Monday , March 9 2026
সর্বশেষ

রাসুল স: এর সুরাত

রাসুল স: এর জীবনী
রাসুল স: এর জীবনী দুই ভাগে বিভাক্ত
১। সুরাতে রাসুল স:
২। সিরাতে রাসুল স:

প্রথমে রাসুল স: এর সুরাত সম্পর্কে আলোচনা করবো।

সুরাতে রাসুল স: যা কারো পক্ষে ধারণ করা সম্ভব না। শামায়েলে তিরমিজির হাদিস পড়লে রাসুল স: সুরাত সম্পর্কে জানা যায়।

দৈহিক গঠন-
রাসুল স: অধিক লম্বা ছিলেন না এবং খাটো ছিলেন না। তিনি ছিলেন মধ্যম গড়নের। তিনি সুষম দেহের অধিকারী ছিলেন। বেশি মোটাও না এবং চিকন ছিলেন না।

গায়ের রং-
তিনি ধবধবে সাদা ছিলেন না এবং পিঙ্গল বর্নের ছিলেন না। তার রঙ সাদার ভিতরে লাল আভা শোভা পেত। এক কথায় লাবন্যময়। মনে হতো যেন তাকে রুপা দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। তার যে অংঙ্গ কাপড় দ্বারা ঢাকা ছিল তা শুভ উজ্জ্বল ছিল আর বাকি অঙ্গ রোদ বাতাসের কারনে রক্তিম বর্ন ছিল।

মাথা: মাথা সাধারনের তুলনায় কিছুটা বড় ছিল।

চুলের বর্ননা –
তার চুল অধিক কোকড়ানোও ছিলনা এবং একেবারে সোজাও ছিলনা। হালকা কোকড়ানো ছিল। তার কাধ পর্যন্ত ঝুলানো বাবরি চুল ছিল। তিনি চুলের মাঝ বরাবর সিথি কাটেছেন এবং চুলে তিনি যায়তুন তেল ব্যবহার করতেন। চুলের সিথির মধ্যে আতর ব্যবহার করতেন। তার মাথা ও দাড়িতে মৃত্যু পর্যন্ত ২০টির বেশি চুল পাকা ছিলনা।

চেহারা:
তিনি প্রশস্ত ও কিছুটা গোলাকার চেহারার অধিকারী ছিলেন। মুচকি হাসলে তাকে অধিক সুন্দর লাগতো।

কপাল:
রাসুল স: এর কপাল ছিল উন্নত ও প্রশস্ত।

চোখ:
তার চক্ষুদ্বয় ডাগর ডাগর ছিল। চোখের ভ্রু কালো ছিল। ভ্রুদ্বয়ের মাঝে ফাকা ছিল। চোখের সাদা অংশ অধিক সাদা কালো অংশ অধিক কালো ছিল যা অতুলনীয়। চোখের উপরে কালো কালো চিকন চিকন পাপড়ি ছিল। চোখে তিনি ইসমিদ সুরমা ব্যবহার করতেন।

নাক :
রাসুল (সা.)-এর নাক ছিল অতীব সুন্দর ও উঁচু।

ঠোঁট :
তার দুটি হালকা গোলাপি রঙের ঠোঁট ছিল।

দাঁত :
অতীব সুন্দর রজতশুভ্র দাঁত ছিল রাসুল (সা.)-এর। যা পরস্পর একেবারে মিলিত ছিল না, বরং সামান্য ফাঁকা ফাঁকা ছিল। হাসির সময় তাঁর দাঁত মুক্তার মতো চমকাত।

কাধ:
তার উভয় কাধের মাঝখান কিছুটা প্রশস্ত ছিল। দুই কাধের মধ্যস্থলে বা বাম কাধের কাছাকাছি মোহরে নবুওয়তের মাংসপিণ্ড ছিল যা হাজালা পাখি বা কবুতরের ডিমের মত। মোহরে নবুওয়তে কিছু তিলক ছিল।

হাত:
হাতের তালু ও আংগুলসমূহ মাংসল ছিল। আংগুলের অগ্রভাগ মোটা ছিল এবং আংগুলগুলো ছোট ছিলনা যা পুরুষের ক্ষেত্রে প্রশংসনীয়। হাতের তালু অধিক নরম ছিল। তিনি ডান হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলে একটি রুপার আংটি পড়তেন যা দিয়ে তিনি চিঠিতে সিল মোহর করতেন।

