، ثُمَّ اضْطَجِعْ عَلَى شِقِّكَ الأَيْمَنِ، ثُمَّ قُلِ اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ، اللَّهُمَّ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ. فَإِنْ مُتَّ مِنْ لَيْلَتِكَ فَأَنْتَ عَلَى الْفِطْرَةِ، وَاجْعَلْهُنَّ آخِرَ مَا تَتَكَلَّمُ بِهِ ”.
বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তুমি বিছানায় যাবে তখন সালাতের অযূর মতো অযূ করে নেবে। তারপর ডান পাশে শুয়ে বলবেঃ
‘‘হে আল্লাহ! আমার জীবন আপনার নিকট সমর্পণ করলাম। আমার সকল কাজ তোমার নিকট অর্পণ করলাম এবং আমি তোমার আশ্রয় গ্রহণ করলাম তোমার প্রতি আগ্রহ ও ভয় নিয়ে। তুমি ব্যতীত প্রকৃত কোন আশ্রয়স্থল ও পরিত্রাণের স্থান নেই। হে আল্লাহ! আমি ঈমান আনলাম তোমার অবতীর্ণ কিতাবের উপর এবং তোমার প্রেরিত নবীর প্রতি।’’
অতঃপর যদি সে রাতেই তোমার মৃত্যু হয় তবে ইসলামের উপর তোমার মৃত্যু হবে। এ কথাগুলো তোমার সর্বশেষ কথায় পরিণত কর।
দোয়াটি হলোঃ
اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ، اللَّهُمَّ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ.
‘‘হে আল্লাহ! আমার জীবন আপনার নিকট সমর্পণ করলাম। আমার সকল কাজ তোমার নিকট অর্পণ করলাম এবং আমি তোমার আশ্রয় গ্রহণ করলাম তোমার প্রতি আগ্রহ ও ভয় নিয়ে। তুমি ব্যতীত প্রকৃত কোন আশ্রয়স্থল ও পরিত্রাণের স্থান নেই। হে আল্লাহ! আমি ঈমান আনলাম তোমার অবতীর্ণ কিতাবের উপর এবং তোমার প্রেরিত নাবীর প্রতি।’’
পায়খানায় যাওয়ার সময় দোয়া
দলিল নং- ২৯। সহীহ বুখারী হাদিস নং- ১৪২
كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ الْخَلاَءَ قَالَ “ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রকৃতির ডাকে শৌচাগারে যেতেন তখন বলতেন, “আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিনাল খুবুছি ওয়াল খাবায়িছ” ’’হে আল্লাহ্! আমি মন্দ কাজ ও শয়তান থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি।’’
দোয়াটি হলোঃ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
’’হে আল্লাহ্! আমি মন্দ কাজ ও শয়তান থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি।’’
পেশাব পায়খানা করার সময় কিবলামুখী না হওয়া
দলিল নং- ৩০। সহীহ বুখারী হাদিস নং- ১৪৪
عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم “ إِذَا أَتَى أَحَدُكُمُ الْغَائِطَ فَلاَ يَسْتَقْبِلِ الْقِبْلَةَ وَلاَ يُوَلِّهَا ظَهْرَهُ
আবূ আইয়ুব আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন শৌচাগারে যায়, তখন সে যেন কিবলার দিকে মুখ না করে এবং তার দিকে পিঠও না করে
পানি দ্বারা শৌচ কাজ করা
দলিল নং- ৩১। সহীহ বুখারী হাদিস নং- ১৫০
أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِذَا خَرَجَ لِحَاجَتِهِ أَجِيءُ أَنَا وَغُلاَمٌ مَعَنَا إِدَاوَةٌ مِنْ مَاءٍ. يَعْنِي يَسْتَنْجِي بِهِ
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বের হতেন তখন আমি ও অপর একটি ছেলে পানির পাত্র নিয়ে আসতাম। অর্থাৎ তিনি তা দিয়ে শৌচকার্য সারতেন।
পাথর বা মাটি দ্বারা শৌচ কাজ করা
দলিল নং- ৩২। সহীহ বুখারী হাদিস নং- ১৫৫
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ اتَّبَعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَخَرَجَ لِحَاجَتِهِ، فَكَانَ لاَ يَلْتَفِتُ فَدَنَوْتُ مِنْهُ فَقَالَ “ ابْغِنِي أَحْجَارًا أَسْتَنْفِضْ بِهَا ـ أَوْ نَحْوَهُ ـ وَلاَ تَأْتِنِي بِعَظْمٍ وَلاَ رَوْثٍ ”. فَأَتَيْتُهُ بِأَحْجَارٍ بِطَرَفِ ثِيَابِي فَوَضَعْتُهَا إِلَى جَنْبِهِ وَأَعْرَضْتُ عَنْهُ، فَلَمَّا قَضَى أَتْبَعَهُ بِهِنَّ
আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বের হলে আমি তাঁর অনুসরণ করলাম। আর তিনি এদিক-ওদিক চাইতেন না। যখন আমি তাঁর নিকটবর্তী হলাম তখন তিনি আমাকে বললেনঃ ‘আমাকে কিছু পাথর কুড়িয়ে দাও, আমি তা দিয়ে শৌচকার্য সারব’ (বর্ণনাকারী বলেন), বা এ ধরনের কোন কথা বললেন, আর আমার জন্য হাড্ডি বা গোবর আনবে না।’ তখন আমি আমার কাপড়ের কোচায় করে কয়েকটি পাথর এনে তাঁর পাশে রেখে আমি তাঁর নিকট হতে সরে গেলাম। তিনি প্রয়োজন মিটিয়ে সেগুলো কাজে লাগালেন।
নোটঃ রাসুল (ﷺ) পবিত্রতা অর্জনের জন্য কিছু সময় মাটির ঢেলা ব্যবহার করেছেন, কোন কোন সময় তিনি কেবল পানিই ব্যবহার করেছেন। ঢেলার থেকে পানি ব্যবহারে অধিক পবিত্রতা আছে। কুবাবাসীগণ পবিত্রতায় পানি ব্যবহার করতেন বলে মহান আল্লাহ কুরআন অবতীর্ণ করে তাঁদের প্রশংসা করেছেন। সুরা তওবা আয়াত-১০৮
পক্ষান্তরে রাসুল (ﷺ) অথবা কুবাবাসীগণ এক সাথে ঢিল ও পানি ব্যবহার করেছেন বলে কোন সহীহ হাদীস নেই। অবশ্য মাটির ঢেলা না পাওয়া গেলে পাথর, টিসু ইত্যাদি দ্বারাও পেশাব-পায়খানা পরিষ্কার করা যায়। তবে পশুর হাড় ও (শুষ্ক) গোবর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা নিষিদ্ধ। কারণ তাতে পবিত্রকরণের বৈশিষ্ট্য নেই অথবা তা জিন জাতির খাদ্য। তদনুরূপ মানুষের খাদ্যকেও পেশাব-পায়খানা পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহার করা যাবে না। ব্যবহার করা যাবে না কোন এমন কাগজকে, যাতে কোন তা’যীমযোগ্য কথা লিখা আছে।
ISLAMIC DAWAH FOUNDATION The truth is revealed to Islam