পিঠ:
পিঠের উপরিভাগ প্রশস্ত ছিল। সিনা মুবারকও প্রশস্ত ছিল। যা আভিজাত্যের প্রতীক।

বুক:
রাসুলের (সা.) বক্ষ ছিল কিছুটা উঁচু ও বীর বাহাদুরের মতো প্রশস্ত। বুক থেকে নাভি পর্যন্ত পশমের একটা চিকন রেখা প্রলম্বিত ছিল।

পেট : রাসুলের (সা.) পেট মোটা কিংবা ভুঁড়ি ছিল না। সুন্দর সমান ছিল।

পা:
পায়ের তালু ও আংগুলসমূহ মাংসল ছিল। আংগুলের অগ্রভাগ মোটা ছিল এবং আংগুলগুলো ছোট ছিলনা যা পুরুষের ক্ষেত্রে প্রশংসনীয়। তিনি পায়ে দুই ফিতা বিশিষ্ট জুতা পড়তেন যার এক ফিতা বৃদ্ধাঙ্গুল ও তার সাথের আংগুলের মাঝে রাখতেন অন্য ফিতা মধ্যমা আংগুল ও তার সাথের আংগুলের মাঝে রাখতেন। উভয় ফিতা পায়ের সামনে একত্র হতো।

চলাফেরা :
হাটার সময় তিনি সামনের দিকে কিছুটা ঝুকে চলতেন। মনে হতো তিনি উচু জায়গা থেকে নিচে নামছেন। তিনি স্বাভাবিক গতিতে হাটতেন। তিনি মাঝেমধ্যে উভয় রানকে পেটের সাথে লাগিয়ে হাত দিয়ে পা জড়িয়ে ধরে নিতম্বের উপর বসতেন

কন্ঠ ও কথাবার্তা:
তার কন্ঠস্বর মায়াবী ছিল, তিনি দ্রুতগতিতে কথা বলতেন না, ধীরে সুস্থে স্পষ্ট করে কথা বলতেন। শ্রবণকারী সহজে বুঝতে পারতো। তিনি গুরুত্বপূর্ণ কথা তিনবার পুনরাবৃত্তি করতেন। তিনি সাহাবিদের সাথে মাঝেমধ্যে রসিকতা করতেন

পোষাক:
লাল ডোরাকাটা চাদরে তাকে চাদের চেয়ে অধিক সুন্দর লাগতো। তার পছন্দের পোষাক ছিল কামিস ও লুঙ্গি। তিনি সাদা রঙের পোশাক অধিক পছন্দ করতেন। তিনি মাথার সাথে লেগে থাকে এমন সাদা টুপি ও পাগড়ি পরতেন।

প্রিয় খাবার:
তিনি খেজুর, রুটি, মুরগির মাংস, বকরির রানের মাংস, লাউ, সিরকা, নাবিজ, মধু,দুধ, শসা, তরমুজ খেতে ভালোবাসতেন।

পরবর্তীতে সিরাতে রাসুল স: সম্পর্কে আলোচনা করা হবে, ইনশাআল্লাহ

About Md Nazmul Azam

I am website developer.

Check Also

সুরা আল ইমরান আয়াত ১০২ এর তাফসীর, ঈমান ও মুত্তাকী সম্পর্কে আলোচনা (নাজমুল আযম শামীম)

Premium WordPress Themes DownloadPremium WordPress Themes DownloadDownload WordPress Themes FreeDownload Nulled WordPress Themesudemy course download …

দ্বীন প্রতিষ্ঠা (নাজমুল আযম শামীম)

Download Premium WordPress Themes FreeDownload WordPress Themes FreeDownload Premium WordPress Themes FreeDownload Nulled WordPress ThemesZG93bmxvYWQgbHluZGEgY291cnNlIGZyZWU=download …

সুরা বাকারা এর ১৭৭ নং আয়াতের দারস (তাফসির)

সুরা বাকারা এর ১৭৭ নং আয়াতের দারস (তাফসির)  لَیۡسَ الۡبِرَّ اَنۡ تُوَلُّوۡا وُجُوۡهَكُمۡ قِبَلَ الۡمَشۡرِقِ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *